ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

মধ্যরাতে টাইমস স্কোয়ারে বঙ্গবন্ধু : একাত্তরের ৭ মার্চের জাদুকরি ভাষনে প্রকম্পিত রাতের নিস্তদ্ধতা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২১ ২৮৭ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ব হেরিটেজ ৭১ সালের ৭ মার্চে জাদুকরি ভাষণ। তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া ১৮ মিনিটের এক ভাষণেই বাঙালি জাতি খুঁজে পায় তাদের মুক্তির দিশা। তার সেই ভাষণেই রেসকোর্স ময়দানে বপন করা হয়েছিলো বাঙালি জাতির শৃঙ্খলমুক্তির তথা স্বাধীনতার বীজ। তারপর পৃথিবীকে অবাক করে দেবার রক্তাক্ত ইতিহাস।

বাঙলার সোদামাটি হারিয়ে ফেলে তার নিজস্ব স্বকীয়তা। মাটির গন্ধের পরিবর্তে গলিত মানব দেহের গন্ধ ভাসতে থাকে বাতাসে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর সেই জাদুকরি ভাষণই বেজে ওঠে টাইমস স্কোয়ারে। মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু হাজির টাইমস স্কোয়ারের বিলবোর্ডে। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক

ভাষণ ধ্বনিত হবার সঙ্গে সঙ্গে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে টাইম স্কোয়ারের রাতের নিস্তদ্ধতা।

বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আগেই জানিয়েছিলো এদিনের কর্মসূচির কথা। সেই অনুযায়ী স্থানীয় সময় মধ্যরাত অর্থাৎ জাতীয় শোক দিবসের প্রথম প্রহরে টাইমস স্কোয়ারের বিলবোর্ডে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভেসে উঠায় উৎফুল্ল প্রবাসীরা সমস্বরে স্লোগান ধরেন।

এসময় ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা উপস্থিত ছিলেন।

একাত্তরের ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে ১৮ মিনিটের জাদুকরি সেই ভাষণের অংশবিশেষ ধ্বনিত হয় বিলবোর্ডে। সে সময় আলো ঝলমল টাইমস স্কোয়ার যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল। বিশ্ববরেণ্য নেতার সেই বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও প্রতি দুই মিনিট অন্তর বিলবোর্ডে প্রদর্শিত হচ্ছে ১৫ সেকেন্ড করে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ফাহিম ফিরোজ নামক প্রবাসী এক বাংলাদেশীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘নিউইয়র্ক ড্রিমস’ এ কর্মসূচির উদ্যোক্তা। কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সহায়তা দেয় বিদেমমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। বাংলাদেশের বেশ কটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে স্পন্সর হিসেবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র তথা উত্তর আমেরিকায় এটাই বড় ধরনের একটি কর্মসূচি বলে মনে করছেন প্রবাসীরা। জাতীয় শোক দিবসের শেষ প্রহর পর্যন্ত এই প্রদর্শনী অব্যাহত থাকে। এ উপলক্ষে টাইমস স্কোয়ারে যুক্তরাষ্ট্র

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের একটি ব্যানার ছিল বঙ্গবন্ধুর ঘাতক হিসেবে দণ্ডিত রাশেদ চৌধুরীকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার দাবিতে। ব্যানারের পেছনে ছিলেন ফোবানার চেয়ারপার্সন জাকারিয়া চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়াসহ সংশ্লিষ্টরা। নিউইয়র্ক

অঞ্চলে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদের নেতা-কর্মীদেরও সরব উপস্থিত ছিলো।

এ সময় রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম আয়োজক ‘নিউইয়র্ক ড্রিমস’র মালিক ফাহিম ফিরোজকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, দিবসটি শোকের হলেও জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ জাতির জনকের দেখানো পথে হাঁটছে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অদম্য গতিতে এগুচ্ছে। তাই আমরা বলতে পারি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শোককে বাঙালিরা শক্তিতে

পরিণত করতে। এভাবেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে পারলেই পনের আগষ্টের ঘাতকদের পরাজিত করা সম্ভব হবে এবং এর মধ্যদিয়েই জাতিরজনকের আত্মার প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মধ্যরাতে টাইমস স্কোয়ারে বঙ্গবন্ধু : একাত্তরের ৭ মার্চের জাদুকরি ভাষনে প্রকম্পিত রাতের নিস্তদ্ধতা

