ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবে সৌদির কঠোর হুঁশিয়ারি, যুদ্ধের ছায়ায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য
- আপডেট সময় : ০২:০৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
সৌদি আরবের রিয়াদে আরব উপসাগরীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ: ছবি সংগ্রহ
রিয়াদকে লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যেন আরও ঘন হয়ে উঠেছে যুদ্ধের কালো মেঘ। এর জবাবে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ।
বুধবার (১৮ মার্চ) রিয়াদে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা বিশ্বাসের ভিত্তি আজ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে পরিস্থিতি আর কেবল কূটনৈতিক টানাপোড়েনে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত আরও নাটকীয়। ইরান অভিযোগ করেছে, ইসরাইল তাদের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনায় হামলাকে কেন্দ্র করে তেহরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
পাল্টা জবাবে তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল-গ্যাস স্থাপনা এবং বিশেষ করে কাতার ও সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সৌদি আরব এই হামলাকে পরিকল্পিত বৈরী আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, ইরানের এই অযৌক্তিক চাপ শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের ওপরই ফিরে আসবে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে সৌদি আরব সামরিক জবাব দিতে এক মুহূর্তও দেরি করবে না।
এদিকে, রিয়াদে যখন তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও কাতারসহ একাধিক দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা জরুরি বৈঠকে বসেছেন, ঠিক সেই সময়ই শহরের আকাশ কেঁপে ওঠে ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের বিকট শব্দে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এর ধ্বংসাবশেষ শহরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারের কাছে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তোলে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই সৌদি আরব শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলেও, রাজধানীকে সরাসরি লক্ষ্য করে এ ধরনের আক্রমণ পরিস্থিতিকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
রিয়াদের বাসিন্দারা এমন দৃশ্য আগে খুব কমই দেখেছেন, আকাশে আগুনের রেখা, বিস্ফোরণের শব্দ আর অনিশ্চয়তার আতঙ্কে থমকে যাওয়া একটি শহর।
২০২৩ সালে দীর্ঘ শত্রুতা ভুলে সৌদি আরব ও ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছিল, যা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার এক নতুন আশা তৈরি করেছিল।
কিন্তু বর্তমান সংঘাত সেই আশাকে প্রায় ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। প্রিন্স বিন ফারহান বলেন, আমরা এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে প্রাধান্য দিচ্ছি, কিন্তু ইরান যদি তাদের আগ্রাসন বন্ধ না করে, তাহলে বিশ্বাস পুনর্গঠনের সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
এদিকে, এই সংঘাতের প্রভাব সীমাবদ্ধ থাকছে না কেবল আঞ্চলিক রাজনীতিতে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে ইতোমধ্যেই এর অভিঘাত পড়তে শুরু করেছে।
তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, দাম অস্থির হয়ে উঠছে, আর আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্বেগ।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তই নতুন কোনো বিস্ফোরণের আশঙ্কা বয়ে আনছে।
কূটনীতি কি শেষ পর্যন্ত এই আগুন নেভাতে পারবে, নাকি অঞ্চলটি আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে। সূত্র: রয়টার্স


















