ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে ১৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম লাইনে দাঁড়িয়ে স্বস্তি: অল্প সময়েই তেল পেলেন বাইকচালক মোহাম্মদ আলী দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে

শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একুশে পদক-এর মঞ্চে সংস্কৃতির দীপ্ত উচ্চারণ

রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তন যেন রূপ নিয়েছিল স্মৃতি, শ্রদ্ধা আর সৃজনশীলতার এক আলোকিত প্রাঙ্গণে। ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের ইতিহাসকে বুকে ধারণ করে সেখানে অনুষ্ঠিত হলো একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্প, সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার পবিত্র অঙ্গনকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার দৃঢ় আহ্বান জানান।

ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মমর্যাদার পুনর্জাগরণ, শেকড়ে ফেরার আহ্বান।

প্রধানমন্ত্রী  বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না। জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং মতপ্রকাশের মর্যাদা, এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে উদার ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। তাঁর ভাষায়, একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করে তার চিন্তার স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির বিকাশের ওপর।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে, যিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেন। তিনি বলেন, এ পদক কেবল সম্মাননা নয়,  এটি ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও জাতির আত্মপরিচয়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী
একুশে পদক তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ছবি সংগ্রহ

১৯৭৬ সালে সীমিত পরিসরে শুরু হলেও আজ তা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত, যা জাতির বোধ ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিধির প্রসারের প্রতীক।

ফেব্রুয়ারির মাহাত্ম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণস্পন্দন। এটি যেমন মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদেরও দীপ্ত স্মারক। তাই ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মমর্যাদার পুনর্জাগরণ, শেকড়ে ফেরার আহ্বান।

এ বছর একুশে পদকে ভূষিত গুণীজনদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের কর্মময় জীবন জাতির অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের সৃজনশীল যাত্রা আরও দীর্ঘ ও আলোকিত হোক, এই প্রার্থনাই রইল।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বসাহিত্যের আকাশে নিজস্ব দীপ্তিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্ত, মানবিক ও সৃজনমুখর বাংলাদেশের প্রত্যয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একুশে পদক-এর মঞ্চে সংস্কৃতির দীপ্ত উচ্চারণ

রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তন যেন রূপ নিয়েছিল স্মৃতি, শ্রদ্ধা আর সৃজনশীলতার এক আলোকিত প্রাঙ্গণে। ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের ইতিহাসকে বুকে ধারণ করে সেখানে অনুষ্ঠিত হলো একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্প, সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার পবিত্র অঙ্গনকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার দৃঢ় আহ্বান জানান।

ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মমর্যাদার পুনর্জাগরণ, শেকড়ে ফেরার আহ্বান।

প্রধানমন্ত্রী  বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না। জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং মতপ্রকাশের মর্যাদা, এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে উদার ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। তাঁর ভাষায়, একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করে তার চিন্তার স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির বিকাশের ওপর।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে, যিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেন। তিনি বলেন, এ পদক কেবল সম্মাননা নয়,  এটি ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও জাতির আত্মপরিচয়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী
একুশে পদক তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ছবি সংগ্রহ

১৯৭৬ সালে সীমিত পরিসরে শুরু হলেও আজ তা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত, যা জাতির বোধ ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিধির প্রসারের প্রতীক।

ফেব্রুয়ারির মাহাত্ম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণস্পন্দন। এটি যেমন মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদেরও দীপ্ত স্মারক। তাই ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মমর্যাদার পুনর্জাগরণ, শেকড়ে ফেরার আহ্বান।

এ বছর একুশে পদকে ভূষিত গুণীজনদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের কর্মময় জীবন জাতির অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের সৃজনশীল যাত্রা আরও দীর্ঘ ও আলোকিত হোক, এই প্রার্থনাই রইল।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বসাহিত্যের আকাশে নিজস্ব দীপ্তিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্ত, মানবিক ও সৃজনমুখর বাংলাদেশের প্রত্যয়।