একুশে আগস্ট মামলার রায় কার্যকরে আগামী প্রজন্মের শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি হবে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ অগাস্ট ২০২১ ২০৬ বার পড়া হয়েছে
ইতিহাসের বর্বরতম গ্রেনেড হামলা ফাইল ছবি
২০০৪ সাল। ক্ষমতার মসনদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। সে বছরের ২১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কময়একটি দিন। এদিন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী
সমাবেশে বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা। আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করে হত্যা, ষড়যন্ত্র, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে চিরস্থায়ী করা।
সমাবেশে আসা মানুষ নেই, পরে আছে অসংখ্য সন্ডেল জুতা এবং সঙ্গে গ্রেনেড
‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস’ উপলক্ষে এক বাণীতে এ তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে বলা হয়, একুশে আগস্ট মামলার রায় কার্যকরে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি হবে বাংলাদেশ।
সেদিনের হামলায় তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতাকর্মী নিহত হন। আহত তালিকায় ৫ শতাধিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মী। তাদের অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং অনেকের দেহে স্লিন্টার নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে আমাকে রক্ষা করেন।

গ্রেনেড হামলার পরবর্তী শেখ হাসিনার
একুশে আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট যখনই সরকারে এসেছে, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মদত দিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টা করেছে।
২০০১ সালে নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। একের পর এক বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা চালিয়ে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী
সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায়। এ নারকীয় হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচার করা ছিল সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

সেদিন ভাগ্যজোড়ে বেচে যান আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো হত্যাকারীদের রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা করেছিল। হামলাকারীদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ সব আলামত ধ্বংস করে। তদন্তের নামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে।
রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপব্যবহার করে তারা জনগণকে ধোঁকা দিতে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজায়। কিন্তু সত্য কখনও চাপা থাকেনি। পরবর্তীকালে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসে বিএনপি-জামায়াত জোটের অনেক কুশীলব এ হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।
মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে সরকার প্রধান বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় হয়। আদালত গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে
বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে পলাতক তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন

মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে ১১ আসামির। এই রায়ের মধ্য দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।
বাণীতে শেখ হাসিনা আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সব অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে জনগণ ২০০৮ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ
নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।






















