ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

ঢাকায় বর্ণাঢ্য কুমারী পূজা 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪ ২৬২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠে মহাআয়োজনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো কুমারী পূজা। মাতৃরূপে ঈশ্বরের উপাসনা। শুক্রবার মহাঅষ্টমীর এদিনে মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা। সকাল ১০টা নাগাদ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে এ পূজা করেন ভক্তরা। দুপুরে বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদ। কিন্তু এই আয়োজন কোন ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না।

বাংলাদেশের সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়। সকাল আটটা নাগাদ আশপাশের রাস্তা ছিলো বর্ণিল। ছিলো নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভক্তরা প্রবেশ করেন রামকৃষ্ণ মঠের বিশাল চত্বরে। মূলত ১০টার অনেক আগেই বিশাল মঞ্চ কানায় কানায় পূণ হয়ে যায়। বহু সংখ্য ভক্ত জায়গা না পেয়ে প্যান্ডেলের চারিদিকে অবস্থান নেন। পূজাকে কেন্দ্র করে রামকৃষ্ণ মঠ প্রাঙ্গণ ছিল হিন্দুধর্মাবলম্বী ভক্ত ও অনুসারীদের আগমনে মুখরিত।

এদিন কুমারী পূজার আগে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে মহাঅষ্টমী পূজা শুরু হয়। সকাল ১০টায় হয় পুষ্পাঞ্জলি। হিন্দুশাস্ত্রমতে অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস এই পাঁচ উপকরণে দেওয়া হয় কুমারী পূজা। এই পূজা চলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে। পূজার অর্ঘ্য প্রদানের পর দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য। দেবী মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পরে হয় প্রসাদ বিতরণ। পূজার সময় পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের ফাঁকে ফাঁকে বাজানো হয় ঢাক-ঢোলের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা ও শঙ্খ।

এ সময় ভক্তরা উলুধ্বনি দেন এবং কুমারী দেবী ও দুর্গা দেবীর জয়ধ্বনি করেন। পূজার কার্যক্রম শেষে কুমারী মায়ের নাম জানান রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের অধ্যক্ষ স্বামী পূণাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, এ বছর কুমারী মা হয়েছে ৮ বছরের সংহিতা ভট্টাচার্য। শাস্ত্রমতে এদিন তার নামকরণ করা হয় কুবজিকা। ঢাকার রামপুরার বনশ্রী এলাকায় তাদের বাসা।

স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ আরও বলেন, আমরা নিরাপত্তার বেড়াজালে পূজা করিনি। খুব স্বচ্ছন্দভাবে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূজা করেছি। আমরা কোনো নিরাপত্তার অভাব অনুভব করিনি। খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এখানে কুমারী পূজা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির তথ্য মতে, এ বছর সারাদেশে ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপ ও মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর সারাদেশে ৩২ হাজার ৪০৮টি দুর্গাপূজা হয়েছিল। সেই হিসাবে এবার ৯৪৭টি দুর্গাপূজা কম হচ্ছে। এবারে ঢাকা মহানগরে এবার ২৫২টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর ঢাকা মহানগরে ২৪৮টি পূজার আয়োজন হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঢাকায় বর্ণাঢ্য কুমারী পূজা 

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠে মহাআয়োজনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো কুমারী পূজা। মাতৃরূপে ঈশ্বরের উপাসনা। শুক্রবার মহাঅষ্টমীর এদিনে মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা। সকাল ১০টা নাগাদ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে এ পূজা করেন ভক্তরা। দুপুরে বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদ। কিন্তু এই আয়োজন কোন ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না।

বাংলাদেশের সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়। সকাল আটটা নাগাদ আশপাশের রাস্তা ছিলো বর্ণিল। ছিলো নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভক্তরা প্রবেশ করেন রামকৃষ্ণ মঠের বিশাল চত্বরে। মূলত ১০টার অনেক আগেই বিশাল মঞ্চ কানায় কানায় পূণ হয়ে যায়। বহু সংখ্য ভক্ত জায়গা না পেয়ে প্যান্ডেলের চারিদিকে অবস্থান নেন। পূজাকে কেন্দ্র করে রামকৃষ্ণ মঠ প্রাঙ্গণ ছিল হিন্দুধর্মাবলম্বী ভক্ত ও অনুসারীদের আগমনে মুখরিত।

এদিন কুমারী পূজার আগে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে মহাঅষ্টমী পূজা শুরু হয়। সকাল ১০টায় হয় পুষ্পাঞ্জলি। হিন্দুশাস্ত্রমতে অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস এই পাঁচ উপকরণে দেওয়া হয় কুমারী পূজা। এই পূজা চলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে। পূজার অর্ঘ্য প্রদানের পর দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য। দেবী মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পরে হয় প্রসাদ বিতরণ। পূজার সময় পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের ফাঁকে ফাঁকে বাজানো হয় ঢাক-ঢোলের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা ও শঙ্খ।

এ সময় ভক্তরা উলুধ্বনি দেন এবং কুমারী দেবী ও দুর্গা দেবীর জয়ধ্বনি করেন। পূজার কার্যক্রম শেষে কুমারী মায়ের নাম জানান রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের অধ্যক্ষ স্বামী পূণাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, এ বছর কুমারী মা হয়েছে ৮ বছরের সংহিতা ভট্টাচার্য। শাস্ত্রমতে এদিন তার নামকরণ করা হয় কুবজিকা। ঢাকার রামপুরার বনশ্রী এলাকায় তাদের বাসা।

স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ আরও বলেন, আমরা নিরাপত্তার বেড়াজালে পূজা করিনি। খুব স্বচ্ছন্দভাবে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূজা করেছি। আমরা কোনো নিরাপত্তার অভাব অনুভব করিনি। খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এখানে কুমারী পূজা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির তথ্য মতে, এ বছর সারাদেশে ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপ ও মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর সারাদেশে ৩২ হাজার ৪০৮টি দুর্গাপূজা হয়েছিল। সেই হিসাবে এবার ৯৪৭টি দুর্গাপূজা কম হচ্ছে। এবারে ঢাকা মহানগরে এবার ২৫২টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর ঢাকা মহানগরে ২৪৮টি পূজার আয়োজন হয়।