আজীম হত্যা: মুম্বাই থেকে কসাই গ্রেপ্তার, দিলো খুনের বর্ণনা
- আপডেট সময় : ০২:৪৩:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪ ২১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আজীম হত্যাকাণ্ডে এক কসাইকে মুম্বাই থেকে কসাই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জিহাদ হাওলাদার নামের এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার জিহাদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
সিআইডির তরফে বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ের অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদের বয়স ২৪ বছর। তার বাবার নাম জয়নাল হাওলাদার। বাড়ি খুলনার দীঘলিয়ায়।
খুলনায় খবর নিয়ে জানা গেছে, ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদ হাওলাদার সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম হত্যার ঘটনার ভাড়া করা খুনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী শিমুল ভূঁইয়ার সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার ভারতের পুলিশ এ হত্যার ঘটনায় সিয়াম নামের অপর একজনকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছিল। তবে সিয়াম এখন কাঠমান্ডুতে বলে জানা গেছে। আসলে জিহাদ হাওলাদারকেই তারা সিয়াম বলে মনে করেছিল।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন-অর-শীদ সাংবাদিকদের বলেন, আনোয়ারুল আজীমকে হত্যার পর দেহ খণ্ড খণ্ড করে গুম করা হয়। তার পুরো দেহ না পাওয়া গেলেও খণ্ডিত মরদেহ পাওয়া যাবে মনে করেন তিনি।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের সিআইডির বার্তায় বলা হয়েছে, হত্যার ঘটনার দুই মাস আগে কসাই জিহাদ হাওলাদারকে কলকাতায় নিয়ে আসেন মো. আক্তারুজ্জামান।
কলকাতা সিআইডি বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদ স্বীকার করেছেন, আক্তারুজ্জামানের নির্দেশেই তিনি এবং চার বাংলাদেশি মিলে আনোয়ারুল আজীমকে হত্যা করেন।
সিআইডিকে জিহাদ জানান, আনোয়ারুলকে শ্বাসরোধে খুন করে। মৃতের পরিচয় যাতে চিহ্নিত না হয়, সেজন্য শরীরের হাড় ও মাংস আলাদা করে ফেলে। এরপর হাড় ও মাংস টুকরা টুকরা করে কেটে সবকিছু পলিথিন ব্যাগে ভরে ফ্ল্যাটের বাইরে গিয়ে ফেলে দেন।
গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদ হাওলাদারকে বারাসাত কোর্টে তোলা হবে বলে সিআইডির বার্তায় বলা হয়েছে।
আনোয়ারুল আজীম হত্যার ঘটনায় ভারতের কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খুনের আগে লাশ গুমের পরিকল্পনা সাজায় খুনিরা। এ জন্য তারা ট্রলি ব্যাগ, চাপাতি, ব্লিচিং পাউডার, পলিথিনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে রাখেন।
১৩ মে কলকাতার নিউ টাউন এলাকার সঞ্জিভা গার্ডেনসের ফ্ল্যাটে আজিমকে হত্যার পর লাশ টুকরা টুকরা করে ব্যাগে ভরে সরানো হয়েছে। এর কিছু অংশ কলকাতার একটি খালে ফেলা হয়েছে।
কলকাতার পুলিশ খুনিদের ভাড়া ফ্ল্যাটের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং ঢাকায় গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।




















