ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমঝোতা না হলে ইরানে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের দেশ গঠনে নাগরিক দায়িত্ব আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঈদের টানা সাতদিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত ঢাকায় পশু কোরবানি ৭লাখ: সাভার ট্যানারী পল্লীতে চামড়া  ঢুকেছে সোয়া ৫ লাখ প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে  ৪১৯ জন হজযাত্রী ঢাকায় পৌঁছেছেন চামড়া: অর্থনীতিতে আয়ের উৎস, সেই মূল্যবান সম্পদের এমন অর্থহীন পরিণতি! সড়ক নয়, যেন মৃত্যুর উপত্যকা! লোবানের গন্ধে ফিকে ঈদের আনন্দ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে  উল্লেখযোগ্য পতন, কেন? ঈদুল আজহায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণকে নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা দেশজুড়ে উৎসবের আমেজে উদযাপিত পবিত্র ঈদুল আজহা

গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে মহাবারুনী স্নানে মঁতুয়া ভক্তের ঢল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ এপ্রিল ২০২১ ৩৪১ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘ভারত, নেপাল এবং শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের মঁতুয়া ভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগ দিয়ে থাকেন। তাদের হাতে থাকে বিজয় ও সত্যের লাল নিশান ও পতাকা’

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

করোনার ঊর্ধমুখি সংক্রমণের কারণে এবারে গোপালগঞ্জের মঁতুয়া ঠাকুর বাড়ি এবং প্রশাসন তরফে ওড়াকান্দিতে স্নানোৎসব বন্ধের ঘোষণা থাকলেও তা মানা হয়নি। করোনার মধ্যেও লাখো মঁতুয়া ভক্তের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো মহাবারুনী স্নান।

শুক্রবার ভোর ৫টা থেকেই মঁতুয়া ভক্তরা হাজির হন ঠাকুর বাড়িতে। সেখানে তারা প্রথমে কামনা ও বাসনা সাগরে (বড় ধরনের পুকুর) স্নান করে তাদের বিগত দিনের পাপ মোচন ও আগামী দিনগুলোতে রোগবালাই কাটানোর প্রার্থনা করেন।

শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১০তম জন্মতিথি উপলক্ষে ঠাকুর বাড়িতে বারুণী স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী মেলা হয়ে আসছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ রুখতে স্থানীয় প্রশাসন দ্বিতীয় বারের মতো এটি বন্ধ করে দেয়। গত বছরও এ সময়ে করোনার প্রথম ধাপের সংক্রমণ ঠেকাতে এই উৎসব বন্ধ ছিল।

কিন্তু এবছরে বাধা-নিষেধ অমান্য করে মঁতুয়া ভক্তরা ঢাক, ঢোল, ডাঙ্কা, কাঁসি ও শিঙ্গা বাজিয়ে ওড়াকান্দি গ্রামে ঠাকুর বাড়িতে হাজির হন। বিগত বছরগুলোতে প্রায় দশ লক্ষাধিক মঁতুয়া ভক্তের উপস্থিতে এই উৎসব পালিত হয়ে থাকে।

সে সময় গোপালগঞ্জের রাস্তা-ঘাটে শুধু দেখা যায় লাল নিশান হাতে মঁতুয়া ভক্তদের মিছিল। সঙ্গে থাকে ঢাক ঢোল ও কাসরের বাদ্য। কিন্তু এ বছর ঠাকুর বাড়ি মুখরিত না হলেও লক্ষাধিক লোকের আগমন ঘটে।

নিম্মবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের ত্রাণ কর্তা হিসাবে ১৮১২ খ্রিস্টাব্দের ১১ মার্চ আবির্ভূত হয়েছিলেন শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর। ঠাকুরের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাফলিডাঙ্গা গ্রামে। যোগ সাধনা করতে তিনি বেছে নেন পাশের এই ওড়াকান্দি গ্রাম।

তাদের অনুসারী ভক্তদের বলা হয় মঁতুয়া। বিশ্বের কোটি কোটি মঁতুয়া ভক্তদের কাছে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি একটি পবিত্র পূণ্যভূমি। তাই প্রতিবছর হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম তিথি মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীতে এখানে অনুষ্ঠিত হয় স্নানোৎসব ও মেলা।

দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ভারত, নেপাল এবং শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের মঁতুয়া ভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগ দিয়ে থাকেন। তাদের হাতে থাকে বিজয় ও সত্যের লাল নিশান ও পতাকা। মঁতুয়া ঢাক-ঢোল ও কাঁসোর বাজিয়ে উলু ধ্বনি দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মঁতুয়া অনুসারীরা ছুটে আসেন এই তীর্থভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে।

গেলো মাসের ২৭ মার্চ এই হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা দিতে ও মতুয়া ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে মহাবারুনী স্নানে মঁতুয়া ভক্তের ঢল

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ এপ্রিল ২০২১

‘ভারত, নেপাল এবং শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের মঁতুয়া ভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগ দিয়ে থাকেন। তাদের হাতে থাকে বিজয় ও সত্যের লাল নিশান ও পতাকা’

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

করোনার ঊর্ধমুখি সংক্রমণের কারণে এবারে গোপালগঞ্জের মঁতুয়া ঠাকুর বাড়ি এবং প্রশাসন তরফে ওড়াকান্দিতে স্নানোৎসব বন্ধের ঘোষণা থাকলেও তা মানা হয়নি। করোনার মধ্যেও লাখো মঁতুয়া ভক্তের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো মহাবারুনী স্নান।

শুক্রবার ভোর ৫টা থেকেই মঁতুয়া ভক্তরা হাজির হন ঠাকুর বাড়িতে। সেখানে তারা প্রথমে কামনা ও বাসনা সাগরে (বড় ধরনের পুকুর) স্নান করে তাদের বিগত দিনের পাপ মোচন ও আগামী দিনগুলোতে রোগবালাই কাটানোর প্রার্থনা করেন।

শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১০তম জন্মতিথি উপলক্ষে ঠাকুর বাড়িতে বারুণী স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী মেলা হয়ে আসছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ রুখতে স্থানীয় প্রশাসন দ্বিতীয় বারের মতো এটি বন্ধ করে দেয়। গত বছরও এ সময়ে করোনার প্রথম ধাপের সংক্রমণ ঠেকাতে এই উৎসব বন্ধ ছিল।

কিন্তু এবছরে বাধা-নিষেধ অমান্য করে মঁতুয়া ভক্তরা ঢাক, ঢোল, ডাঙ্কা, কাঁসি ও শিঙ্গা বাজিয়ে ওড়াকান্দি গ্রামে ঠাকুর বাড়িতে হাজির হন। বিগত বছরগুলোতে প্রায় দশ লক্ষাধিক মঁতুয়া ভক্তের উপস্থিতে এই উৎসব পালিত হয়ে থাকে।

সে সময় গোপালগঞ্জের রাস্তা-ঘাটে শুধু দেখা যায় লাল নিশান হাতে মঁতুয়া ভক্তদের মিছিল। সঙ্গে থাকে ঢাক ঢোল ও কাসরের বাদ্য। কিন্তু এ বছর ঠাকুর বাড়ি মুখরিত না হলেও লক্ষাধিক লোকের আগমন ঘটে।

নিম্মবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের ত্রাণ কর্তা হিসাবে ১৮১২ খ্রিস্টাব্দের ১১ মার্চ আবির্ভূত হয়েছিলেন শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর। ঠাকুরের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাফলিডাঙ্গা গ্রামে। যোগ সাধনা করতে তিনি বেছে নেন পাশের এই ওড়াকান্দি গ্রাম।

তাদের অনুসারী ভক্তদের বলা হয় মঁতুয়া। বিশ্বের কোটি কোটি মঁতুয়া ভক্তদের কাছে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি একটি পবিত্র পূণ্যভূমি। তাই প্রতিবছর হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম তিথি মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীতে এখানে অনুষ্ঠিত হয় স্নানোৎসব ও মেলা।

দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ভারত, নেপাল এবং শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের মঁতুয়া ভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগ দিয়ে থাকেন। তাদের হাতে থাকে বিজয় ও সত্যের লাল নিশান ও পতাকা। মঁতুয়া ঢাক-ঢোল ও কাঁসোর বাজিয়ে উলু ধ্বনি দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মঁতুয়া অনুসারীরা ছুটে আসেন এই তীর্থভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে।

গেলো মাসের ২৭ মার্চ এই হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা দিতে ও মতুয়া ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।