আপডেট সময় : ০৪:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২১

বিশ্ব হেরিটেজ ৭১ সালের ৭ মার্চে জাদুকরি ভাষণ। তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া ১৮ মিনিটের এক ভাষণেই বাঙালি জাতি খুঁজে পায় তাদের মুক্তির দিশা। তার সেই ভাষণেই রেসকোর্স ময়দানে বপন করা হয়েছিলো বাঙালি জাতির শৃঙ্খলমুক্তির তথা স্বাধীনতার বীজ। তারপর পৃথিবীকে অবাক করে দেবার রক্তাক্ত ইতিহাস।

বাঙলার সোদামাটি হারিয়ে ফেলে তার নিজস্ব স্বকীয়তা। মাটির গন্ধের পরিবর্তে গলিত মানব দেহের গন্ধ ভাসতে থাকে বাতাসে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর সেই জাদুকরি ভাষণই বেজে ওঠে টাইমস স্কোয়ারে। মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু হাজির টাইমস স্কোয়ারের বিলবোর্ডে। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক

ভাষণ ধ্বনিত হবার সঙ্গে সঙ্গে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে টাইম স্কোয়ারের রাতের নিস্তদ্ধতা।

বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আগেই জানিয়েছিলো এদিনের কর্মসূচির কথা। সেই অনুযায়ী স্থানীয় সময় মধ্যরাত অর্থাৎ জাতীয় শোক দিবসের প্রথম প্রহরে টাইমস স্কোয়ারের বিলবোর্ডে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভেসে উঠায় উৎফুল্ল প্রবাসীরা সমস্বরে স্লোগান ধরেন।

এসময় ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা উপস্থিত ছিলেন।

একাত্তরের ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে ১৮ মিনিটের জাদুকরি সেই ভাষণের অংশবিশেষ ধ্বনিত হয় বিলবোর্ডে। সে সময় আলো ঝলমল টাইমস স্কোয়ার যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল। বিশ্ববরেণ্য নেতার সেই বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও প্রতি দুই মিনিট অন্তর বিলবোর্ডে প্রদর্শিত হচ্ছে ১৫ সেকেন্ড করে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ফাহিম ফিরোজ নামক প্রবাসী এক বাংলাদেশীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘নিউইয়র্ক ড্রিমস’ এ কর্মসূচির উদ্যোক্তা। কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সহায়তা দেয় বিদেমমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। বাংলাদেশের বেশ কটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে স্পন্সর হিসেবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র তথা উত্তর আমেরিকায় এটাই বড় ধরনের একটি কর্মসূচি বলে মনে করছেন প্রবাসীরা। জাতীয় শোক দিবসের শেষ প্রহর পর্যন্ত এই প্রদর্শনী অব্যাহত থাকে। এ উপলক্ষে টাইমস স্কোয়ারে যুক্তরাষ্ট্র

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের একটি ব্যানার ছিল বঙ্গবন্ধুর ঘাতক হিসেবে দণ্ডিত রাশেদ চৌধুরীকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার দাবিতে। ব্যানারের পেছনে ছিলেন ফোবানার চেয়ারপার্সন জাকারিয়া চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়াসহ সংশ্লিষ্টরা। নিউইয়র্ক

অঞ্চলে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদের নেতা-কর্মীদেরও সরব উপস্থিত ছিলো।

এ সময় রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম আয়োজক ‘নিউইয়র্ক ড্রিমস’র মালিক ফাহিম ফিরোজকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, দিবসটি শোকের হলেও জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ জাতির জনকের দেখানো পথে হাঁটছে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অদম্য গতিতে এগুচ্ছে। তাই আমরা বলতে পারি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শোককে বাঙালিরা শক্তিতে

পরিণত করতে। এভাবেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে পারলেই পনের আগষ্টের ঘাতকদের পরাজিত করা সম্ভব হবে এবং এর মধ্যদিয়েই জাতিরজনকের আত্মার প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো হবে।