ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তারল্য  সকট মোকাবিলায় ২,৫০০ কোটি টাকার ঋণ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক  অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হত্যার অভিযোগে স্বামী কারাগারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, ঘোষণা পাকিস্তানের সমর্থক ভাইয়ারা না থাকলে ঘটনা অন্য রকম হয়ে যেতো: নাঈম হাসান আদ্-দ্বীনের কোটি টাকার চাপ উপেক্ষা করে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গুণীজনদের জীবদ্দশায় সম্মান জানালে সমাজসেবায় উৎসাহ বাড়বে: কৃষিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর শনিবার, উন্নয়ন প্রত্যাশায় মুখিয়ে স্থানীয়রা যৌথ টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সম্মত বিজিবি-বিএসএফ, নভেম্বরে ঢাকায় পরবর্তী বৈঠক

লঞ্চের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গায় বাল্কহেড ডুবে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

লঞ্চের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গায় বাল্কহেড ডুবে দুই শ্রমিকের মৃত্যু: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বুড়িগঙ্গা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় মাটি বোঝাই একটি বাল্কহেড ডুবে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার ধর্মগঞ্জ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘কাশফা স্নেহা’ নামের বাল্কহেডটি ধর্মগঞ্জের আফসার ফিলিং স্টেশনের সামনে নদীর তীরে নোঙর করা ছিল। সকাল সাতটার দিকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘সুন্দরবন–১৬’ বাল্কহেডটির পেছনের অংশে (কেবিন সাইডে) সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাল্কহেডটি দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। ধাক্কা দিয়েই লঞ্চটি ঢাকার দিকে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

দুর্ঘটনার সময় বাল্কহেডের ওপর থাকা তিনজন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কেবিনে ঘুমিয়ে থাকা দুই শ্রমিক নিখোঁজ হন। পরে সন্ধ্যার দিকে উদ্ধারকারী দল বাল্কহেডের ইঞ্জিনরুম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার চরগরবদী এলাকার আমির হাওলাদারের ছেলে জহুরুল ইসলাম শাকিল (২৫) এবং ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মো. হাসান (২০)। তারা দুজনই বাল্কহেডের লস্কর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএর সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক কামরুল হাসান জানান, লঞ্চের ধাক্কায় ইঞ্জিনরুমটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডুবুরিদের ভেতরে প্রবেশে জটিলতা তৈরি হয়। পরে ফ্লোটিং এক্সক্যাভেটর দিয়ে প্রবেশপথ ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পাগলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকিবুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় আর কেউ নিখোঁজ নেই এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ‘সুন্দরবন–১৬’ লঞ্চটি আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

স্থানীয়দের ধারণা, ঘন কুয়াশার কারণেই চালক নোঙর করা বাল্কহেডটি দেখতে পাননি, যার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লঞ্চের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গায় বাল্কহেড ডুবে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৯:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

বুড়িগঙ্গা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় মাটি বোঝাই একটি বাল্কহেড ডুবে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার ধর্মগঞ্জ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘কাশফা স্নেহা’ নামের বাল্কহেডটি ধর্মগঞ্জের আফসার ফিলিং স্টেশনের সামনে নদীর তীরে নোঙর করা ছিল। সকাল সাতটার দিকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘সুন্দরবন–১৬’ বাল্কহেডটির পেছনের অংশে (কেবিন সাইডে) সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাল্কহেডটি দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। ধাক্কা দিয়েই লঞ্চটি ঢাকার দিকে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

দুর্ঘটনার সময় বাল্কহেডের ওপর থাকা তিনজন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কেবিনে ঘুমিয়ে থাকা দুই শ্রমিক নিখোঁজ হন। পরে সন্ধ্যার দিকে উদ্ধারকারী দল বাল্কহেডের ইঞ্জিনরুম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার চরগরবদী এলাকার আমির হাওলাদারের ছেলে জহুরুল ইসলাম শাকিল (২৫) এবং ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মো. হাসান (২০)। তারা দুজনই বাল্কহেডের লস্কর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএর সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক কামরুল হাসান জানান, লঞ্চের ধাক্কায় ইঞ্জিনরুমটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডুবুরিদের ভেতরে প্রবেশে জটিলতা তৈরি হয়। পরে ফ্লোটিং এক্সক্যাভেটর দিয়ে প্রবেশপথ ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পাগলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকিবুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় আর কেউ নিখোঁজ নেই এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ‘সুন্দরবন–১৬’ লঞ্চটি আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

স্থানীয়দের ধারণা, ঘন কুয়াশার কারণেই চালক নোঙর করা বাল্কহেডটি দেখতে পাননি, যার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।