ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্ব

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ১২১ বার পড়া হয়েছে

গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্বকমিশন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্বমানবাধিকার কমিশন
গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্বকমিশন

সরকার আলাদা করে গুম কমিশন গঠন করছে না; এ দায়িত্ব পালন করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫”-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের আগের মানবাধিকার কমিশনটি ছিল প্রায় দন্তহীন একটি প্রতিষ্ঠান। নিয়োগ পদ্ধতি ও এখতিয়ারে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। নতুন অধ্যাদেশে আমরা সেটিকে একটি ক্ষমতাসম্পন্ন, কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছি, যাতে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে প্রকৃত ভূমিকা রাখতে পারে।”

তিনি জানান, নতুন অধ্যাদেশে মানবাধিকারের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করে বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিল ও প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত অধিকারসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সংবিধানের মৌলিক অধিকারের বাইরেও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির আওতাভুক্ত অধিকার প্রয়োগে কমিশন ভূমিকা রাখতে পারবে।

কমিশনটি গঠিত হবে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়ে। চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগের জন্য আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই কমিটি গণবিজ্ঞপ্তি ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করবে।

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপরও কমিশনের তদন্ত ও পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, “গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষাসংক্রান্ত আইনের মূল দায়িত্বও মানবাধিকার কমিশনই পালন করবে। আলাদা করে গুম কমিশন করার প্রয়োজন নেই—এ বিধান নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, গুম সংক্রান্ত আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও হয়নি, তবে আগামী সপ্তাহেই তা সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্ব

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্বমানবাধিকার কমিশন
গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্বকমিশন

সরকার আলাদা করে গুম কমিশন গঠন করছে না; এ দায়িত্ব পালন করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫”-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের আগের মানবাধিকার কমিশনটি ছিল প্রায় দন্তহীন একটি প্রতিষ্ঠান। নিয়োগ পদ্ধতি ও এখতিয়ারে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। নতুন অধ্যাদেশে আমরা সেটিকে একটি ক্ষমতাসম্পন্ন, কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছি, যাতে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে প্রকৃত ভূমিকা রাখতে পারে।”

তিনি জানান, নতুন অধ্যাদেশে মানবাধিকারের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করে বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিল ও প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত অধিকারসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সংবিধানের মৌলিক অধিকারের বাইরেও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির আওতাভুক্ত অধিকার প্রয়োগে কমিশন ভূমিকা রাখতে পারবে।

কমিশনটি গঠিত হবে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়ে। চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগের জন্য আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই কমিটি গণবিজ্ঞপ্তি ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করবে।

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপরও কমিশনের তদন্ত ও পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, “গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষাসংক্রান্ত আইনের মূল দায়িত্বও মানবাধিকার কমিশনই পালন করবে। আলাদা করে গুম কমিশন করার প্রয়োজন নেই—এ বিধান নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, গুম সংক্রান্ত আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও হয়নি, তবে আগামী সপ্তাহেই তা সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।