ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

রাজধানীতে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একাধিক মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সরকার দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ৫.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সূত্রে জানা যায়, কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি এলাকায়।

ভূমিকম্পটি মাঝারি মাত্রার হলেও রাজধানী ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। দেশটি ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে হওয়ায় মাঝেমধ্যে কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি না থাকায় সচেতনতা, প্রস্তুতি ও দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এই প্রেক্ষাপটে রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের জানান, রাজধানী ঢাকায় ১ লাখ দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “ঢাকা অত্যন্ত জনবহুল ও অপরিকল্পিত নগরী। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাই আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করা জরুরি।”

ত্রাণমন্ত্রী আরও জানান, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে রাজধানীর খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও বিভিন্ন স্কুলকে প্রাথমিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের ভূমিকম্পের পরপরই যাতে মানুষকে খোলা জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা, উদ্ধার কৌশল, অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা ও দুর্যোগ-পরবর্তী সমন্বয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত মহড়া আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আগামী ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ত্রাণমন্ত্রী। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর অপরিকল্পিত ভবন, সরু সড়ক ও অতিরিক্ত জনঘনত্ব বড় ধরনের ভূমিকম্পে ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, পুরোনো ভবনের কাঠামোগত ঝুঁকি নিরূপণ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করাও জরুরি।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে সরকারের এই প্রস্তুতি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কার্যকর বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজধানী কতটা প্রস্তুত।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজধানীতে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০২:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একাধিক মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সরকার দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ৫.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সূত্রে জানা যায়, কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি এলাকায়।

ভূমিকম্পটি মাঝারি মাত্রার হলেও রাজধানী ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। দেশটি ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে হওয়ায় মাঝেমধ্যে কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি না থাকায় সচেতনতা, প্রস্তুতি ও দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এই প্রেক্ষাপটে রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের জানান, রাজধানী ঢাকায় ১ লাখ দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “ঢাকা অত্যন্ত জনবহুল ও অপরিকল্পিত নগরী। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাই আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করা জরুরি।”

ত্রাণমন্ত্রী আরও জানান, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে রাজধানীর খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও বিভিন্ন স্কুলকে প্রাথমিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের ভূমিকম্পের পরপরই যাতে মানুষকে খোলা জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা, উদ্ধার কৌশল, অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা ও দুর্যোগ-পরবর্তী সমন্বয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত মহড়া আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আগামী ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ত্রাণমন্ত্রী। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর অপরিকল্পিত ভবন, সরু সড়ক ও অতিরিক্ত জনঘনত্ব বড় ধরনের ভূমিকম্পে ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, পুরোনো ভবনের কাঠামোগত ঝুঁকি নিরূপণ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করাও জরুরি।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে সরকারের এই প্রস্তুতি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কার্যকর বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজধানী কতটা প্রস্তুত।