ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমঝোতা না হলে ইরানে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের দেশ গঠনে নাগরিক দায়িত্ব আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঈদের টানা সাতদিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত ঢাকায় পশু কোরবানি ৭লাখ: সাভার ট্যানারী পল্লীতে চামড়া  ঢুকেছে সোয়া ৫ লাখ প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে  ৪১৯ জন হজযাত্রী ঢাকায় পৌঁছেছেন চামড়া: অর্থনীতিতে আয়ের উৎস, সেই মূল্যবান সম্পদের এমন অর্থহীন পরিণতি! সড়ক নয়, যেন মৃত্যুর উপত্যকা! লোবানের গন্ধে ফিকে ঈদের আনন্দ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে  উল্লেখযোগ্য পতন, কেন? ঈদুল আজহায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণকে নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা দেশজুড়ে উৎসবের আমেজে উদযাপিত পবিত্র ঈদুল আজহা

অভিযোগ: মার্কিন বাহিনীর গতিবিধির তথ্য ইরানের কাছে বিক্রি করছে  চীনা কোম্পানি!

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন বাহিনীর গতিবিধির তথ্য ইরানের কাছে বিক্রি করছে  চীনা কোম্পানি!

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু চীনা বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর গতিবিধি বিশ্লেষণ করে সেই তথ্য ইরানের কাছে বিক্রি করছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান দাবি করেছে, তারা একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে।

এমনকি মার্কিন রণতরীতেও হামলার কথাও জানিয়েছে তারা। সর্বশেষ, একটি ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে যাওয়া হেলিকপ্টার ও বিমান ধ্বংসের দাবিও করেছে ইরানি বাহিনী।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করে ভাইরাল হয়ে ওঠে কিছু পোস্ট।

এসব পোস্টে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সরঞ্জাম, বিমানবাহী রণতরীর গতিবিধি এবং তেহরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব তথ্যের উৎস চীনের দ্রুত বিকাশমান একটি বেসরকারি গোয়েন্দা তথ্যের বাজার। এখানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উন্মুক্ত তথ্য (ওপেন-সোর্স ডেটা) ব্যবহার করে সামরিক গতিবিধি বিশ্লেষণ করে এবং তা বিক্রি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

যদিও বেইজিং সরাসরি ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে, তবুও ‘সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন’ কৌশলের আওতায় গত কয়েক বছরে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে।

হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান “মিজারভিশন” (মিজারভিশন), যা ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত, পশ্চিমা ও চীনা বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে এআই-এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ চালায়।

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির কার্যক্রম, নৌবাহিনীর গতিবিধি এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম।

তাদের মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর আগেই তারা মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের সমাবেশ, যেমন দুটি রণতরী বহরের অগ্রযাত্রা, চিহ্নিত করেছিল।

এছাড়া তারা ইসরায়েল, সৌদি আরব এবং কাতারের বিভিন্ন ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও ধরন সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, আরেকটি চীনা প্রতিষ্ঠান “জিং’আন টেকনোলজি” দাবি করেছে, তারা অপারেশন শুরুর সময় দুইটি মার্কিন বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমানের মধ্যে যোগাযোগ রেকর্ড করতে সক্ষম হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তারা সেই তথ্য মুছে ফেলে।

তবে এসব দাবির বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা অতিরঞ্জিত হতে পারে এবং এখনো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেলথ যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রবেশ করা সম্ভব নয়।

সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ডেনিস ওয়াইল্ডার বলেন, চীনের গোয়েন্দা খাতে চাপ থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেখাতে পারে।

তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাদের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক প্রযুক্তিকে সামরিক নজরদারির কাজে ব্যবহার করা ভবিষ্যতে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চীনের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করছে—যেখানে সরকার সরাসরি জড়িত না থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারে এবং প্রয়োজনে দায় এড়াতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরান ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তবে বেইজিং এখনো সরাসরি সংঘাতে জড়ায়নি।

বরং তারা সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা ইরানকে কিছু গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন করছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অভিযোগ: মার্কিন বাহিনীর গতিবিধির তথ্য ইরানের কাছে বিক্রি করছে  চীনা কোম্পানি!

আপডেট সময় : ০৭:০৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু চীনা বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর গতিবিধি বিশ্লেষণ করে সেই তথ্য ইরানের কাছে বিক্রি করছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান দাবি করেছে, তারা একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে।

এমনকি মার্কিন রণতরীতেও হামলার কথাও জানিয়েছে তারা। সর্বশেষ, একটি ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে যাওয়া হেলিকপ্টার ও বিমান ধ্বংসের দাবিও করেছে ইরানি বাহিনী।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করে ভাইরাল হয়ে ওঠে কিছু পোস্ট।

এসব পোস্টে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সরঞ্জাম, বিমানবাহী রণতরীর গতিবিধি এবং তেহরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব তথ্যের উৎস চীনের দ্রুত বিকাশমান একটি বেসরকারি গোয়েন্দা তথ্যের বাজার। এখানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উন্মুক্ত তথ্য (ওপেন-সোর্স ডেটা) ব্যবহার করে সামরিক গতিবিধি বিশ্লেষণ করে এবং তা বিক্রি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

যদিও বেইজিং সরাসরি ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে, তবুও ‘সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন’ কৌশলের আওতায় গত কয়েক বছরে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে।

হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান “মিজারভিশন” (মিজারভিশন), যা ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত, পশ্চিমা ও চীনা বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে এআই-এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ চালায়।

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির কার্যক্রম, নৌবাহিনীর গতিবিধি এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম।

তাদের মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর আগেই তারা মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের সমাবেশ, যেমন দুটি রণতরী বহরের অগ্রযাত্রা, চিহ্নিত করেছিল।

এছাড়া তারা ইসরায়েল, সৌদি আরব এবং কাতারের বিভিন্ন ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও ধরন সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, আরেকটি চীনা প্রতিষ্ঠান “জিং’আন টেকনোলজি” দাবি করেছে, তারা অপারেশন শুরুর সময় দুইটি মার্কিন বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমানের মধ্যে যোগাযোগ রেকর্ড করতে সক্ষম হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তারা সেই তথ্য মুছে ফেলে।

তবে এসব দাবির বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা অতিরঞ্জিত হতে পারে এবং এখনো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেলথ যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রবেশ করা সম্ভব নয়।

সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ডেনিস ওয়াইল্ডার বলেন, চীনের গোয়েন্দা খাতে চাপ থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেখাতে পারে।

তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাদের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক প্রযুক্তিকে সামরিক নজরদারির কাজে ব্যবহার করা ভবিষ্যতে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চীনের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করছে—যেখানে সরকার সরাসরি জড়িত না থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারে এবং প্রয়োজনে দায় এড়াতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরান ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তবে বেইজিং এখনো সরাসরি সংঘাতে জড়ায়নি।

বরং তারা সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা ইরানকে কিছু গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন করছে।