ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজে পেতে মাঠে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
- আপডেট সময় : ১২:০০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ৭২ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের আকাশে ভূপাতিত এক মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং তার নিখোঁজ পাইলটকে ঘিরে শুরু হওয়া জটিল উদ্ধার অভিযান। নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দেশই একই লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী।
ইতোমধ্যে একজন ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করার দাবি করা হয়েছে, তবে অন্যজন এখনও নিখোঁজ। এই পরিস্থিতি পুরো ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনীও একই এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এমনকি তারা পারস্য উপসাগরের ওপর আরও একটি মার্কিন এ-১০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছে, যদিও এই দাবি নিয়ে এখনো আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উদ্ধার অভিযানের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি হেলিকপ্টার ছোট অস্ত্রের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন।
তবুও সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। একই সময়ে, এ-১০ যুদ্ধবিমানের পাইলট আক্রমণের মুখে জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে এসে পরে উদ্ধার হন।
বিবিসি যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের কারুন নদীর ওপর একটি সেতুর কাছে মার্কিন একটি বিমান ও দুটি হেলিকপ্টার অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

ভিডিওটির সত্যতা ও সময়কাল যাচাই করা হয়েছে এবং এতে কোনো কৃত্রিম পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার মধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তেহরান ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও হামলার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
এদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ইস্পাত শিল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সংঘাত চললেও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে বাস্তবতা হলো, উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং পরিস্থিতি যে কোনো সময় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
উদ্ধার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্যারারেস্কিউ ইউনিট কাজ করছে, যাদের বিমানবাহিনীর ‘সুইস আর্মি নাইফ’ বলা হয়।

এই বিশেষজ্ঞরা ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার এবং প্রয়োজনে এসি-১৩০ গানশিপ ব্যবহার করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালান।
তাদের মূল লক্ষ্য নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে বের করা, চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অভিযান শুধু কঠিনই নয়, অত্যন্ত বিপজ্জনকও। প্রতিটি মুহূর্তে শত্রুর নজরদারি, হামলার ঝুঁকি এবং অজানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাদের।
সব মিলিয়ে, একটি নিখোঁজ পাইলটকে ঘিরে শুরু হওয়া এই অভিযান এখন শুধু সামরিক ঘটনা নয়, এটি পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার এক নতুন অধ্যায়ে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র বিবিসি


















