ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জব্বারের বলীখেলায় ইতিহাস: হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কা: সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার পূর্বাভাস বিয়াম স্কুলে শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবকদের স্বীকৃতি ও সুরক্ষায় আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উত্তরণ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ২৯ তম বার্ষিক সাধারণ সভা পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সংস্কারে জোর দিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা: নজরদারি বাড়িয়েছে সিটিটিসি নির্বাচনের আগেই অস্থিতিশীলতার ষড়যন্ত্র: জামায়াতকে কড়া জবাব মির্জা ফখরুলের লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে ১৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম

সালকিয়ার নির্ভীক সংঘের মাঠের ‘সবুজের গল্প’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনিরুদ্ধ

শরতের টিকিনিটা খুলে কয়েকটি হাত এগিয়ে আসে। সেই হাতে কচি অথচ গাঢ় সবুজ গাছের চারা। দেখলেই চোখ আটকে যায়। এগুলো নিয়ে তোমরা কোথায় চললে? ধীর কণ্ঠে প্রশ্ন।

উত্তরে প্রথমে স্মিত হাসি, যা কচি গাছের চারার মতোই কোমল। তারপর বললে এগুলো, এই ধরো আম, নিম, পেয়ারা গাছের চারা।

এগুলোকে জলাভূমিতে বা ভাগরে ফেলে দিতে নিয়ে যাচ্ছো! উৎকণ্ঠা ঝরে পড়ে কালের স্বাক্ষীর কণ্ঠে।

না গো, এগুলো লাগাবো। ঐ মাঠের কোনাটার ময়লা আবর্জনা সরিয়ে, সেখানেই রোপন করবো। কেউ না তো কেউ এগুলোর ফল খেতে পারবে।
এবারে পুষ্টিহীন দেহের কালের স্বাক্ষী বললে-বেশ বেশ তাই করো। আমার তো আর আগের মতো শক্তি নেই। থাকলে আমিও তোমাদের সঙ্গী হতাম।
না না তোমাকে যেতে হবে না। তুমি এখান থেকেই কেবল আমাদের উদ্যোগটা দ্যাখো।

না, আমি শুধু দেখবো না-চোয়াল শক্ত হলো কালের স্বাক্ষীর। এই পথে যত লোক যাবে, তাদের সবাইকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেব, ঐ যে মাঠের কোনাটায় একবার তাকাও। গাছের কচি চারাগুলো দেখো। তুমিও সুবিধা মতো যেকোন জায়গায়, দু’টো গাছের চারা রোপন করো।

ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ অক্টোবর আশ্বিন মাস। বর্ষার অবসানে রূপময় বাংলার ঋতু পরিক্রমায় স্নিগ্ধতা, কোমলতা নিয়ে হাজির হয় শরৎকাল। ভাদ্র-আশ্বিন এ দুই মাস শরৎকাল।

ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ, যিনি একজন সফল শিক্ষাবিদ, গবেষক, লেখক, পরিবেশবিদ এবং সংগঠক। যে কলেজের প্রিন্সিপালের গুরু দায়িত্ব পালন করে চলেছেন, সেই শিক্ষাঙ্গনটি সবুজ। চলার পথে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে অনাদরে বেড়ে ওঠে কোন গাছের চারা আলতোভাবে তুলে নেন এবং পরম যত্নে তার কলেজ প্রাঙ্গণে লাগিয়ে দেন।

 

বাড়ির আশপাশে, কোথাও খালি জায়গায় গাছের চারা রোপন এবং পরিবেশ রক্ষায় জোরকদমে কাজ করে চলেছেন। তার ধ্যান-জ্ঞান পরিবেশ-শিক্ষায় মুড়িয়ে আছে। এই শিক্ষাবিদ ও সমাজ চিন্তিক মনে করেন, নদী ভাঙ্গনের মতো আমাদের সমাজে ক্ষয়রোগ বাসা বেধেছে, তা থেকে নিজেদের রক্ষায় গাছ লাগানো এবং পরিবেশ রক্ষার কোন বিকল্প নেই।

