ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আগামী সপ্তাহেই দিল্লি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  প্রস্তুতি দুই দেশেই স্কুল ফিডিংয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্তি চায় শিক্ষক-অবিভাবকরা সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু ভিক্ষার ঝুলিতে ৪৬ হাজার ৬০০ ডলার সহানুভূতির আড়ালে প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল বাকি শুধু সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে পাঁচ বছরে ৩৪ প্রাণহানি  অবসরে  ৪৯ পুলিশ পরিদর্শক  এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সেনেটে অচলাবস্থা, মার্কিন শাটডাউন গড়াল দ্বিতীয় সপ্তাহে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

সেনেটে অচলাবস্থা, মার্কিন শাটডাউন গড়াল দ্বিতীয় সপ্তাহে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মার্কিন ফেডারেল সরকারের শাটডাউন দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ফেডারেল সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যয় সংক্রান্ত প্রস্তাব পাসে আবারও ব্যর্থ হয়েছেন সিনেটররা। চতুর্থবারের মতো বাজেট বিল উচ্চকক্ষের ৬০ ভোটের বাধা অতিক্রম করতে না পারায় অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে।

সর্বশেষ দুটি প্রস্তাবই যথাক্রমে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আনা হয়েছিল। কিন্তু কোনোটি পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় সরকারের ব্যয় অনুমোদনের পথ রুদ্ধই রয়ে গেছে। ফলে শাটডাউনের সমাপ্তি কবে হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জরুরি সরকারি পরিষেবা চালু রাখতে বাধ্য হয়ে “অপ্রিয় সিদ্ধান্ত”— অর্থাৎ ব্যাপক ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে হতে পারে। বাজেট ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দপ্তর (ওএমবি) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে বলেও নিশ্চিত করেছে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়।

অচলাবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ইস্যু। ডেমোক্র্যাটরা চাইছেন নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যবীমা ভর্তুকি চালু রাখা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে মেডিকেইড কর্মসূচিতে আনা কাটছাঁট উল্টে দেওয়া। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের অভিযোগ, কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতেই ডেমোক্র্যাটরা সরকারকে কার্যত অচল করে রেখেছে।

ডেমোক্র্যাটদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ৫৪ জন সেনেটর, বিপক্ষে ৪৪ জন। দুইজন ভোট দেননি। অপরদিকে ডেমোক্র্যাটদের নিজস্ব প্রস্তাবে সমর্থন পান ৪৫ জন, বিরোধিতা করেন ৫২ জন।

শাটডাউন পরিস্থিতির জন্য শুরু থেকেই দুই দলই একে অপরকে দোষারোপ করছে। আলোচনায় অগ্রগতির কোনো ইঙ্গিতও মেলেনি। “আমরা ভোটের পর ভোট দিতে পারি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মাত্র পাঁচজনের ওপর,” বিবিসিকে বলেন মিসৌরির রিপাবলিকান সেনেটর জশ হলে।

হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, “ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের দাবিকে কেন্দ্র করে আমেরিকানদের জিম্মি করে রেখেছে।” তিনি সতর্ক করেন, “শাটডাউনের অর্থনৈতিক প্রভাব প্রতিদিনই বাড়ছে। বেকারত্বের হার বাড়লে প্রতি সপ্তাহে দেশের জিডিপি গড়ে দেড় হাজার ডলার করে কমতে পারে।”

এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, শাটডাউন দীর্ঘায়িত হলে ফেডারেল কর্মীদের ছাঁটাইয়ের বিকল্প থাকবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ওএমবির প্রধান রাসেল ভটকে বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে “কোন সংস্থাগুলো ছাঁটাই করা যেতে পারে” তা নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন।

শুক্রবার পরিস্থিতির অংশ হিসেবে রাসেল ভট ঘোষণা দেন— শিকাগো শহরের জন্য বরাদ্দ কেন্দ্রীয় অবকাঠামো তহবিলের ২১০ কোটি ডলার ছাড় স্থগিত রাখা হয়েছে।

