ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা সিনিয়রে আনসার, জুনিয়রে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানীতে কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান অনিশ্চয়তায় অমর একুশে বইমেলা, পহেলা ফেব্রুয়ারিতে একদিনের প্রতীকী আয়োজন দেশপ্রেমের নামে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করছে তারা: চরমোনাই পীর ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য: সড়কে  বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্র কারখানায় সেনা অভিযান, একাধিক সরঞ্জাম উদ্ধার পশ্চিমবঙ্গের মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে গেল বাংলাদেশি জাহাজ, উদ্ধার ১২ জন অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের কামড়ে আহত কিশোরের মৃত্যু বাংলাদেশ ক্রিকেট ইস্যুতে মন্তব্যের পর ভারতে মুসলিম অভিনেতা কেআরকের গ্রেফতার, বিতর্ক তুঙ্গে

শেষ মুর্হূতেও ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০২৪ ২৪৪ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

শেষ সময়েও আরও রক্তপাতের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পদত্যাগের আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছিলেন শেখ হাসিনা। পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেটা কিছুতেই মানতে রাজি ছিলেন হাসিনা।

সূত্রের খবর, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তিন বাহিনীর প্রধান ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ডাকা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী কেন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না, সেটার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসিনা।

আন্দোলনকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁজোয়া যানে ওঠে লাল রং দিয়ে দিচ্ছেন, সামরিক যানে পর্যন্ত উঠে পড়ছেন এর পরও কেন তারা কঠোর হচ্ছে না, সেটা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশ্বাস করে কর্মকর্তাদের শীর্ষ পদে বসিয়েছেন সেটাও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় শেখ হাসিনা আইজিপিকে দেখিয়ে বলেন, পুলিশ তো ভালো করছে। তখন আইজিপি জানান, পরিস্থিতি যে পর্যায়ে গেছে, তাতে পুলিশের পক্ষেও আর বেশি সময় এ রকম কঠোর অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

দলীয় অস্ত্রধারী কর্মীদের নামিয়ে রবিবার দিনভর সারা দেশে ব্যাপক সংঘাত ও প্রাণহানি ঘটানোর পরও ছাত্র-জনতার আন্দোলন সামাল দিতে পারেননি শেখ হাসিনা। বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে রোববার রাতেই শেখ হাসিনাকে তার একজন উপদেষ্টাসহ কয়েকজন নেতা বোঝানোর চেষ্টা করেন।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের তরফে থেকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, বল প্রয়োগ করে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। কিন্তু শেখ হাসিনা সেটা মানতে চাচ্ছিলেন না। তখন কর্মকর্তারা শেখ রেহানার সঙ্গে আরেক কক্ষে আলোচনা করেন। তাকে পরিস্থিতি জানিয়ে শেখ হাসিনাকে বোঝাতে অনুরোধ করেন। শেখ রেহানা এরপর বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেন।

কিন্তু তিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে বিদেশে থাকা ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন এক শীর্ষ কর্মকর্তা। এরপর জয় তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর শেখ হাসিনা পদত্যাগে রাজি হন। তিনি তখন একটা ভাষণ রেকর্ড করতে চান জাতির উদ্দেশে প্রচারের জন্য।

ততক্ষণে গোয়েন্দা তথ্য আসে যে বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা শাহবাগ ও উত্তরা থেকে গণভবন অভিমুখে রওনা হয়েছে। শাহবাগ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে গণভবনে আন্দোলনকারীরা চলে আসতে পারে এই আশঙ্কায় ভাষণ রেকর্ড করতে দিলে গণভবন থেকে বের হওয়ার সময় না-ও পাওয়া যেতে পারে।

এরপর ছোট বোন রেহানাকে নিয়ে তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দরে হেলিপ্যাডে আসেন শেখ হাসিনা। সেখানে তাদের কয়েকটি লাগেজ ওঠানো হয়। তারপর তারা বঙ্গভবনে যান। সেখানে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বেলা আড়াইটার দিকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে ছোট বোনসহ ভারতের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেন শেখ হাসিনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শেষ মুর্হূতেও ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ১১:১৫:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০২৪

 

শেষ সময়েও আরও রক্তপাতের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পদত্যাগের আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছিলেন শেখ হাসিনা। পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেটা কিছুতেই মানতে রাজি ছিলেন হাসিনা।

সূত্রের খবর, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তিন বাহিনীর প্রধান ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ডাকা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী কেন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না, সেটার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসিনা।

আন্দোলনকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁজোয়া যানে ওঠে লাল রং দিয়ে দিচ্ছেন, সামরিক যানে পর্যন্ত উঠে পড়ছেন এর পরও কেন তারা কঠোর হচ্ছে না, সেটা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশ্বাস করে কর্মকর্তাদের শীর্ষ পদে বসিয়েছেন সেটাও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় শেখ হাসিনা আইজিপিকে দেখিয়ে বলেন, পুলিশ তো ভালো করছে। তখন আইজিপি জানান, পরিস্থিতি যে পর্যায়ে গেছে, তাতে পুলিশের পক্ষেও আর বেশি সময় এ রকম কঠোর অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

দলীয় অস্ত্রধারী কর্মীদের নামিয়ে রবিবার দিনভর সারা দেশে ব্যাপক সংঘাত ও প্রাণহানি ঘটানোর পরও ছাত্র-জনতার আন্দোলন সামাল দিতে পারেননি শেখ হাসিনা। বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে রোববার রাতেই শেখ হাসিনাকে তার একজন উপদেষ্টাসহ কয়েকজন নেতা বোঝানোর চেষ্টা করেন।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের তরফে থেকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, বল প্রয়োগ করে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। কিন্তু শেখ হাসিনা সেটা মানতে চাচ্ছিলেন না। তখন কর্মকর্তারা শেখ রেহানার সঙ্গে আরেক কক্ষে আলোচনা করেন। তাকে পরিস্থিতি জানিয়ে শেখ হাসিনাকে বোঝাতে অনুরোধ করেন। শেখ রেহানা এরপর বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেন।

কিন্তু তিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে বিদেশে থাকা ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন এক শীর্ষ কর্মকর্তা। এরপর জয় তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর শেখ হাসিনা পদত্যাগে রাজি হন। তিনি তখন একটা ভাষণ রেকর্ড করতে চান জাতির উদ্দেশে প্রচারের জন্য।

ততক্ষণে গোয়েন্দা তথ্য আসে যে বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা শাহবাগ ও উত্তরা থেকে গণভবন অভিমুখে রওনা হয়েছে। শাহবাগ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে গণভবনে আন্দোলনকারীরা চলে আসতে পারে এই আশঙ্কায় ভাষণ রেকর্ড করতে দিলে গণভবন থেকে বের হওয়ার সময় না-ও পাওয়া যেতে পারে।

এরপর ছোট বোন রেহানাকে নিয়ে তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দরে হেলিপ্যাডে আসেন শেখ হাসিনা। সেখানে তাদের কয়েকটি লাগেজ ওঠানো হয়। তারপর তারা বঙ্গভবনে যান। সেখানে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বেলা আড়াইটার দিকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে ছোট বোনসহ ভারতের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেন শেখ হাসিনা।