ঢাকা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিনভার বৈঠকে সভাপতি করেন : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কৃষকদের জন্য একটি মানবিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বস্তি দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি একে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজার অস্থিরতায় অনেক কৃষক ঋণের চাপে দিশেহারা। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ তাদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি বয়ে আনবে এবং নতুন করে উৎপাদনে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্ষুদ্র ঋণের বোঝা লাঘব হলে কৃষকরা পুনরায় বীজ, সার ও সেচে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

কৃষি উন্নয়নের প্রশ্নে সরকারের এই অবস্থান দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রয়াসের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় খাল খনন, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা নতুন প্রেক্ষাপটে আরও বিস্তৃত করার বার্তা দিচ্ছে বর্তমান উদ্যোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকের আর্থিক পুনর্বাসন শুধু একটি সামাজিক সহমর্মিতার পদক্ষেপ নয়,  এটি উন্নয়ন কৌশলেরও অংশ। ঋণমুক্ত হয়ে কৃষক যদি নতুন মৌসুমে চাষাবাদে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান, তবে খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান, সবখানেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ একুশের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিনভর সরকারি কর্মসূচির মধ্যেও কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই ছিল দিনের মূল সুর।

কৃষকেরা এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছেন, ঋণের বোঝা হালকা করে উৎপাদনের মাঠে আরও শক্তভাবে দাঁড়ানোর। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে গ্রামবাংলার প্রান্তিক চাষির মুখে ফিরবে স্বস্তির হাসি, আর কৃষিখাত পাবে নতুন গতি ও প্রাণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কৃষকদের জন্য একটি মানবিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বস্তি দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি একে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজার অস্থিরতায় অনেক কৃষক ঋণের চাপে দিশেহারা। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ তাদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি বয়ে আনবে এবং নতুন করে উৎপাদনে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্ষুদ্র ঋণের বোঝা লাঘব হলে কৃষকরা পুনরায় বীজ, সার ও সেচে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

কৃষি উন্নয়নের প্রশ্নে সরকারের এই অবস্থান দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রয়াসের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় খাল খনন, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা নতুন প্রেক্ষাপটে আরও বিস্তৃত করার বার্তা দিচ্ছে বর্তমান উদ্যোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকের আর্থিক পুনর্বাসন শুধু একটি সামাজিক সহমর্মিতার পদক্ষেপ নয়,  এটি উন্নয়ন কৌশলেরও অংশ। ঋণমুক্ত হয়ে কৃষক যদি নতুন মৌসুমে চাষাবাদে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান, তবে খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান, সবখানেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ একুশের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিনভর সরকারি কর্মসূচির মধ্যেও কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই ছিল দিনের মূল সুর।

কৃষকেরা এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছেন, ঋণের বোঝা হালকা করে উৎপাদনের মাঠে আরও শক্তভাবে দাঁড়ানোর। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে গ্রামবাংলার প্রান্তিক চাষির মুখে ফিরবে স্বস্তির হাসি, আর কৃষিখাত পাবে নতুন গতি ও প্রাণ।