ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একটানে জালে ওঠে আসে ২৬ লাখ টাকার ২ হাজার ২০০টি কাঙ্খিত  ইলিশ  কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন  বাড়ানোর তাগিদ  প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব  আমিরাতে ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট চায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত হুমায়ুন ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ রামপালের এক ইউনিট বন্ধ বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে অর্ধেক শেরপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ শেরপুরে ৫ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধের চালান জব্দ ‘আমেরিকানরা যোদ্ধা হলে ইরানের বীর বাহিনীর মুখোমুখি হোক’: পেজেশকিয়ান আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী

কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬১ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিনভার বৈঠকে সভাপতি করেন : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কৃষকদের জন্য একটি মানবিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বস্তি দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি একে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজার অস্থিরতায় অনেক কৃষক ঋণের চাপে দিশেহারা। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ তাদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি বয়ে আনবে এবং নতুন করে উৎপাদনে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্ষুদ্র ঋণের বোঝা লাঘব হলে কৃষকরা পুনরায় বীজ, সার ও সেচে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

কৃষি উন্নয়নের প্রশ্নে সরকারের এই অবস্থান দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রয়াসের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় খাল খনন, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা নতুন প্রেক্ষাপটে আরও বিস্তৃত করার বার্তা দিচ্ছে বর্তমান উদ্যোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকের আর্থিক পুনর্বাসন শুধু একটি সামাজিক সহমর্মিতার পদক্ষেপ নয়,  এটি উন্নয়ন কৌশলেরও অংশ। ঋণমুক্ত হয়ে কৃষক যদি নতুন মৌসুমে চাষাবাদে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান, তবে খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান, সবখানেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ একুশের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিনভর সরকারি কর্মসূচির মধ্যেও কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই ছিল দিনের মূল সুর।

কৃষকেরা এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছেন, ঋণের বোঝা হালকা করে উৎপাদনের মাঠে আরও শক্তভাবে দাঁড়ানোর। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে গ্রামবাংলার প্রান্তিক চাষির মুখে ফিরবে স্বস্তির হাসি, আর কৃষিখাত পাবে নতুন গতি ও প্রাণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কৃষকদের জন্য একটি মানবিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বস্তি দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি একে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজার অস্থিরতায় অনেক কৃষক ঋণের চাপে দিশেহারা। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ তাদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি বয়ে আনবে এবং নতুন করে উৎপাদনে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্ষুদ্র ঋণের বোঝা লাঘব হলে কৃষকরা পুনরায় বীজ, সার ও সেচে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

কৃষি উন্নয়নের প্রশ্নে সরকারের এই অবস্থান দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রয়াসের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় খাল খনন, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা নতুন প্রেক্ষাপটে আরও বিস্তৃত করার বার্তা দিচ্ছে বর্তমান উদ্যোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকের আর্থিক পুনর্বাসন শুধু একটি সামাজিক সহমর্মিতার পদক্ষেপ নয়,  এটি উন্নয়ন কৌশলেরও অংশ। ঋণমুক্ত হয়ে কৃষক যদি নতুন মৌসুমে চাষাবাদে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান, তবে খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান, সবখানেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ একুশের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিনভর সরকারি কর্মসূচির মধ্যেও কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই ছিল দিনের মূল সুর।

কৃষকেরা এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছেন, ঋণের বোঝা হালকা করে উৎপাদনের মাঠে আরও শক্তভাবে দাঁড়ানোর। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে গ্রামবাংলার প্রান্তিক চাষির মুখে ফিরবে স্বস্তির হাসি, আর কৃষিখাত পাবে নতুন গতি ও প্রাণ।