ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে ‘টানাটানি’ ট্রাম্প-পুতিনের, কোন দিকে যাবে তেহরান? বাংলাদেশ থেকে পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য আমদানিতে আগ্রহী ইতালি মার্কিন আদালতের রায়েও বহাল ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক, নতুন অনিশ্চয়তায় রফতানিকারকরা পুলিশের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুনে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসাবে যোগ দেবেন দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদের পদত্যাগ হামে মৃত্যু: ৩৫২ শিশুর পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট মোহাম্মদপুরে ৯ হত্যা: সাবেক মন্ত্রী   নানকসহ ২৮ জনের বিচার শুরু দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র রক্ষায় মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

একাত্তর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে আর চব্বিশ শেখায় কিভাবে স্বাধীনতা রক্ষার করতে হয়

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে

একাত্তর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে আর চব্বিশ শেখায় কিভাবে স্বাধীনতা রক্ষার করতে হয়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমরা একাত্তর ভুলিনি, চব্বিশও ভুলব না

একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, তারা আজ বড় বড় কথা বলছে, এটা ইতিহাসের নির্মম পরিহাস

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তর আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়, আর চব্বিশ আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, স্বাধীনতা শুধু অর্জনের নয়, কি ভাবে  রক্ষা করতে হয়। যারা একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, তারা আজ বড় বড় কথা বলছে, এটা ইতিহাসের নির্মম পরিহাস।

মির্জা ফখরুল বলেন, একাত্তরে আমরা যুদ্ধ করেছি একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য। আর চব্বিশে আমরা দেখেছি, স্বাধীনতার চেতনা ভুলে গেলে কীভাবে তা হুমকির মুখে পড়ে। যারা ইতিহাস বিকৃত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আমরা একাত্তর ভুলব না, চব্বিশও ভুলব না। জনগণের ঐক্য ও ভোটের শক্তিতেই গণতন্ত্র রক্ষা হবে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

একাত্তরে আমাদের ঘরছাড়া হতে হয়েছিল, জীবন দিতে হয়েছিল স্বাধীনতার জন্য। আর চব্বিশে এসে আমরা দেখেছি কীভাবে সেই ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ করেছিলাম একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য। সেই স্বপ্ন আজও অম্লান। চব্বিশ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, যদি জনগণ সজাগ না থাকে, তাহলে স্বাধীনতার চেতনাও বিপন্ন হয়। তাই বলছি, আমরা একাত্তর ভুলব না, চব্বিশও ভুলব না।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এবারের নির্বাচন জনগণের নির্বাচন। নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট হবে। আপনার মন যাকে চাইবে, নির্ভয়ে তাকেই ভোট দেবেন। এই অঞ্চলের বড় বড় সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, কৃষি উন্নয়ন সবকিছুর সঙ্গে আমরা যুক্ত ছিলাম। ভুট্টা চাষ থেকে বরেন্দ্র টিউবওয়েল উন্নয়নের সাক্ষী আপনারাই।

তিনি বলেন, আমরা হিন্দু-মুসলিম সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চাই। যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠাতে চাই, যেন তারা সম্মানের সঙ্গে আয় করতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলব। বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল কলেজ হবে, কিন্তু তার আগে মানুষের আয় বাড়াতে হবে, জীবনমান উন্নত করতে হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় পাবেন না। এই দেশ যেমন আমার, তেমনি আপনারও। আপনার মাটি, আপনার জমি, আপনার অধিকার-রাষ্ট্র আপনাদের সুরক্ষা দেবে, আমরা সবাই মিলে দেব।

শেষে আবেগভরে তিনি বলেন, আমি আপনাদের পুরোনো মানুষ, পরীক্ষিত মানুষ। এটা আমার শেষ নির্বাচন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে আরেকবার কাজ করার সুযোগ দিন। আপনাদের ভোট আমার কাছে আমানত আমি কখনো তার খেয়ানত করিনি, করবও না।

বাপ-দাদার জমি বিক্রি করেও আমরা রাজনীতি করেছি, সততার পথ ছাড়িনি। একাত্তরের চেতনা আর চব্বিশের অভিজ্ঞতা নিয়েই আমরা সামনে এগোব।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

একাত্তর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে আর চব্বিশ শেখায় কিভাবে স্বাধীনতা রক্ষার করতে হয়

আপডেট সময় : ০২:১০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমরা একাত্তর ভুলিনি, চব্বিশও ভুলব না

একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, তারা আজ বড় বড় কথা বলছে, এটা ইতিহাসের নির্মম পরিহাস

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তর আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়, আর চব্বিশ আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, স্বাধীনতা শুধু অর্জনের নয়, কি ভাবে  রক্ষা করতে হয়। যারা একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, তারা আজ বড় বড় কথা বলছে, এটা ইতিহাসের নির্মম পরিহাস।

মির্জা ফখরুল বলেন, একাত্তরে আমরা যুদ্ধ করেছি একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য। আর চব্বিশে আমরা দেখেছি, স্বাধীনতার চেতনা ভুলে গেলে কীভাবে তা হুমকির মুখে পড়ে। যারা ইতিহাস বিকৃত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আমরা একাত্তর ভুলব না, চব্বিশও ভুলব না। জনগণের ঐক্য ও ভোটের শক্তিতেই গণতন্ত্র রক্ষা হবে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

একাত্তরে আমাদের ঘরছাড়া হতে হয়েছিল, জীবন দিতে হয়েছিল স্বাধীনতার জন্য। আর চব্বিশে এসে আমরা দেখেছি কীভাবে সেই ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ করেছিলাম একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য। সেই স্বপ্ন আজও অম্লান। চব্বিশ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, যদি জনগণ সজাগ না থাকে, তাহলে স্বাধীনতার চেতনাও বিপন্ন হয়। তাই বলছি, আমরা একাত্তর ভুলব না, চব্বিশও ভুলব না।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এবারের নির্বাচন জনগণের নির্বাচন। নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট হবে। আপনার মন যাকে চাইবে, নির্ভয়ে তাকেই ভোট দেবেন। এই অঞ্চলের বড় বড় সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, কৃষি উন্নয়ন সবকিছুর সঙ্গে আমরা যুক্ত ছিলাম। ভুট্টা চাষ থেকে বরেন্দ্র টিউবওয়েল উন্নয়নের সাক্ষী আপনারাই।

তিনি বলেন, আমরা হিন্দু-মুসলিম সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চাই। যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠাতে চাই, যেন তারা সম্মানের সঙ্গে আয় করতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলব। বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল কলেজ হবে, কিন্তু তার আগে মানুষের আয় বাড়াতে হবে, জীবনমান উন্নত করতে হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় পাবেন না। এই দেশ যেমন আমার, তেমনি আপনারও। আপনার মাটি, আপনার জমি, আপনার অধিকার-রাষ্ট্র আপনাদের সুরক্ষা দেবে, আমরা সবাই মিলে দেব।

শেষে আবেগভরে তিনি বলেন, আমি আপনাদের পুরোনো মানুষ, পরীক্ষিত মানুষ। এটা আমার শেষ নির্বাচন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে আরেকবার কাজ করার সুযোগ দিন। আপনাদের ভোট আমার কাছে আমানত আমি কখনো তার খেয়ানত করিনি, করবও না।

বাপ-দাদার জমি বিক্রি করেও আমরা রাজনীতি করেছি, সততার পথ ছাড়িনি। একাত্তরের চেতনা আর চব্বিশের অভিজ্ঞতা নিয়েই আমরা সামনে এগোব।