ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

যেকোনো রক্তের গ্রুপে প্রতিস্থাপনযোগ্য ইউনিভার্সাল কিডনি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫ ৪২৬ বার পড়া হয়েছে

যেকোনো রক্তের গ্রুপে প্রতিস্থাপনযোগ্য ইউনিভার্সাল কিডনি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ এক দশকের গবেষণার পর অবশেষে বিজ্ঞানীরা কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন। কানাডা ও চীনের গবেষকরা যৌথভাবে এমন এক ধরনের কিডনি তৈরি করেছেন, যা যেকোনো রক্তের গ্রুপের মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হতে পারে। এই ‘ইউনিভার্সাল কিডনি’ প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করা গেলে কিডনি প্রতিস্থাপনের দীর্ঘ অপেক্ষার সময় অনেকটাই কমে যাবে এবং অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তিতে বিশেষ কিছু এনজাইম ব্যবহার করে কিডনি থেকে রক্তের গ্রুপ নির্ধারক অ্যান্টিজেন সরিয়ে ফেলা যায়। সাধারণত রক্তের গ্রুপ নির্ভর করে লাল রক্তকণিকার গায়ে থাকা অ্যান্টিজেন নামের বিশেষ চিহ্নের উপর। শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভিন্ন রক্তের অ্যান্টিজেন শনাক্ত করলেই সেটিকে আক্রমণ করে, যার ফলে ভিন্ন গ্রুপের অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

নতুন এই পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা এনজাইমকে অণু-স্তরের ‘কাঁচি’র মতো ব্যবহার করেছেন, যা টাইপ A রক্তের কিডনি থেকে অ্যান্টিজেন কেটে সরিয়ে দেয়। এতে কিডনিটি টাইপ O রক্তের মতো হয়ে যায়—যা সবার শরীরে মানিয়ে নিতে সক্ষম।

যেকোনো রক্তের গ্রুপে প্রতিস্থাপনযোগ্য ইউনিভার্সাল কিডনি
যেকোনো রক্তের গ্রুপে প্রতিস্থাপনযোগ্য ইউনিভার্সাল কিডনি

যদিও পরীক্ষামূলকভাবে এই কিডনি একজন মস্তিষ্ক-মৃত ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং তৃতীয় দিনে কিছু অ্যান্টিজেন পুনরায় তৈরি হওয়ার লক্ষণ দেখা গেছে, তবে শরীরের প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া ছিল খুবই সীমিত। গবেষকরা বলছেন, এটি ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন রোগী কিডনি না পেয়ে মারা যান, যাদের বেশিরভাগই টাইপ O কিডনির অপেক্ষায় থাকেন। তাই বিজ্ঞানীদের আশা, এই ‘ইউনিভার্সাল কিডনি’ প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জগতে এটি হবে এক নতুন যুগের সূচনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যেকোনো রক্তের গ্রুপে প্রতিস্থাপনযোগ্য ইউনিভার্সাল কিডনি

আপডেট সময় : ০৮:০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘ এক দশকের গবেষণার পর অবশেষে বিজ্ঞানীরা কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন। কানাডা ও চীনের গবেষকরা যৌথভাবে এমন এক ধরনের কিডনি তৈরি করেছেন, যা যেকোনো রক্তের গ্রুপের মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হতে পারে। এই ‘ইউনিভার্সাল কিডনি’ প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করা গেলে কিডনি প্রতিস্থাপনের দীর্ঘ অপেক্ষার সময় অনেকটাই কমে যাবে এবং অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তিতে বিশেষ কিছু এনজাইম ব্যবহার করে কিডনি থেকে রক্তের গ্রুপ নির্ধারক অ্যান্টিজেন সরিয়ে ফেলা যায়। সাধারণত রক্তের গ্রুপ নির্ভর করে লাল রক্তকণিকার গায়ে থাকা অ্যান্টিজেন নামের বিশেষ চিহ্নের উপর। শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভিন্ন রক্তের অ্যান্টিজেন শনাক্ত করলেই সেটিকে আক্রমণ করে, যার ফলে ভিন্ন গ্রুপের অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

নতুন এই পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা এনজাইমকে অণু-স্তরের ‘কাঁচি’র মতো ব্যবহার করেছেন, যা টাইপ A রক্তের কিডনি থেকে অ্যান্টিজেন কেটে সরিয়ে দেয়। এতে কিডনিটি টাইপ O রক্তের মতো হয়ে যায়—যা সবার শরীরে মানিয়ে নিতে সক্ষম।

যেকোনো রক্তের গ্রুপে প্রতিস্থাপনযোগ্য ইউনিভার্সাল কিডনি
যেকোনো রক্তের গ্রুপে প্রতিস্থাপনযোগ্য ইউনিভার্সাল কিডনি

যদিও পরীক্ষামূলকভাবে এই কিডনি একজন মস্তিষ্ক-মৃত ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং তৃতীয় দিনে কিছু অ্যান্টিজেন পুনরায় তৈরি হওয়ার লক্ষণ দেখা গেছে, তবে শরীরের প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া ছিল খুবই সীমিত। গবেষকরা বলছেন, এটি ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন রোগী কিডনি না পেয়ে মারা যান, যাদের বেশিরভাগই টাইপ O কিডনির অপেক্ষায় থাকেন। তাই বিজ্ঞানীদের আশা, এই ‘ইউনিভার্সাল কিডনি’ প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জগতে এটি হবে এক নতুন যুগের সূচনা।