ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারে ১০ দিনের আল্টিমেটাম ক্র্যাবের কফির উৎপাদন বাড়লেও চাষ ও বাজারজাতকরণে সংকট শাশ্বতী গুহ’র কবিতা ‘আজও আমার কিছু বলার ছিল’ দখল-ভাঙচুরে ছাড় নয়, জাইমার নিয়োগেও সম্পৃক্ততা নেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর সার্বিক পরিবেশ ইতিবাচক প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা  মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপসের দাবি, এমপি নজরুলের জামিন নামঞ্জুর  হরমুজ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের

ঢাকার যানজট-কর্মঘণ্টা নষ্টের উৎস ব্যাটারি রিকশার চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে উদ্যোগ ডিএসসিসির

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

ব্যাটারি রিকশার চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে উদ্যোগ ডিএসসিসির

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানী ঢাকায় ১০ থেকে ১২ লাখ ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা চলাচল করছে।  প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে এগুলোর বেপরোয়া চলাচলে তীব্র যানজট ও মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটছে। যদিও কম সময়ে যাতায়াতের জন্য অনেক যাত্রী এটি পছন্দ করেন, তবে নিয়ন্ত্রণহীন এই বাহন এখন নগরবাসীর জন্য বড় একটি উদ্বেগের বিষয়।

রাজধানী ঢাকার যানজট দিন দিন নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে। যানজটের পেছনে নানা কারণ থাকলেও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার ব্যাপক চলাচল অনেক সড়কে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সংকীর্ণ সড়কে বেপরোয়া চলাচল, উল্টো পথে যাওয়া, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্বল্প দূরত্বের যাত্রাতেও অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনতে অঞ্চলভিত্তিক চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা ওই এলাকার মধ্যেই চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে দিন ও সড়কভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। লাইসেন্স ও নিবন্ধনের আওতায় এনে রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথাও বলা হয়েছে।

যানজটের অর্থনৈতিক ক্ষতি অত্যন্ত ব্যাপক। প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ যানজটে আটকে মূল্যবান কর্মঘণ্টা হারাচ্ছেন। পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় লাগায় ব্যবসা ও সরবরাহব্যবস্থায় ব্যয় বাড়ছে। গণপরিবহনের গতি কমে যাওয়ায় একই সময়ে কমসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ব্যক্তি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

যানজটের প্রভাব শুধু অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার ফলে মানুষের মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও উদ্বেগ বাড়ে। একই সঙ্গে যানবাহনের ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের মধ্যে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয়। শব্দদূষণও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের জন্য দূষিত পরিবেশ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে শুধু ব্যাটারিচালিত রিকশাকে যানজটের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখলে সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব নয়। সড়কের অপরিকল্পিত ব্যবহার, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র বাস থামানো, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পথচারীদের অনিয়মও যানজট বাড়ায়। তাই রিকশা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি গণপরিবহন, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচল, নিবন্ধন ও লাইসেন্সিংয়ের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে। পাশাপাশি নগরবাসী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকার যানজট কমিয়ে কর্মঘণ্টা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাসের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :