ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া ঠেকাতে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নাহিদ রানার ঝড়ো বোলিংয়ে পাকিস্তান পুড়ল, ২০৯ বল বাকি রেখে জয় বাংলাদেশের বড়পুকুরিয়া কয়লার পাহাড়, আগুনে নষ্ট হচ্ছে বিপুল মজুদ সূর্যমুখীর হলুদ হাসিতে ভরেছে টাঙ্গাইলের মাঠ, স্বপ্ন দেখছেন কৃষক ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, শপথ নেবেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার ভোলার চরাঞ্চলে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ: কৃষকের স্বপ্নে অর্থনৈতিক মুক্তির সম্ভাবনা প্রান্তিক নারীদের আয়বৃদ্ধিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিতে হবে: বিএনপিএস নদী ভাঙনের হুমকিতে মধ্যনগরের মহিষখলা জাতীয় স্মৃতিসৌধ ট্রাম্প-পুতিনের ফোন আলোচনা ইরান যুদ্ধ ও তেল বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, ১,৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা বাংলাদেশের

দু’মাস আগেই হিন্দুদের হুমকি দেয় মামুনুলের অনুসারী স্বাধীন মেম্বার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ ২০২১ ৩৩৫ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভাঙা ঘরের দরজা মেরামত করছেন হতদরিদ্র একজন গ্রামবাসী

শাল্লায় হিন্দু গ্রামে হেফাজত নেতার অনুসারীদের হামলা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার একটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এ হামলা পূর্বপরিকল্পিত বলে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পূর্ব শত্রুতার জেরেই হেফাজত নেতা মামুনুল হকের অনুসারী নাচনি চণ্ডিপুর গ্রামের ইউপি সদস্য স্বাধীন মিয়া সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত নোওয়াগাওয়ে এসে হামলা ও লুটপাট করেছে বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে।

তবে এখনো হামলার নেতৃত্বদানকারী স্বাধীন মেম্বরকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় কোন মামলাও দায়ের হয়নি।

বুধবার বিকেলে নোয়াগাও গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গ্রামের বাজার ও গ্রামের প্রবেশ মুখে পুলিশের টহল। র‌্যাব সদস্যরাও টহল দিচ্ছেন। গ্রাম থমথমে। অনেক পরিবারের নারী সদস্যদের বাড়িতে নিয়ে আসেননি স্বজনরা। তবে পুলিশ সুপার গ্রামবাসী যতক্ষণ অনিরাপদ মনে করেছেন ততক্ষণ গ্রামে পুলিশ টহল থাকবে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে গ্রামবাসী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে স্বাধীন মিয়া গত ১৫ মার্চ দিরাইয়ে হেফাজতের সমাবেশ দলবল নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে মামুনুলের সাম্প্রদায়িক বক্তব্যে উৎসাহিত হন স্বাধীন মিয়া ও তার অনুসারীরা।

নোয়াগাও গ্রামবাসী জানান- তাদের গ্রামের পাশের একটি জলমহালের ইজারাদার স্বাধীন মিয়া। তিনি গত জানুয়ারি মাসে জলমহাল নীতিমালা উপেক্ষা করে ওই জলমহালটি সেচে মাছ ধরেন। এতে এলাকার কৃষকদের পানি সেচের সমস্যা দেখা দিলে মামুনুলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টেটাস দেওয়া যুবক গ্রামের ঝুমন দাস আপন স্বাধীন মিয়ার বিরুদ্ধে স্টেটাস দেন ও তার আইনবিরোধী কাজের সমালোচনা করেন।

এতে প্রশাসন জলমহাল নীতিমালা উপেক্ষা করে মৎস্য আহরণ করায় স্বাধীন মিয়াকে আর্থিক জরিমানা করে। এতে ক্ষুব্দ হয়ে স্বাধীন মিয়া আপন দাসসহ গ্রামবাসীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

মুক্তিযোদ্ধা অনিল চন্দ্র দাস বলেন, স্বাধীন মেম্বার জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরায় আমাদের গ্রামের লোকজন বাধা দিয়েছিল। প্রশাসন তাকে আর্থিক জরিমানাও করে। এ ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। সেই ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের গ্রামে হামলা ও লুটপাট করেছে। শাল্লা থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, এ বিষয়টি আমাদের জানা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দু’মাস আগেই হিন্দুদের হুমকি দেয় মামুনুলের অনুসারী স্বাধীন মেম্বার

আপডেট সময় : ১২:৩২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ ২০২১

ভাঙা ঘরের দরজা মেরামত করছেন হতদরিদ্র একজন গ্রামবাসী

শাল্লায় হিন্দু গ্রামে হেফাজত নেতার অনুসারীদের হামলা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার একটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এ হামলা পূর্বপরিকল্পিত বলে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পূর্ব শত্রুতার জেরেই হেফাজত নেতা মামুনুল হকের অনুসারী নাচনি চণ্ডিপুর গ্রামের ইউপি সদস্য স্বাধীন মিয়া সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত নোওয়াগাওয়ে এসে হামলা ও লুটপাট করেছে বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে।

তবে এখনো হামলার নেতৃত্বদানকারী স্বাধীন মেম্বরকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় কোন মামলাও দায়ের হয়নি।

বুধবার বিকেলে নোয়াগাও গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গ্রামের বাজার ও গ্রামের প্রবেশ মুখে পুলিশের টহল। র‌্যাব সদস্যরাও টহল দিচ্ছেন। গ্রাম থমথমে। অনেক পরিবারের নারী সদস্যদের বাড়িতে নিয়ে আসেননি স্বজনরা। তবে পুলিশ সুপার গ্রামবাসী যতক্ষণ অনিরাপদ মনে করেছেন ততক্ষণ গ্রামে পুলিশ টহল থাকবে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে গ্রামবাসী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে স্বাধীন মিয়া গত ১৫ মার্চ দিরাইয়ে হেফাজতের সমাবেশ দলবল নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে মামুনুলের সাম্প্রদায়িক বক্তব্যে উৎসাহিত হন স্বাধীন মিয়া ও তার অনুসারীরা।

নোয়াগাও গ্রামবাসী জানান- তাদের গ্রামের পাশের একটি জলমহালের ইজারাদার স্বাধীন মিয়া। তিনি গত জানুয়ারি মাসে জলমহাল নীতিমালা উপেক্ষা করে ওই জলমহালটি সেচে মাছ ধরেন। এতে এলাকার কৃষকদের পানি সেচের সমস্যা দেখা দিলে মামুনুলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টেটাস দেওয়া যুবক গ্রামের ঝুমন দাস আপন স্বাধীন মিয়ার বিরুদ্ধে স্টেটাস দেন ও তার আইনবিরোধী কাজের সমালোচনা করেন।

এতে প্রশাসন জলমহাল নীতিমালা উপেক্ষা করে মৎস্য আহরণ করায় স্বাধীন মিয়াকে আর্থিক জরিমানা করে। এতে ক্ষুব্দ হয়ে স্বাধীন মিয়া আপন দাসসহ গ্রামবাসীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

মুক্তিযোদ্ধা অনিল চন্দ্র দাস বলেন, স্বাধীন মেম্বার জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরায় আমাদের গ্রামের লোকজন বাধা দিয়েছিল। প্রশাসন তাকে আর্থিক জরিমানাও করে। এ ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। সেই ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের গ্রামে হামলা ও লুটপাট করেছে। শাল্লা থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, এ বিষয়টি আমাদের জানা নেই।