মা ইলিশ রক্ষায় সাগর-নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু
- আপডেট সময় : ০৫:৩২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
মা ইলিশের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে সাগর ও নদ-নদীতে ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে সাগর, নদ-নদী ও সুন্দরবনের নদ-নদীতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাত করা নিষিদ্ধ থাকবে।
ডিমওয়ালা মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজননের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য বিভাগ, বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও নৌপুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান ও টহল পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযানের সঙ্গে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুদ বা বাজারজাত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সাগর ও নদীতে থাকা অনেক ইলিশ জেলে তীরে ফিরে এসেছেন। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় তাদের জীবিকা নিয়ে তৈরি হয় বাড়তি চাপ।
মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
তিনি জানান, মোংলা উপজেলায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে ইলিশ জেলের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। তবে সরকারি খাদ্য সহায়তার আওতায় থাকবেন নিবন্ধিত প্রায় সাড়ে ১১শ জেলে পরিবার।
মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মতে, মা ইলিশ রক্ষা এবং জাটকা সংরক্ষণ ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন বাড়ানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সময় কিছু অসাধু জেলে নদী ও সাগরে ইলিশ শিকার অব্যাহত রাখায় প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে জাটকা নিধনও ইলিশের প্রজনন ও ভবিষ্যৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু মাছ ব্যবসায়ীদের ছত্রছায়ায় নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ ও জাটকা শিকারের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে নদ-নদীর প্রত্যন্ত এলাকায় নজরদারির সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মাছ ধরার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
মৎস্যসংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বিচারে মা ইলিশ ও জাটকা নিধন, নদীর পরিবেশগত পরিবর্তন, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং প্রজনন মৌসুমে যথাযথভাবে ইলিশের বিচরণক্ষেত্র সুরক্ষিত না হওয়ায় ইলিশের প্রজনন ও আহরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ধরে রাখতে শুধু ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাই নয়, সারা বছর জাটকা সংরক্ষণ, অবৈধ জাল নির্মূল এবং প্রভাবশালী ও অসাধু মাছ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি।
জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে নদী ও সাগরে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত জেলেদের সরকারি সহায়তার আওতায় এনে তাদের জীবিকা নিশ্চিত করা গেলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে অবৈধভাবে মাছ ধরার প্রবণতা কমবে। এর মাধ্যমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও আহরণ বাড়ানোর পথও সুগম হবে।




















