বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে যারা ব্যবসা করতে চায়, তাদের হাত থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধকে রক্ষা করতে পারলে বাংলাদেশকে পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি আর থাকবে না।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন দূরদর্শী এক রাজনীতিবিদ। তিনিই মাওলানা ভাসানীর ‘ধানের শীষ’ প্রতীকটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে ধানের শীষের নেতৃত্ব আজ দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতীকী রাজনৈতিক রূপান্তরের পেছনে যাদু মিয়ার প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা বড় ভূমিকা রেখেছে। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করলেও বহুদলীয় গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে ভিত্তি আজ দেশে বিদ্যমান, তার পেছনে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকার সচেতনভাবেই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কাজ করছে। আমাদের মূল স্লোগান— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। যারা দিল্লি কিংবা পিন্ডির প্রতি মোহে আবদ্ধ, তাদের সেই ঘোর থেকে জাগিয়ে তুলতেই আমরা এই বার্তা তুলে ধরছি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একটি মহল নির্বাচনকে বিতর্কিত ও দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সরকার গণতান্ত্রিক রাজনীতির অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে নির্বাচনকে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
মন্ত্রী জানান, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। তবে পরবর্তীতে স্বৈরাচার এরশাদ ও শেখ হাসিনার শাসনামলে সেই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ‘আমি-ডামি নির্বাচন’, ‘নিশি রাতের নির্বাচন’ ও একতরফা ভোটের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে দুর্বল করা হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজ দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে।
আলোচনা সভায় ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসনব্যবস্থার কারণেই সেই সময় ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। খন্দকার মোশতাক থেকে বিচারপতি সায়েম পর্যন্ত যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছিল, সিপাহী-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মাধ্যমে জাতি সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ লাভ করে।
তিনি বলেন, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার মতো নেতারা সেদিন শহীদ জিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আওয়ামী লীগ পরবর্তীতে দ্বিতীয়বারের মতো রাজনৈতিক দল হিসেবে সংগঠিত হয়ে সংসদে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল।
বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।
এ ছাড়া গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাজনীতিবিদ সৈয়দ দিদার বকত ও রিটা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।


















