সংঘাতের আগে হরমুজ ত্যাগ করা জ্বালানিবাহী ১৫ জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছাতে শুরু করেছে
- আপডেট সময় : ০১:৪২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যুদ্ধের প্রভাবে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্ন ঘটে। এর জেরে বাহরাইন, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংগ্রহ করতে দিন-রাত ভিড় করতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে।
তবে যুদ্ধ শুরুর আগেই জ্বালানি তেলবোঝাই ১৫টি বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি ত্যাগ করে নিরাপদে রওনা দেয়। এর মধ্যে কয়েকটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকি জাহাজগুলোও পর্যায়ক্রমে বন্দরে ভিড়তে শুরু করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আগেই হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর অতিক্রম করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়া ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকি ৩টি এই সপ্তাহে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে আসা এসব জাহাজের মধ্যে ৪টিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), ২টিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং ৯টিতে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পর হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যায়। ফলে বিশ্বে তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। আরও তিনটি জাহাজ—‘লুসাইল’, ‘আল গালায়েল’ ও ‘সেভান’—পর্যায়ক্রমে বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চারটি এলএনজি জাহাজে মোট প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন গ্যাস রয়েছে। এসব জাহাজ কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে সংঘাত শুরুর দুই থেকে সাত দিন আগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানান, চারটি জাহাজের বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবে ‘লিবারেল’ নামে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে রয়েছে এবং প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে। পরবর্তী চালানগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া ওমানের সোহার বন্দর থেকে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি নিয়ে ‘সেভান’ নামে একটি জাহাজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামে আরেকটি জাহাজ ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। দুটি জাহাজে প্রায় ৩৫ হাজার টন এলপিজি রয়েছে।
এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম ও চুনাপাথরসহ প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন পণ্যবাহী জাহাজও চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। তবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে নতুন জাহাজ আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।



















