ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁস চক্রের এক শিক্ষক ও ৬ চিকিৎসক গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮৪ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা ও ৬ চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া মুন্নুর কাছে থেকে উদ্ধার হওয়া গোপন ডায়েরি থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা চক্রের সদস্যদের সন্ধান পাওয়া যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অন্যতম মূল হোতাসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো শিক্ষিকা মাকসুদা আক্তার মালা (৫২), ডা. কে এম বশিরুল হক (৪৮), অনিমেষ কুমার কুন্ডু (৩৩), জাকিয়া ফারইভা ইভানা, সাবরিনা নুসরাত রেজা টুসী (২৫), জাকারিয়া আশরাফ (২৬) ও মৈত্রী সাহা (২৭)।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতারদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে সিআইডি প্রধান জানান, গ্রেফতার হওয়া মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা মাকসুদা আক্তার মালা ২০১৫ সালে নিজের মেয়ে ইকরাসহ আরও ৭ জন শিক্ষার্থীকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছেন।

এ ছাড়া গ্রেফতার ডা. কে এম বশিরুল হক থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারের পরিচালক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িত ছিলেন। প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছেন।

গ্রেফতার একাধিক আসামির সিআরপিসি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডা. বশিরুল হকের নাম রয়েছে। এ ছাড়াও প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীমের গোপন ডায়েরিতেও নাম রয়েছে।

গ্রেফতার ডা. অনিমেষ কুমার কুন্ডু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার। ২০১৫ সালে ১০ শিক্ষার্থীকে ফাঁসকৃত প্রশ্ন পড়িয়েছেন।

এদের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন মেডিকেলে ভর্তি হয়। গ্রেফতার জাকিয়া ফারইভা ইভানা ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ডা. ইভানা ২০০৬-০৭ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় ৬০তম স্থান অর্জন করেন।

মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অন্যতম মূল হোতা ডা. ময়েজ উদ্দিন আহমেদ প্রধানের কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়।

এ ছাড়া সাবরিনা নুসরাত রেজা টুসী (২৫) রংপুর মেডিকেল কলেজের ২০১৫-১৬ সেশনের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ডা. অনিমেষের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।

গ্রেফতার জাকারিয়া আশরাফ (২৬) ও মৈত্রী সাহা (২৭) ২০১৫-১৬ সেশনের ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। এ দুজনও অভিযুক্ত ডা. অনিমেষের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন।

আসামিদের মিরপুর মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৮টি মোবাইল, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৩০ জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ১২ চিকিৎসকসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার টিম।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১০ জন মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেফতারদের কাছে থেকে মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্য ও মেডিকেল প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া অসংখ্যা শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁস চক্রের এক শিক্ষক ও ৬ চিকিৎসক গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা ও ৬ চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া মুন্নুর কাছে থেকে উদ্ধার হওয়া গোপন ডায়েরি থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা চক্রের সদস্যদের সন্ধান পাওয়া যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অন্যতম মূল হোতাসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো শিক্ষিকা মাকসুদা আক্তার মালা (৫২), ডা. কে এম বশিরুল হক (৪৮), অনিমেষ কুমার কুন্ডু (৩৩), জাকিয়া ফারইভা ইভানা, সাবরিনা নুসরাত রেজা টুসী (২৫), জাকারিয়া আশরাফ (২৬) ও মৈত্রী সাহা (২৭)।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতারদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে সিআইডি প্রধান জানান, গ্রেফতার হওয়া মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা মাকসুদা আক্তার মালা ২০১৫ সালে নিজের মেয়ে ইকরাসহ আরও ৭ জন শিক্ষার্থীকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছেন।

এ ছাড়া গ্রেফতার ডা. কে এম বশিরুল হক থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারের পরিচালক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িত ছিলেন। প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছেন।

গ্রেফতার একাধিক আসামির সিআরপিসি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডা. বশিরুল হকের নাম রয়েছে। এ ছাড়াও প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীমের গোপন ডায়েরিতেও নাম রয়েছে।

গ্রেফতার ডা. অনিমেষ কুমার কুন্ডু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার। ২০১৫ সালে ১০ শিক্ষার্থীকে ফাঁসকৃত প্রশ্ন পড়িয়েছেন।

এদের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন মেডিকেলে ভর্তি হয়। গ্রেফতার জাকিয়া ফারইভা ইভানা ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ডা. ইভানা ২০০৬-০৭ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় ৬০তম স্থান অর্জন করেন।

মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অন্যতম মূল হোতা ডা. ময়েজ উদ্দিন আহমেদ প্রধানের কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়।

এ ছাড়া সাবরিনা নুসরাত রেজা টুসী (২৫) রংপুর মেডিকেল কলেজের ২০১৫-১৬ সেশনের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ডা. অনিমেষের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।

গ্রেফতার জাকারিয়া আশরাফ (২৬) ও মৈত্রী সাহা (২৭) ২০১৫-১৬ সেশনের ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। এ দুজনও অভিযুক্ত ডা. অনিমেষের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন।

আসামিদের মিরপুর মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৮টি মোবাইল, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৩০ জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ১২ চিকিৎসকসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার টিম।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১০ জন মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেফতারদের কাছে থেকে মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্য ও মেডিকেল প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া অসংখ্যা শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া যায়।