তার উদ্যোগেই হাওড়ার সালকিয়া নির্ভীক সংঘের মাঠের আবর্জনা সরিয়ে সেখানে রোপন করেন আম, পেয়ারা আর নিম গাছ। যা কিনা বর্ষার জল পেয়ে দিব্যি তির তিরিয়ে বেড়ে ওঠছে। তাতেই এই পরিবেশবিদের আনন্দ। এই প্রাপ্তি তার মনকে সতেজ করে তোলে। দুচোখ বন্ধ করে তখন প্রাশান্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সালকিয়ার নির্ভীক সংঘের মাঠের ‘সবুজের গল্প’

আপডেট সময় : ০৯:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

অনিরুদ্ধ

শরতের টিকিনিটা খুলে কয়েকটি হাত এগিয়ে আসে। সেই হাতে কচি অথচ গাঢ় সবুজ গাছের চারা। দেখলেই চোখ আটকে যায়। এগুলো নিয়ে তোমরা কোথায় চললে? ধীর কণ্ঠে প্রশ্ন।

উত্তরে প্রথমে স্মিত হাসি, যা কচি গাছের চারার মতোই কোমল। তারপর বললে এগুলো, এই ধরো আম, নিম, পেয়ারা গাছের চারা।

এগুলোকে জলাভূমিতে বা ভাগরে ফেলে দিতে নিয়ে যাচ্ছো! উৎকণ্ঠা ঝরে পড়ে কালের স্বাক্ষীর কণ্ঠে।

না গো, এগুলো লাগাবো। ঐ মাঠের কোনাটার ময়লা আবর্জনা সরিয়ে, সেখানেই রোপন করবো। কেউ না তো কেউ এগুলোর ফল খেতে পারবে।
এবারে পুষ্টিহীন দেহের কালের স্বাক্ষী বললে-বেশ বেশ তাই করো। আমার তো আর আগের মতো শক্তি নেই। থাকলে আমিও তোমাদের সঙ্গী হতাম।
না না তোমাকে যেতে হবে না। তুমি এখান থেকেই কেবল আমাদের উদ্যোগটা দ্যাখো।

না, আমি শুধু দেখবো না-চোয়াল শক্ত হলো কালের স্বাক্ষীর। এই পথে যত লোক যাবে, তাদের সবাইকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেব, ঐ যে মাঠের কোনাটায় একবার তাকাও। গাছের কচি চারাগুলো দেখো। তুমিও সুবিধা মতো যেকোন জায়গায়, দু’টো গাছের চারা রোপন করো।

ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ অক্টোবর আশ্বিন মাস। বর্ষার অবসানে রূপময় বাংলার ঋতু পরিক্রমায় স্নিগ্ধতা, কোমলতা নিয়ে হাজির হয় শরৎকাল। ভাদ্র-আশ্বিন এ দুই মাস শরৎকাল।

ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ, যিনি একজন সফল শিক্ষাবিদ, গবেষক, লেখক, পরিবেশবিদ এবং সংগঠক। যে কলেজের প্রিন্সিপালের গুরু দায়িত্ব পালন করে চলেছেন, সেই শিক্ষাঙ্গনটি সবুজ। চলার পথে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে অনাদরে বেড়ে ওঠে কোন গাছের চারা আলতোভাবে তুলে নেন এবং পরম যত্নে তার কলেজ প্রাঙ্গণে লাগিয়ে দেন।

 

বাড়ির আশপাশে, কোথাও খালি জায়গায় গাছের চারা রোপন এবং পরিবেশ রক্ষায় জোরকদমে কাজ করে চলেছেন। তার ধ্যান-জ্ঞান পরিবেশ-শিক্ষায় মুড়িয়ে আছে। এই শিক্ষাবিদ ও সমাজ চিন্তিক মনে করেন, নদী ভাঙ্গনের মতো আমাদের সমাজে ক্ষয়রোগ বাসা বেধেছে, তা থেকে নিজেদের রক্ষায় গাছ লাগানো এবং পরিবেশ রক্ষার কোন বিকল্প নেই।

তার উদ্যোগেই হাওড়ার সালকিয়া নির্ভীক সংঘের মাঠের আবর্জনা সরিয়ে সেখানে রোপন করেন আম, পেয়ারা আর নিম গাছ। যা কিনা বর্ষার জল পেয়ে দিব্যি তির তিরিয়ে বেড়ে ওঠছে। তাতেই এই পরিবেশবিদের আনন্দ। এই প্রাপ্তি তার মনকে সতেজ করে তোলে। দুচোখ বন্ধ করে তখন প্রাশান্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।