ন্যাটো ছাড়ার হুমকি: ডোনাল্ড ট্রাম্প কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন?
- আপডেট সময় : ০৩:০২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
তবে বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চাইলেই একতরফাভাবে ন্যাটো ত্যাগ করতে পারেন না।
ন্যাটো বা নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন ১৯৪৯ সালে গঠিত একটি সামরিক জোট, যার মূল ভিত্তি হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা।
এর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ইতিহাসে এই অনুচ্ছেদ মাত্র একবার, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর প্রয়োগ করা হয়েছিল।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর সমালোচক। তিনি মনে করেন, এই জোটে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছে, অথচ ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয়ে যথেষ্ট অবদান রাখছে না।
২০১৪ সালে সদস্য দেশগুলোর জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেটি নিয়েও তাঁর আপত্তি ছিল।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার হুমকি এবং ট্রাম্পের চাপ, দুটির কারণেই ন্যাটো সদস্যরা তাদের সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে।
যদিও ট্রাম্প প্রায়ই ন্যাটো ছাড়ার হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইন এই সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছে। ২০২৩ সালের শেষে মার্কিন কংগ্রেস একটি আইন পাস করে, যাতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট এককভাবে ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন না।
এর জন্য সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন অথবা কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়; বাস্তবে এটি একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে এই জোট পশ্চিমা দেশগুলোর নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর মোট প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বড় অংশ বহন করে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা জোটটির জন্য অপরিহার্য।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ট্রাম্পের বক্তব্য রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে, তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো ত্যাগ করা সহজ নয়।
আইনি বাধা, কংগ্রেসের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাস্তবতা, সবকিছু মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জটিল এবং বহুমাত্রিক। সূত্র বিবিসি














