ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল একদিনে রেকর্ড ১,৫৫৮ ভর্তি, মৃত্যু ৪ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে গুরুত্ব

২০ বছর বয়সেই কানাডার আকাশে চষে বেড়াচ্ছে অদিতি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ৩২৫ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মাত্র ২০ বছর বয়সেই কানাডার আকাশে পাইলট হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন অদিতি সরকার। বাংলাদেশের জয়পুরহাট সদর উপজেলার পাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সমাজকর্মী প্রয়াত অপূর্ব সরকার ও মাহবুবা সরকার দম্পতির মেয়ে অদিতি। তিন বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি।

প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত জয়পুরহাট শহরের জামান মডেল প্রি-ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড একাডেমিতে শৈশব কাটলেও দার্জিলিংয়ের হিমালি বোর্ডিং ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

পরের ঠিকানা কলকাতার জেমস একাডেমিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। এখানে নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এবং সেখানেই ও লেভেল সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকার লালমাটিয়ার লরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ লেভেল সম্পন্ন করেন।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে কানাডার ভ্যানকুভার প্রিন্সিপাল এয়ার ফ্লাইং স্কুল থেকে পাইলট প্রশিক্ষণ নেন অদিতি। এরপর সেখানেই ইন্সট্রাক্টর রেটিং সম্পন্ন করে তিন বছর পাইলট প্রশিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন তিনি। এরপর ফার্স্ট অফিসার হিসেবে পাইলট হন।

প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় অদিতি হঠাৎই জানতে পারেন তার বাবা আর বেঁচে নেই। এ অবস্থায় নিজেকে সামলিয়ে মাসহ নিকটাত্মীয়দের উৎসাহে খণ্ডকালীন চাকরি করেই উড়োজাহাজ চালানোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

অদিতির মা মাহবুবা সরকার বলেন, ২০১৯ সালে মেয়ের বাবা অপূর্ব সরকার মারা যান। তখন আমি নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়ের পাইলট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পিছপা হইনি। সমাজের প্রতি আমার বার্তা শত বাধা পেরিয়ে মেয়েরাও পারে আকাশ ছুঁতে। এর প্রমাণ আমার মেয়ে।

বড় বোন অদিতির সাফল্যে ছোট বোন অর্নি জানায়, লেখাপড়া শেষে কারো মতো যদি হতে চাই, তাহলে সবার আগে আমার আপুর মতো হবো। আমি তাকে অনুসরণ করি।

অদিতির সাফল্যে শুধু পাথুরিয়া গ্রামের মানুষই নয়, পুরো জেলার মানুষ খুশি। জয়পুরহাটের নিভৃত পল্লীতে বেড়ে ওঠা মেয়েটি আজ বিদেশের আকাশে উড়োজাহাজ নিয়ে ঘুরছেন, ভেবে অবাক হন সহপাঠী, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্কুল শিক্ষকরা।

অদিতির ছোট বেলার সেই জামান মডেল স্কুল অ্যান্ড একাডেমির পরিচালক মোছা. গুলশান আরা জামান অনেকটা দরদমাখা কণ্ঠে বলেন, সে ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী। সেই সঙ্গে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিমনাও ছিল। আমরা তার এমন সাফল্যে আনন্দিত ও গর্বিত।

অদিতির অপর বোন অর্থি জর্জিয়ায় ডাক্তারি পড়ছেন। আর ছোট মেয়ে অর্নি ভারতের শিলিগুড়িতে এ লেভেলের শিক্ষার্থী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

২০ বছর বয়সেই কানাডার আকাশে চষে বেড়াচ্ছে অদিতি

আপডেট সময় : ১০:৩২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৪

 

মাত্র ২০ বছর বয়সেই কানাডার আকাশে পাইলট হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন অদিতি সরকার। বাংলাদেশের জয়পুরহাট সদর উপজেলার পাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সমাজকর্মী প্রয়াত অপূর্ব সরকার ও মাহবুবা সরকার দম্পতির মেয়ে অদিতি। তিন বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি।

প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত জয়পুরহাট শহরের জামান মডেল প্রি-ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড একাডেমিতে শৈশব কাটলেও দার্জিলিংয়ের হিমালি বোর্ডিং ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

পরের ঠিকানা কলকাতার জেমস একাডেমিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। এখানে নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এবং সেখানেই ও লেভেল সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকার লালমাটিয়ার লরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ লেভেল সম্পন্ন করেন।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে কানাডার ভ্যানকুভার প্রিন্সিপাল এয়ার ফ্লাইং স্কুল থেকে পাইলট প্রশিক্ষণ নেন অদিতি। এরপর সেখানেই ইন্সট্রাক্টর রেটিং সম্পন্ন করে তিন বছর পাইলট প্রশিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন তিনি। এরপর ফার্স্ট অফিসার হিসেবে পাইলট হন।

প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় অদিতি হঠাৎই জানতে পারেন তার বাবা আর বেঁচে নেই। এ অবস্থায় নিজেকে সামলিয়ে মাসহ নিকটাত্মীয়দের উৎসাহে খণ্ডকালীন চাকরি করেই উড়োজাহাজ চালানোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

অদিতির মা মাহবুবা সরকার বলেন, ২০১৯ সালে মেয়ের বাবা অপূর্ব সরকার মারা যান। তখন আমি নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়ের পাইলট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পিছপা হইনি। সমাজের প্রতি আমার বার্তা শত বাধা পেরিয়ে মেয়েরাও পারে আকাশ ছুঁতে। এর প্রমাণ আমার মেয়ে।

বড় বোন অদিতির সাফল্যে ছোট বোন অর্নি জানায়, লেখাপড়া শেষে কারো মতো যদি হতে চাই, তাহলে সবার আগে আমার আপুর মতো হবো। আমি তাকে অনুসরণ করি।

অদিতির সাফল্যে শুধু পাথুরিয়া গ্রামের মানুষই নয়, পুরো জেলার মানুষ খুশি। জয়পুরহাটের নিভৃত পল্লীতে বেড়ে ওঠা মেয়েটি আজ বিদেশের আকাশে উড়োজাহাজ নিয়ে ঘুরছেন, ভেবে অবাক হন সহপাঠী, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্কুল শিক্ষকরা।

অদিতির ছোট বেলার সেই জামান মডেল স্কুল অ্যান্ড একাডেমির পরিচালক মোছা. গুলশান আরা জামান অনেকটা দরদমাখা কণ্ঠে বলেন, সে ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী। সেই সঙ্গে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিমনাও ছিল। আমরা তার এমন সাফল্যে আনন্দিত ও গর্বিত।

অদিতির অপর বোন অর্থি জর্জিয়ায় ডাক্তারি পড়ছেন। আর ছোট মেয়ে অর্নি ভারতের শিলিগুড়িতে এ লেভেলের শিক্ষার্থী।