১ নভেম্বর থেকে পাটের ব্যাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টার
- আপডেট সময় : ১০:০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ২১৬ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
আমরা কোন খাতকে চেপে ধরছি না, সবাইকে সময় দিয়েছি। এতোদিন ব্যবসায়ীরা পাটকে বন্ধ করে প্লাষ্টিকের কারখানা করেছে, সেটা আর হবে না। যেকোন মূল্যে পাটকে এগিয়ে নিতে হবে
গোল্ডেন ফাইবার অফ বাংলাদেশ নামে পাট ভৌগোলিক পণ্য (জিআই) করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। সোনালী আঁশ নিয়ে এখন সময় গর্ব করতেন বাংলাদেশের কৃষক তথা ব্যবসায়ী মহল। আন্তর্জাতিক ভাবেও বাংলাদেশের পাটের সমাদর ছিলো।
কালের পিঠ বেয়ে সেই সোনালী আঁশ আজ বহুবিধ সংকটে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পাটের নানাবিধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে পলিথিনের ব্যবহার। পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
বাংলাদেশে চাল, ডালসহ বিভিন্ন পণ্যে পাটের বস্তা ও ব্যাগ অর্থাৎ পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু আইন হলেও তা বাস্তবায়নের তেমন একটা সুফল পাওয়া যায়নি। বরং পলিথিনের ব্যবহার ভয়াবহরূপ নেয়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণে ১ নভেম্বর থেকে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। অবশ্য পলিথিন বন্ধ নিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা সোচ্চার ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
রবিবার ( ২৭ অক্টোবর) পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ বাস্তবায়ন এবং পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। তাতে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও অংশ নেন।
উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পাটকে জিআই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশে পাটের ব্যাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহজলভ্য হতে হবে। পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলে পাটের কোন সংকট হবে না। পাটের ব্যাগ উৎপাদনে পাট পাওয়া না যায়, প্রয়োজনে রপ্তানী বন্ধ করা হবে।
আমাদের চাহিদা না মিটিয়ে রপ্তানী করবো না। সাধারণ মানুষের পাটের ব্যাগ রাখার অভ্যাস হয়ে যাবে। এই অভ্যাস আগেও ছিল । পাটের ব্যাগ বারবার ব্যবহার করা যাবে।
উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, সবাই পাটের ব্যাগ ব্যবহার নিশ্চিত করুন, কোন সমস্যা হলে সমাধান করা হবে। আমরা কোন খাতকে চেপে ধরছি না, সবাইকে সময় দিয়েছি। এতোদিন ব্যবসায়ীরা পাটকে বন্ধ করে প্লাষ্টিকের কারখানা করেছে সেটা আর হবে না। পাটকে এগিয়ে নিতে হবে।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে পাটের ব্যাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এজন্য নভেম্বরের পর থেকে পাটের ব্যাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত সচিব তাসলিমা কানিজ নাহিদা, অতিরিক্ত সচিব আরিফুর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব সুব্রত শিকদার, অতিরিক্ত সচিব এ.এন.এম মঈনুল ইসলাম।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আব্দুল খালেক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: ছিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়াম্যান মো: রুহুল আমিন খান, বাংলাদেশ জুট মিলস এসোসিয়েশন মহা সচিব আ: বারিক খান ও সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।




















