ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একুশে পদক-এর মঞ্চে সংস্কৃতির দীপ্ত উচ্চারণ

রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তন যেন রূপ নিয়েছিল স্মৃতি, শ্রদ্ধা আর সৃজনশীলতার এক আলোকিত প্রাঙ্গণে। ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের ইতিহাসকে বুকে ধারণ করে সেখানে অনুষ্ঠিত হলো একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্প, সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার পবিত্র অঙ্গনকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার দৃঢ় আহ্বান জানান।

ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মমর্যাদার পুনর্জাগরণ, শেকড়ে ফেরার আহ্বান।

প্রধানমন্ত্রী  বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না। জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং মতপ্রকাশের মর্যাদা, এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে উদার ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। তাঁর ভাষায়, একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করে তার চিন্তার স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির বিকাশের ওপর।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে, যিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেন। তিনি বলেন, এ পদক কেবল সম্মাননা নয়,  এটি ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও জাতির আত্মপরিচয়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী
একুশে পদক তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ছবি সংগ্রহ

১৯৭৬ সালে সীমিত পরিসরে শুরু হলেও আজ তা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত, যা জাতির বোধ ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিধির প্রসারের প্রতীক।

ফেব্রুয়ারির মাহাত্ম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণস্পন্দন। এটি যেমন মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদেরও দীপ্ত স্মারক। তাই ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মমর্যাদার পুনর্জাগরণ, শেকড়ে ফেরার আহ্বান।

এ বছর একুশে পদকে ভূষিত গুণীজনদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের কর্মময় জীবন জাতির অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের সৃজনশীল যাত্রা আরও দীর্ঘ ও আলোকিত হোক, এই প্রার্থনাই রইল।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বসাহিত্যের আকাশে নিজস্ব দীপ্তিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্ত, মানবিক ও সৃজনমুখর বাংলাদেশের প্রত্যয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একুশে পদক-এর মঞ্চে সংস্কৃতির দীপ্ত উচ্চারণ

রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তন যেন রূপ নিয়েছিল স্মৃতি, শ্রদ্ধা আর সৃজনশীলতার এক আলোকিত প্রাঙ্গণে। ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের ইতিহাসকে বুকে ধারণ করে সেখানে অনুষ্ঠিত হলো একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্প, সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার পবিত্র অঙ্গনকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার দৃঢ় আহ্বান জানান।

ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মমর্যাদার পুনর্জাগরণ, শেকড়ে ফেরার আহ্বান।

প্রধানমন্ত্রী  বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না। জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং মতপ্রকাশের মর্যাদা, এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে উদার ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। তাঁর ভাষায়, একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করে তার চিন্তার স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির বিকাশের ওপর।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে, যিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেন। তিনি বলেন, এ পদক কেবল সম্মাননা নয়,  এটি ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও জাতির আত্মপরিচয়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী
একুশে পদক তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ছবি সংগ্রহ

১৯৭৬ সালে সীমিত পরিসরে শুরু হলেও আজ তা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত, যা জাতির বোধ ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিধির প্রসারের প্রতীক।

ফেব্রুয়ারির মাহাত্ম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণস্পন্দন। এটি যেমন মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদেরও দীপ্ত স্মারক। তাই ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মমর্যাদার পুনর্জাগরণ, শেকড়ে ফেরার আহ্বান।

এ বছর একুশে পদকে ভূষিত গুণীজনদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের কর্মময় জীবন জাতির অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের সৃজনশীল যাত্রা আরও দীর্ঘ ও আলোকিত হোক, এই প্রার্থনাই রইল।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বসাহিত্যের আকাশে নিজস্ব দীপ্তিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্ত, মানবিক ও সৃজনমুখর বাংলাদেশের প্রত্যয়।