ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের  শ্রদ্ধা

ভয়েস রিপোর্ট, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ ২৪০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকাপঞ্চাশতম বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতি অবনত মস্তকে স্মরণ করছে তার অকুতোভয় সন্তানদের। শীতের তোয়াক্কা না করে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে কাতারে কাতারে মানুষ ছুটে আসেন রায়েরবাজার ও মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে রায়েরবাজার ও মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতি বেদি। মন্ত্রীপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সামাজিক-সাংস্তকৃতিক সংগঠন সর্বস্তরের মানুষ প্রাণের টানে ছুটে আসেন। আবেগ তাড়িত হয়ে ছুটে অনেক মুক্তিযোদ্ধা। রায়ের বাজারে প্রতীকি বদ্ধভূমি ঘিরে দেখা যায় উৎসুখ জনতার ভীড়। দেশের প্রাচীন শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর এই ব্যতিক্রমী আযোজক।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। বাংলাদেশে বিজয় অর্জনের ঠিক দু’দিন বাকী। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী সমন্বয়ে বীর যোদ্ধারা দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে ঢাকা অভিমুখে। দেশের বিভিন্ন স্থান হানাদার মুক্ত। জয়বাংলা ধ্বনির সঙ্গে ওড়ানো হচ্ছে লালসবুজে খচিত পতাকা। বিজয়ের এই চূড়ান্ত মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যি কদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে চোখ বেঁধে নিয়ে তাদের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে।

স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত হয়। ঢাকার রায়েরবাজার ও মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গণকবরে তাদের মৃতদেহ মেলে। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর নিকট আত্মীয়রা মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ছুটে আসে এবং স্বজনের মৃতদেহ সনাক্ত করেন।

সেদিন রায়েরবাজার বদ্ধভূমি থেকে একের পর এক মরদেহ তুলে দিয়েছিলেন রবিউল আলম। আজ তিনি বয়োবৃদ্ধ। ৫০টি বছর রবিউল কেঁদে চলেছেন একটি বট গাছ রক্ষার জন্য। রায়ের বাজারের এই বটগাছে ঝুলিয়ে সেদিন বুদ্ধিজীবীদের বেয়নট চার্জ করে এবং অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে কুখ্যাত পাকিস্তানি বাহিনী। রাতের নিঃস্তব্ধা ভেঙ্গে খান খান হয়ে যেতো বুদ্ধিজীবীদের আর্তচিৎকালে। ঘরে থেকে রবিউল তখন চোখের জলে বুক ভাসাতেন।

৭১ সালের গণহত্যা আন্তর্জাতিক তথা রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন সেক্টর কমান্ডার ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবিব। রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে প্রবেশ পথেই চোখে বদ্ধভূমি। চারিদি মানুষ ঘিরে আছে। এলোপাতাড়ি নারী-পুরুষে মরদেহ। একটু দূরে নির্যাতিতা এক নারী। যিনি বাকরুদ্ধ। এটি প্রতীকি বদ্ধভূমি।

শিশু-কিশোর সংগটন খেলাঘর এর আয়োজক। এর পাশে বুদ্ধিজীবীদের ছবির প্রদর্শনীও। আগামী প্রজন্মকে বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃসংশতা জানান দিতেই এই আয়োজন বলে জানালেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক প্রণয় সাহা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত সময়কালে যেসব বাঙালি সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, রাজনীতিক, সমাজসেবী, সংস্কৃতিসেবী, চলচ্চিত্র, নাটক ও সংগীতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং এর ফলে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীদের হাতে শহীদ কিংবা এ সময়ে চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁরাই শহীদ বুদ্ধিজীবী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের  শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ১০:৩৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১

ঢাকাপঞ্চাশতম বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতি অবনত মস্তকে স্মরণ করছে তার অকুতোভয় সন্তানদের। শীতের তোয়াক্কা না করে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে কাতারে কাতারে মানুষ ছুটে আসেন রায়েরবাজার ও মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে রায়েরবাজার ও মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতি বেদি। মন্ত্রীপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সামাজিক-সাংস্তকৃতিক সংগঠন সর্বস্তরের মানুষ প্রাণের টানে ছুটে আসেন। আবেগ তাড়িত হয়ে ছুটে অনেক মুক্তিযোদ্ধা। রায়ের বাজারে প্রতীকি বদ্ধভূমি ঘিরে দেখা যায় উৎসুখ জনতার ভীড়। দেশের প্রাচীন শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর এই ব্যতিক্রমী আযোজক।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। বাংলাদেশে বিজয় অর্জনের ঠিক দু’দিন বাকী। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী সমন্বয়ে বীর যোদ্ধারা দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে ঢাকা অভিমুখে। দেশের বিভিন্ন স্থান হানাদার মুক্ত। জয়বাংলা ধ্বনির সঙ্গে ওড়ানো হচ্ছে লালসবুজে খচিত পতাকা। বিজয়ের এই চূড়ান্ত মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যি কদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে চোখ বেঁধে নিয়ে তাদের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে।

স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত হয়। ঢাকার রায়েরবাজার ও মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গণকবরে তাদের মৃতদেহ মেলে। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর নিকট আত্মীয়রা মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ছুটে আসে এবং স্বজনের মৃতদেহ সনাক্ত করেন।

সেদিন রায়েরবাজার বদ্ধভূমি থেকে একের পর এক মরদেহ তুলে দিয়েছিলেন রবিউল আলম। আজ তিনি বয়োবৃদ্ধ। ৫০টি বছর রবিউল কেঁদে চলেছেন একটি বট গাছ রক্ষার জন্য। রায়ের বাজারের এই বটগাছে ঝুলিয়ে সেদিন বুদ্ধিজীবীদের বেয়নট চার্জ করে এবং অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে কুখ্যাত পাকিস্তানি বাহিনী। রাতের নিঃস্তব্ধা ভেঙ্গে খান খান হয়ে যেতো বুদ্ধিজীবীদের আর্তচিৎকালে। ঘরে থেকে রবিউল তখন চোখের জলে বুক ভাসাতেন।

৭১ সালের গণহত্যা আন্তর্জাতিক তথা রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন সেক্টর কমান্ডার ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবিব। রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে প্রবেশ পথেই চোখে বদ্ধভূমি। চারিদি মানুষ ঘিরে আছে। এলোপাতাড়ি নারী-পুরুষে মরদেহ। একটু দূরে নির্যাতিতা এক নারী। যিনি বাকরুদ্ধ। এটি প্রতীকি বদ্ধভূমি।

শিশু-কিশোর সংগটন খেলাঘর এর আয়োজক। এর পাশে বুদ্ধিজীবীদের ছবির প্রদর্শনীও। আগামী প্রজন্মকে বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃসংশতা জানান দিতেই এই আয়োজন বলে জানালেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক প্রণয় সাহা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত সময়কালে যেসব বাঙালি সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, রাজনীতিক, সমাজসেবী, সংস্কৃতিসেবী, চলচ্চিত্র, নাটক ও সংগীতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং এর ফলে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীদের হাতে শহীদ কিংবা এ সময়ে চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁরাই শহীদ বুদ্ধিজীবী।