মার্কিন অর্থনীতিতে ইতোমধ্যেই শাটডাউনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারি প্রকল্প বন্ধ হয়ে পড়েছে, কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না, এবং আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগছে লাখো পরিবার। রাজনৈতিক অচলাবস্থা যত দিন চলবে, ততই গভীর হবে এই সংকট— এমন সতর্কবার্তা দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরাও।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সেনেটে অচলাবস্থা, মার্কিন শাটডাউন গড়াল দ্বিতীয় সপ্তাহে

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন ফেডারেল সরকারের শাটডাউন দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ফেডারেল সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যয় সংক্রান্ত প্রস্তাব পাসে আবারও ব্যর্থ হয়েছেন সিনেটররা। চতুর্থবারের মতো বাজেট বিল উচ্চকক্ষের ৬০ ভোটের বাধা অতিক্রম করতে না পারায় অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে।

সর্বশেষ দুটি প্রস্তাবই যথাক্রমে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আনা হয়েছিল। কিন্তু কোনোটি পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় সরকারের ব্যয় অনুমোদনের পথ রুদ্ধই রয়ে গেছে। ফলে শাটডাউনের সমাপ্তি কবে হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জরুরি সরকারি পরিষেবা চালু রাখতে বাধ্য হয়ে “অপ্রিয় সিদ্ধান্ত”— অর্থাৎ ব্যাপক ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে হতে পারে। বাজেট ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দপ্তর (ওএমবি) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে বলেও নিশ্চিত করেছে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়।

অচলাবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ইস্যু। ডেমোক্র্যাটরা চাইছেন নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যবীমা ভর্তুকি চালু রাখা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে মেডিকেইড কর্মসূচিতে আনা কাটছাঁট উল্টে দেওয়া। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের অভিযোগ, কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতেই ডেমোক্র্যাটরা সরকারকে কার্যত অচল করে রেখেছে।

ডেমোক্র্যাটদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ৫৪ জন সেনেটর, বিপক্ষে ৪৪ জন। দুইজন ভোট দেননি। অপরদিকে ডেমোক্র্যাটদের নিজস্ব প্রস্তাবে সমর্থন পান ৪৫ জন, বিরোধিতা করেন ৫২ জন।

শাটডাউন পরিস্থিতির জন্য শুরু থেকেই দুই দলই একে অপরকে দোষারোপ করছে। আলোচনায় অগ্রগতির কোনো ইঙ্গিতও মেলেনি। “আমরা ভোটের পর ভোট দিতে পারি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মাত্র পাঁচজনের ওপর,” বিবিসিকে বলেন মিসৌরির রিপাবলিকান সেনেটর জশ হলে।

হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, “ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের দাবিকে কেন্দ্র করে আমেরিকানদের জিম্মি করে রেখেছে।” তিনি সতর্ক করেন, “শাটডাউনের অর্থনৈতিক প্রভাব প্রতিদিনই বাড়ছে। বেকারত্বের হার বাড়লে প্রতি সপ্তাহে দেশের জিডিপি গড়ে দেড় হাজার ডলার করে কমতে পারে।”

এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, শাটডাউন দীর্ঘায়িত হলে ফেডারেল কর্মীদের ছাঁটাইয়ের বিকল্প থাকবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ওএমবির প্রধান রাসেল ভটকে বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে “কোন সংস্থাগুলো ছাঁটাই করা যেতে পারে” তা নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন।

শুক্রবার পরিস্থিতির অংশ হিসেবে রাসেল ভট ঘোষণা দেন— শিকাগো শহরের জন্য বরাদ্দ কেন্দ্রীয় অবকাঠামো তহবিলের ২১০ কোটি ডলার ছাড় স্থগিত রাখা হয়েছে।

মার্কিন অর্থনীতিতে ইতোমধ্যেই শাটডাউনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারি প্রকল্প বন্ধ হয়ে পড়েছে, কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না, এবং আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগছে লাখো পরিবার। রাজনৈতিক অচলাবস্থা যত দিন চলবে, ততই গভীর হবে এই সংকট— এমন সতর্কবার্তা দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরাও।