ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ঢাকায় বর্ণাঢ্য কুমারী পূজা 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪ ৩০১ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠে মহাআয়োজনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো কুমারী পূজা। মাতৃরূপে ঈশ্বরের উপাসনা। শুক্রবার মহাঅষ্টমীর এদিনে মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা। সকাল ১০টা নাগাদ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে এ পূজা করেন ভক্তরা। দুপুরে বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদ। কিন্তু এই আয়োজন কোন ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না।

বাংলাদেশের সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়। সকাল আটটা নাগাদ আশপাশের রাস্তা ছিলো বর্ণিল। ছিলো নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভক্তরা প্রবেশ করেন রামকৃষ্ণ মঠের বিশাল চত্বরে। মূলত ১০টার অনেক আগেই বিশাল মঞ্চ কানায় কানায় পূণ হয়ে যায়। বহু সংখ্য ভক্ত জায়গা না পেয়ে প্যান্ডেলের চারিদিকে অবস্থান নেন। পূজাকে কেন্দ্র করে রামকৃষ্ণ মঠ প্রাঙ্গণ ছিল হিন্দুধর্মাবলম্বী ভক্ত ও অনুসারীদের আগমনে মুখরিত।

এদিন কুমারী পূজার আগে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে মহাঅষ্টমী পূজা শুরু হয়। সকাল ১০টায় হয় পুষ্পাঞ্জলি। হিন্দুশাস্ত্রমতে অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস এই পাঁচ উপকরণে দেওয়া হয় কুমারী পূজা। এই পূজা চলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে। পূজার অর্ঘ্য প্রদানের পর দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য। দেবী মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পরে হয় প্রসাদ বিতরণ। পূজার সময় পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের ফাঁকে ফাঁকে বাজানো হয় ঢাক-ঢোলের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা ও শঙ্খ।

এ সময় ভক্তরা উলুধ্বনি দেন এবং কুমারী দেবী ও দুর্গা দেবীর জয়ধ্বনি করেন। পূজার কার্যক্রম শেষে কুমারী মায়ের নাম জানান রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের অধ্যক্ষ স্বামী পূণাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, এ বছর কুমারী মা হয়েছে ৮ বছরের সংহিতা ভট্টাচার্য। শাস্ত্রমতে এদিন তার নামকরণ করা হয় কুবজিকা। ঢাকার রামপুরার বনশ্রী এলাকায় তাদের বাসা।

স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ আরও বলেন, আমরা নিরাপত্তার বেড়াজালে পূজা করিনি। খুব স্বচ্ছন্দভাবে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূজা করেছি। আমরা কোনো নিরাপত্তার অভাব অনুভব করিনি। খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এখানে কুমারী পূজা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির তথ্য মতে, এ বছর সারাদেশে ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপ ও মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর সারাদেশে ৩২ হাজার ৪০৮টি দুর্গাপূজা হয়েছিল। সেই হিসাবে এবার ৯৪৭টি দুর্গাপূজা কম হচ্ছে। এবারে ঢাকা মহানগরে এবার ২৫২টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর ঢাকা মহানগরে ২৪৮টি পূজার আয়োজন হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঢাকায় বর্ণাঢ্য কুমারী পূজা 

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠে মহাআয়োজনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো কুমারী পূজা। মাতৃরূপে ঈশ্বরের উপাসনা। শুক্রবার মহাঅষ্টমীর এদিনে মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা। সকাল ১০টা নাগাদ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে এ পূজা করেন ভক্তরা। দুপুরে বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদ। কিন্তু এই আয়োজন কোন ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না।

বাংলাদেশের সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়। সকাল আটটা নাগাদ আশপাশের রাস্তা ছিলো বর্ণিল। ছিলো নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভক্তরা প্রবেশ করেন রামকৃষ্ণ মঠের বিশাল চত্বরে। মূলত ১০টার অনেক আগেই বিশাল মঞ্চ কানায় কানায় পূণ হয়ে যায়। বহু সংখ্য ভক্ত জায়গা না পেয়ে প্যান্ডেলের চারিদিকে অবস্থান নেন। পূজাকে কেন্দ্র করে রামকৃষ্ণ মঠ প্রাঙ্গণ ছিল হিন্দুধর্মাবলম্বী ভক্ত ও অনুসারীদের আগমনে মুখরিত।

এদিন কুমারী পূজার আগে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে মহাঅষ্টমী পূজা শুরু হয়। সকাল ১০টায় হয় পুষ্পাঞ্জলি। হিন্দুশাস্ত্রমতে অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস এই পাঁচ উপকরণে দেওয়া হয় কুমারী পূজা। এই পূজা চলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে। পূজার অর্ঘ্য প্রদানের পর দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য। দেবী মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পরে হয় প্রসাদ বিতরণ। পূজার সময় পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের ফাঁকে ফাঁকে বাজানো হয় ঢাক-ঢোলের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা ও শঙ্খ।

এ সময় ভক্তরা উলুধ্বনি দেন এবং কুমারী দেবী ও দুর্গা দেবীর জয়ধ্বনি করেন। পূজার কার্যক্রম শেষে কুমারী মায়ের নাম জানান রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের অধ্যক্ষ স্বামী পূণাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, এ বছর কুমারী মা হয়েছে ৮ বছরের সংহিতা ভট্টাচার্য। শাস্ত্রমতে এদিন তার নামকরণ করা হয় কুবজিকা। ঢাকার রামপুরার বনশ্রী এলাকায় তাদের বাসা।

স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ আরও বলেন, আমরা নিরাপত্তার বেড়াজালে পূজা করিনি। খুব স্বচ্ছন্দভাবে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূজা করেছি। আমরা কোনো নিরাপত্তার অভাব অনুভব করিনি। খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এখানে কুমারী পূজা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির তথ্য মতে, এ বছর সারাদেশে ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপ ও মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর সারাদেশে ৩২ হাজার ৪০৮টি দুর্গাপূজা হয়েছিল। সেই হিসাবে এবার ৯৪৭টি দুর্গাপূজা কম হচ্ছে। এবারে ঢাকা মহানগরে এবার ২৫২টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর ঢাকা মহানগরে ২৪৮টি পূজার আয়োজন হয়।