ছুটির অবসান, কাজে ফিরছে দেশ, জেগে উঠছে অর্থনীতি
- আপডেট সময় : ০৬:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি শেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে দেশ। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে ছুটে যাওয়া লাখো মানুষ এখন আবার কর্মস্থলের পথে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া-এর মতোই বাংলাদেশেও ঈদ মানেই নাড়ির টানে গ্রামে ফেরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারের ঈদে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়েছিলেন। দীর্ঘ ছুটির কারণে এবারের যাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হলেও ছুটি শেষে ফেরার পথে রোববার ও সোমবার ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে। ট্রেন, লঞ্চ ও সড়কপথে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানীতে ফিরেছেন।
সাত দিনের টানা ছুটি শেষে মঙ্গলবার খুলেছে দেশের অফিস-আদালত। প্রথম কর্মদিবসে অনেকের মধ্যেই ছিল ছুটির রেশ-ক্লান্তি, অলসতা আর ধীরগতির কাজের ছাপ স্পষ্ট। কেউ কিছুটা দেরিতে অফিসে পৌঁছেছেন, কেউবা এখনও পুরোপুরি কাজে মন বসাতে পারেননি। তবে এর মধ্যেই ব্যতিক্রম দৃশ্য দেখা গেছে সচিবালয়ে। সকাল ঠিক ৯টায় উপস্থিত হয়ে কর্মদিবস শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম দিনেই তার সময়ানুবর্তিতা ও সক্রিয়তা প্রশাসনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। দিনের শুরুতেই তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গিয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
প্রথম কর্মদিবসেই ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। বেলা ১১টায় দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নীতি নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া বিদেশে দক্ষ জনবল প্রেরণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং বেকারত্ব কমাতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে এ বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা, সব মিলিয়ে দিনভর ছিল ব্যস্ত সূচি। দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসেই এমন কর্মতৎপরতা প্রশাসনে গতি ফেরানোর পাশাপাশি সচিবালয়ে নতুন কর্মচাঞ্চল্যের সঞ্চার করেছে।
এদিকে শিল্পখাতেও ধীরে ধীরে ফিরছে উৎপাদন। রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন কলকারখানায় কাজ শুরু হয়েছে, তবে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক শ্রমিক এখনও গ্রাম থেকে ফেরার পথে বা ছুটির রেশ কাটিয়ে কাজে যোগ দিচ্ছেন ধীরে ধীরে। রাজধানীর সড়কেও আগের সেই চিরচেনা ব্যস্ততা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। যানজট তুলনামূলক কম, অফিসপাড়া ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোও এখনও কিছুটা ফাঁকা। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কর্মব্যস্ততা বাড়বে এবং অর্থনীতির চাকা আবারও পুরোদমে ঘুরতে শুরু করবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।



















