ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট কী হয়েছিল এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২৭ বার পড়া হয়েছে

১৯৭৩ সালে আরব তেল উৎপাদকেরা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে জ্বালানি তেলের ব্যাপক সংকট দেখা দেয়, ১৯৭৪ সালে জার্মানির রাস্তায়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৯৭০-এর দশকে বিশ্ব এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ছাপ ফেলেছিল। বর্তমানের সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আলোচনায় সেই সময়ের ঘটনাগুলো আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধ, যা অক্টোবর যুদ্ধ বা রমজান যুদ্ধ নামেও পরিচিত, ছিল চতুর্থ আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। ৬ অক্টোবর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে মিশর ও সিরিয়া আকস্মিকভাবে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়।

এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরব তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আরব দেশগুলো শুধু তেল রপ্তানি বন্ধই করেনি, বরং পরিকল্পিতভাবে তেল উৎপাদনও কমিয়ে দেয়। এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় চার গুণ বেড়ে যায়।

জ্বালানি তেলের সেই সংকট চলে দশক জুড়ে, ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্কে এক নারী নিজের গাড়িতে নিজে গ্যাসােলিন ভরছেন
জ্বালানি তেলের সেই সংকট চলে দশক জুড়ে, ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্কে এক নারী নিজের গাড়িতে নিজে গ্যাসােলিন ভরছেন
  • অনেক দেশে জ্বালানি রেশনিং চালু হয়
  • শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়
  • পরিবহন খাতে অচলাবস্থা দেখা দেয়

তেলের উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত বেড়ে যায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ কমাতে বাধ্য হয়, ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।

এই সংকট শুধু অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি করে।

  • বিভিন্ন দেশে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়
  • দারিদ্র্য বাড়ে
  • সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খায়

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে মন্দা দেখা দেয়। এমনকি যুক্তরাজ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ-এর সরকারের পতনের পেছনেও এই সংকট ভূমিকা রাখে।

জ্বালানি তেলের সেই সংকট চলে দশক জুড়ে, ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্কে এক নারী নিজের গাড়িতে নিজে গ্যাসােলিন ভরছেন
জ্বালানি তেলের সেই সংকট চলে দশক জুড়ে, ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্কে এক নারী নিজের গাড়িতে নিজে গ্যাসােলিন ভরছেন

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে আবারও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কিছু দিক থেকে ভিন্ন

  • এখন তেলের বাজার বেশি বৈচিত্র্যময়
  • অনেক দেশের কাছে জরুরি তেল মজুত রয়েছে

জ্বালানির বিকল্প উৎসও বেড়েছে

তবুও ঝুঁকি রয়ে গেছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য, যাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম।

১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট ছিল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল, যা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চলতে থাকলে একই ধরনের বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি আবারও তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংঘাত দ্রুত নিরসন করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। সূত্র বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট কী হয়েছিল এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট সময় : ০৫:২২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

১৯৭০-এর দশকে বিশ্ব এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ছাপ ফেলেছিল। বর্তমানের সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আলোচনায় সেই সময়ের ঘটনাগুলো আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধ, যা অক্টোবর যুদ্ধ বা রমজান যুদ্ধ নামেও পরিচিত, ছিল চতুর্থ আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। ৬ অক্টোবর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে মিশর ও সিরিয়া আকস্মিকভাবে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়।

এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরব তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আরব দেশগুলো শুধু তেল রপ্তানি বন্ধই করেনি, বরং পরিকল্পিতভাবে তেল উৎপাদনও কমিয়ে দেয়। এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় চার গুণ বেড়ে যায়।

জ্বালানি তেলের সেই সংকট চলে দশক জুড়ে, ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্কে এক নারী নিজের গাড়িতে নিজে গ্যাসােলিন ভরছেন
জ্বালানি তেলের সেই সংকট চলে দশক জুড়ে, ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্কে এক নারী নিজের গাড়িতে নিজে গ্যাসােলিন ভরছেন
  • অনেক দেশে জ্বালানি রেশনিং চালু হয়
  • শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়
  • পরিবহন খাতে অচলাবস্থা দেখা দেয়

তেলের উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত বেড়ে যায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ কমাতে বাধ্য হয়, ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।

এই সংকট শুধু অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি করে।

  • বিভিন্ন দেশে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়
  • দারিদ্র্য বাড়ে
  • সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খায়

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে মন্দা দেখা দেয়। এমনকি যুক্তরাজ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ-এর সরকারের পতনের পেছনেও এই সংকট ভূমিকা রাখে।

জ্বালানি তেলের সেই সংকট চলে দশক জুড়ে, ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্কে এক নারী নিজের গাড়িতে নিজে গ্যাসােলিন ভরছেন
জ্বালানি তেলের সেই সংকট চলে দশক জুড়ে, ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্কে এক নারী নিজের গাড়িতে নিজে গ্যাসােলিন ভরছেন

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে আবারও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কিছু দিক থেকে ভিন্ন

  • এখন তেলের বাজার বেশি বৈচিত্র্যময়
  • অনেক দেশের কাছে জরুরি তেল মজুত রয়েছে

জ্বালানির বিকল্প উৎসও বেড়েছে

তবুও ঝুঁকি রয়ে গেছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য, যাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম।

১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট ছিল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল, যা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চলতে থাকলে একই ধরনের বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি আবারও তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংঘাত দ্রুত নিরসন করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। সূত্র বিবিসি