ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল একদিনে রেকর্ড ১,৫৫৮ ভর্তি, মৃত্যু ৪ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে গুরুত্ব

হাম রোধে সাড়ে পাঁচ বছর টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি, মজুত হয় নিটিকাও

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

হাম রোধে সাড়ে পাঁচ বছর টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি, মজুত হয় নিটিকাও

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি এবং টিকার ঘাটতির জন্য পূর্ববর্তী সরকারের তৎপরতার ঘাটতি জাতীয় সংসদে কড়া সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, গত সাড়ে পাঁচ বছরে হামরুবেলা টিকার কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং টিকার যথাযথ মজুত না রাখার কারণে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যার প্রভাব বর্তমানে চোখে পড়ার মতো।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে রংপুর আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের জরুরি নোটিশের জবাবে বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর হামরুবেলা টিকাদান কার্যক্রম হওয়া উচিত হলেও সাড়ে পাঁচ বছর ধরে তা হয়নি। ফলে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। একই সঙ্গে, পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘসূত্রী অদূরদর্শী টিকা সংগ্রহ নীতি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুত সংকটে ফেলে দিয়েছে।

সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে এপ্রিল থেকে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। মন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ১৮টি জেলা ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় মাস থেকে বছরের কম বয়সী ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্যক্রমের প্রথম দিনেই ৭৬ হাজারের মধ্যে ৭৩ হাজার শিশু টিকা পেয়েছে, যা ৯৬ শতাংশ সাফল্য প্রদর্শন করে। ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং মে থেকে দেশের বাকি এলাকায় কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি নিয়েও মন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। রাজশাহীতে আরও ২৫০ শয্যা তৈরি হচ্ছে। আইসিইউ, ভেন্টিলেটর এবং নতুন উদ্ভাবিত অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে শিশুদের চিকিৎসার মান উন্নত করা হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের তদারকি শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা যেমন ইউনিসেফ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। করোনার সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা ব্যবহার করে অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে টিকার কোনো ঘাটতি হবে না।

সরকারের এই পদক্ষেপ শিশুদের জীবন রক্ষায় আশার আলো জাগাচ্ছে, যা পাঁচ বছরের দীর্ঘ ঘাটতির শূন্যস্থান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হাম রোধে সাড়ে পাঁচ বছর টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি, মজুত হয় নিটিকাও

আপডেট সময় : ০৭:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি এবং টিকার ঘাটতির জন্য পূর্ববর্তী সরকারের তৎপরতার ঘাটতি জাতীয় সংসদে কড়া সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, গত সাড়ে পাঁচ বছরে হামরুবেলা টিকার কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং টিকার যথাযথ মজুত না রাখার কারণে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যার প্রভাব বর্তমানে চোখে পড়ার মতো।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে রংপুর আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের জরুরি নোটিশের জবাবে বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর হামরুবেলা টিকাদান কার্যক্রম হওয়া উচিত হলেও সাড়ে পাঁচ বছর ধরে তা হয়নি। ফলে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। একই সঙ্গে, পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘসূত্রী অদূরদর্শী টিকা সংগ্রহ নীতি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুত সংকটে ফেলে দিয়েছে।

সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে এপ্রিল থেকে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। মন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ১৮টি জেলা ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় মাস থেকে বছরের কম বয়সী ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্যক্রমের প্রথম দিনেই ৭৬ হাজারের মধ্যে ৭৩ হাজার শিশু টিকা পেয়েছে, যা ৯৬ শতাংশ সাফল্য প্রদর্শন করে। ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং মে থেকে দেশের বাকি এলাকায় কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি নিয়েও মন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। রাজশাহীতে আরও ২৫০ শয্যা তৈরি হচ্ছে। আইসিইউ, ভেন্টিলেটর এবং নতুন উদ্ভাবিত অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে শিশুদের চিকিৎসার মান উন্নত করা হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের তদারকি শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা যেমন ইউনিসেফ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। করোনার সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা ব্যবহার করে অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে টিকার কোনো ঘাটতি হবে না।

সরকারের এই পদক্ষেপ শিশুদের জীবন রক্ষায় আশার আলো জাগাচ্ছে, যা পাঁচ বছরের দীর্ঘ ঘাটতির শূন্যস্থান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।