ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনের আগেই অস্থিতিশীলতার ষড়যন্ত্র: জামায়াতকে কড়া জবাব মির্জা ফখরুলের লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে ১৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম লাইনে দাঁড়িয়ে স্বস্তি: অল্প সময়েই তেল পেলেন বাইকচালক মোহাম্মদ আলী দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি

ভারতের কারাগারে বন্দী পি কে হালদারের কুমিরের খামার বিক্রি করে আংশিক ঋণ আদায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

সময়টা ২০০৩ সাল। ঢাকা থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার উত্তরে ময়মনসিহ জেলার ভালুকায় ১৩ দশমিক ৮ একর জমির নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম কুমির খামার করে আলোচনায় আসেন লেখক ও উদ্যোক্তা মুশতাক আহমেদ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হওয়ার হয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে মারা যান।

খামারটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল কুমিরের চামড়া রপ্তানি করা। ২০০৪ সালে রেপটাইলস ফার্মটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন পায়। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত সমমূলধন সহায়তা তহবিল বা ইইএফ থেকে ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ পায় খামারটি। এ বিনিয়োগের বিপরীতে খামারটির ৪৯ শতাংশ মালিকানা পায় ইইএফ।

আর বাকি ৫১ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ৩৬ শতাংশ শেয়ার ছিল মেজবাহুল হকের ও ১৫ শতাংশ মুশতাক আহমেদের। প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ছিল পাঁচ কোটি টাকা।

পি কে হালদার

 

২০১৩ সালে মুশতাক আহমেদের কাছ থেকে খামারটি কিনে নেন আলোচিত পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা। এরপর খামার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ৫৭ কোটি টাকা ঋণ নেন পি কে হালদার। জামানত হিসেবে খামারের জমি বন্ধক রাখা হয়।

২০১৯ সালে পি কে হালদার পালিয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ে। পি কে হালদার ভারতে আটকের পর হাইকোর্ট রেপটাইলস ফার্ম পরিচালনার জন্য ৬ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করে দেয়। এরপর খামারটি পরিচালনা ও টিকিয়ে রাখতে আরও ঋণ দেয় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

চলতি বছর নানা প্রক্রিয়া শেষে ঋণের টাকা আদায়ে খামারটি নিলামে তোলে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। জানা গেছে, নিলামে বেসরকারি সংস্থা উদ্দীপন ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং সি পার্ল সুন্দরবন ইকো রিসোর্ট ৩০ কোটি ১১ লাখ টাকা দাম প্রস্তাব করে। এ ছাড়া আরও দুটি প্রতিষ্ঠান ৩০ কোটি ও ২৮ কোটি টাকা দাম প্রস্তাব করলেও তাদের প্রতিনিধি নিলামের দিন উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো পে-অর্ডারও জমা দেননি।

রেপটাইলস ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আবু সাইম মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০৭টি কুমিরের চামড়া জাপানে রপ্তানি করা হয়েছে। প্রতিটি কুমিরের চামড়ার আন্তর্জাতিক বিক্রয়মূল্য ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার। ২০০৪ সালে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা ৭৫টি কুমির নিয়ে যাত্রা শুরু হয় খামারটির। খামারটিতে বর্তমানে কুমিরের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০টি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারতের কারাগারে বন্দী পি কে হালদারের কুমিরের খামার বিক্রি করে আংশিক ঋণ আদায়

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

সময়টা ২০০৩ সাল। ঢাকা থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার উত্তরে ময়মনসিহ জেলার ভালুকায় ১৩ দশমিক ৮ একর জমির নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম কুমির খামার করে আলোচনায় আসেন লেখক ও উদ্যোক্তা মুশতাক আহমেদ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হওয়ার হয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে মারা যান।

খামারটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল কুমিরের চামড়া রপ্তানি করা। ২০০৪ সালে রেপটাইলস ফার্মটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন পায়। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত সমমূলধন সহায়তা তহবিল বা ইইএফ থেকে ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ পায় খামারটি। এ বিনিয়োগের বিপরীতে খামারটির ৪৯ শতাংশ মালিকানা পায় ইইএফ।

আর বাকি ৫১ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ৩৬ শতাংশ শেয়ার ছিল মেজবাহুল হকের ও ১৫ শতাংশ মুশতাক আহমেদের। প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ছিল পাঁচ কোটি টাকা।

পি কে হালদার

 

২০১৩ সালে মুশতাক আহমেদের কাছ থেকে খামারটি কিনে নেন আলোচিত পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা। এরপর খামার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ৫৭ কোটি টাকা ঋণ নেন পি কে হালদার। জামানত হিসেবে খামারের জমি বন্ধক রাখা হয়।

২০১৯ সালে পি কে হালদার পালিয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ে। পি কে হালদার ভারতে আটকের পর হাইকোর্ট রেপটাইলস ফার্ম পরিচালনার জন্য ৬ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করে দেয়। এরপর খামারটি পরিচালনা ও টিকিয়ে রাখতে আরও ঋণ দেয় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

চলতি বছর নানা প্রক্রিয়া শেষে ঋণের টাকা আদায়ে খামারটি নিলামে তোলে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। জানা গেছে, নিলামে বেসরকারি সংস্থা উদ্দীপন ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং সি পার্ল সুন্দরবন ইকো রিসোর্ট ৩০ কোটি ১১ লাখ টাকা দাম প্রস্তাব করে। এ ছাড়া আরও দুটি প্রতিষ্ঠান ৩০ কোটি ও ২৮ কোটি টাকা দাম প্রস্তাব করলেও তাদের প্রতিনিধি নিলামের দিন উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো পে-অর্ডারও জমা দেননি।

রেপটাইলস ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আবু সাইম মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০৭টি কুমিরের চামড়া জাপানে রপ্তানি করা হয়েছে। প্রতিটি কুমিরের চামড়ার আন্তর্জাতিক বিক্রয়মূল্য ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার। ২০০৪ সালে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা ৭৫টি কুমির নিয়ে যাত্রা শুরু হয় খামারটির। খামারটিতে বর্তমানে কুমিরের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০টি।