খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা
- আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আবারও রক্ত ঝরল। পার্বত্য অঞ্চলে চলমান সহিংসতার ধারাবাহিকতায় এবার ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর এক সংগঠককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের নাম নীতিদত্ত চাকমা (৫০)। তিনি সংগঠনটির পানছড়ি উপজেলার দায়িত্বশীল সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে পানছড়ি সদর ইউনিয়নের সূতকর্মা পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নীতিদত্ত চাকমা পানছড়ির উত্তর শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা এবং বর্ণনাতীত চাকমার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সূতকর্মা পাড়ার একটি দোকানে বসে ছিলেন নীতিদত্ত চাকমা। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হঠাৎ সেখানে এসে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জয়া ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে এবং তার পেটে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পানছড়ি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার পেছনের কারণ বা জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।
এদিকে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর কেন্দ্রীয় সংগঠক অমর চাকমা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রসিতপন্থী ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
পাহাড়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ এই হত্যাকাণ্ড পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে আবারও জোরালো হচ্ছে আলোচনা, কবে থামবে এই রক্তপাত?



















