মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তেলবাজারে আগুন, ব্যারেল ১১৫ ডলার ছাড়াল
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্র –এ হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। এই গ্যাসক্ষেত্রটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রগুলোর একটি, যা ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হামলার জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করে। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে। বৃহস্পতিবার ভোরে বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড –এর ফিউচার দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা বাজারে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তারই প্রতিফলন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
এই প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।
তেলবাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভান্ডা ইনসাইটস –এর প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি গণমাধ্যমকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ওমান ও দুবাই ক্রুডের দাম ইতোমধ্যেই ১৫০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।
তার মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ব্রেন্ট ও পশ্চিম টেক্সাস মধ্যবর্তী –এর দাম ২০০ ডলার ছোঁয়াও আর অস্বাভাবিক কিছু হবে না।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এখন তেলের দাম কতটা বাড়বে তা অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি কতদিন বন্ধ থাকে তার ওপর। যদি দীর্ঘ সময় ধরে এ রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়বে পরিবহন খরচ, পণ্য মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর।



















