ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে  ইসরায়েলের পক্ষে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত  বার্লিনের

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ ১০০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে  ইসরায়েলের পক্ষে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত  বার্লিনের

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ এক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে জার্মানি। ফিলিস্তিনের গাজায় কথিত গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-এ চলমান মামলায় ইসরায়েল-এর পক্ষে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্লিন।

এই মামলাটি ২০২৩ সালে দায়ের করে দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে গাজায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। শুরু থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানালেও, জার্মানি ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম দৃঢ় অবস্থানে থাকা রাষ্ট্র।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র চলতি সপ্তাহে নিশ্চিত করেছেন যে, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আইসিজেতে চলমান এই মামলায় জার্মানি আর ইসরায়েলের পক্ষে হস্তক্ষেপ করবে না।

এই ঘোষণা কার্যত তাদের পূর্বঘোষিত অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত বহন করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল যে তারা ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়াবে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সে সময় বার্লিন যুক্তি দিয়েছিল, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং তাদের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে পড়ছে।

কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, জার্মানি এখন আরও সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান নিতে চাইছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমবর্ধমান চাপ, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন এবং গাজায় চলমান মানবিক সংকট, এসব বিষয় জার্মানির এই নীতিগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।

জার্মানির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন আলোচনা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে  ইসরায়েলের পক্ষে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত  বার্লিনের

আপডেট সময় : ০১:২০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ এক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে জার্মানি। ফিলিস্তিনের গাজায় কথিত গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-এ চলমান মামলায় ইসরায়েল-এর পক্ষে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্লিন।

এই মামলাটি ২০২৩ সালে দায়ের করে দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে গাজায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। শুরু থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানালেও, জার্মানি ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম দৃঢ় অবস্থানে থাকা রাষ্ট্র।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র চলতি সপ্তাহে নিশ্চিত করেছেন যে, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আইসিজেতে চলমান এই মামলায় জার্মানি আর ইসরায়েলের পক্ষে হস্তক্ষেপ করবে না।

এই ঘোষণা কার্যত তাদের পূর্বঘোষিত অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত বহন করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল যে তারা ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়াবে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সে সময় বার্লিন যুক্তি দিয়েছিল, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং তাদের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে পড়ছে।

কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, জার্মানি এখন আরও সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান নিতে চাইছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমবর্ধমান চাপ, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন এবং গাজায় চলমান মানবিক সংকট, এসব বিষয় জার্মানির এই নীতিগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।

জার্মানির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন আলোচনা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর