মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ উদযাপিত হলো মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গান, কবিতা ও নৃত্যের ছন্দে সাজানো এই আয়োজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিমনা দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি করে এক আবেগঘন পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে আয়োজন করা হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগীত, আবৃত্তি এবং নৃত্য পরিবেশনার, যা দর্শকদের হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে স্বাধীনতার চেতনা ও গৌরবময় ইতিহাসের স্মৃতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হলের প্রভোস্ট, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সংগীত বিভাগ এবং নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগীত বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. প্রিয়াংকা গোপ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, অসংখ্য ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার সুফল দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত আমাদের মূল লক্ষ্য।
উপাচার্য আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সর্বোত্তম উপায়। সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ নির্মূলে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সার্বিকভাবে, এই আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।