সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ৩০০ মিটার সড়ক নদীগর্ভে, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ
- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের লামামেউহারী এলাকায় খোরশেদ মিয়ার বাড়ি থেকে আক্কাস মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার সড়কের একাংশ ধসে কংস নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নসহ আশপাশের লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কংস নদীর তীরঘেঁষা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে নদী খনন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই ভাঙনের মুখে পড়ে। পরে ২০১৭ সালের জুনে এডিপির অর্থায়নে মূল সড়ক থেকে কিছুটা উত্তরে ঘুরিয়ে একটি অস্থায়ী মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেই সড়কেরও প্রায় ৩০০ মিটার অংশের এক পাশ নদীতে ধসে পড়ায় বর্ষা মৌসুমে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
এই সড়ক দিয়ে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ও উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দারা জেলা সদরে যাতায়াত করেন। প্রতিদিন প্রায় তিন শতাধিক রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। তবে সড়কটি দিন দিন সরু হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বোরো মৌসুমে হাওর থেকে ধান পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণ, পাকাকরণ ও প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের দাবি জানান।
ইজিবাইকচালক মনু মিয়া জানান, সড়কটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে খালি গাড়ি চালাতেও ভয় লাগে। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম তালুকদার বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু সংস্কার কাজ করলেও তা টেকসই হয়নি। বর্ষার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে লামামেউহারী গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের বসতঘর ও পুরোনো কবরস্থান নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন তালুকদার বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইতোমধ্যে ৮০ মিটার এলাকায় জিও টিউব ও জিও ব্যাগ স্থাপন করা হয়েছে। তবে বরাদ্দ না থাকায় বাকি কাজ করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বলেন, নদী সংরক্ষণ কাজ শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড অনুমতি দিলে এলজিইডি সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু করতে পারবে। ইতোমধ্যে হাওরাঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির পাকাকরণ, মাটি ভরাট ও প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের প্রাক্কলন তৈরি করে প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



















