যুদ্ধ নয়, কৌশলী পিছু হটা: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন হিসাব
- আপডেট সময় : ০১:১১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ২১তম দিনে গড়ালেও সরাসরি যুদ্ধপথে না গিয়ে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “না, আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। যদি পাঠাতামও, তবে নিশ্চিতভাবেই আমি আপনাদের তা জানাতাম না। কিন্তু আমি সেনা পাঠাচ্ছি না।” তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পথ থেকে আপাতত সরে আসছে ওয়াশিংটন।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, ইরান–এর পারমাণবিক সক্ষমতা প্রায় ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কিছু পারমাণবিক সরঞ্জাম চাপা পড়ে থাকতে পারে। সেগুলো শনাক্ত ও জব্দ করার বিষয়টি এখনো আলোচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের অভিযান চালাতে হলে ব্যাপকসংখ্যক স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। সম্ভবত এই ঝুঁকি বিবেচনাতেই ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে বিকল্প কৌশল খুঁজছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট স্বার্থে আঘাত হানছে। ফলে সংঘাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে ইতোমধ্যে অন্তত ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই ‘পিছু হটা’ অনেকেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক ও সীমিত সামরিক চাপ বজায় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, এমনটাই ধারণা বিশ্লেষকদের।
সূত্র: রয়টার্স



















