ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢলনের চাপে আমচাষি, কেজিভিত্তিক বেচাকেনার সিদ্ধান্তেও মিলছে না সুফল বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ: শিগগিরই জারি হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট পুশইন বিতর্ক, কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ প্রথম বাজেটেই জনগণের আস্থা জয়ের বার্তা নতুন সরকারের ১০০ কোটির প্রথম নায়িকা, বিয়ের পরই রুপালি পর্দা থেকে বিদায়, এখন কোথায় আসিন? টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, ১৫ বছর পর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প: ইরানে হামলা হলে পাশে থাকবে না ওয়াশিংটন ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫, বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ হাজার পরিবার নতুন টোল বসানোর পরিকল্পনা: হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে যাচ্ছে ইরান-ওমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ-রাশিয়া

বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসন্ন জাতীয় গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে অবস্থান নিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। সরকারের এ অবস্থান অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রবিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কোনো নীতিগত বিচ্যুতি নয়।

বরং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার আলোকে এটি দায়িত্বশীল নেতৃত্বেরই প্রকাশ। বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধু দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও জনআস্থার সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতেই এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এ সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা।

বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার
বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার : ছবি সংগ্রহ

প্রধান উপদেষ্টা গত দেড় বছরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। সরকার মনে করে, এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের মূল উদ্দেশ্য ও দায়িত্বকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার শামিল।

সরকার আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক রীতিতে সরকার প্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন সংক্রান্ত গণভোটে অবস্থান নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। গণভোটের বৈধতা নির্ভর করে ভোটারদের স্বাধীন মতপ্রকাশ, বিরোধী পক্ষের প্রচারণার সুযোগ এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসব শর্ত অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। জেলা পর্যায়ে সরকারি প্রচারণা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে বিবৃতিতে বলা হয়, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য জনগণকে সংস্কারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করা এবং ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি দূর করা।

এটিকে জোরজবরদস্তি বা পক্ষপাতমূলক প্রচারণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা নেতৃত্বের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। সংস্কারের প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়াই অন্তর্বর্তী সরকারের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব, যার চূড়ান্ত রায় দেবেন দেশের জনগণ গণভোটের মাধ্যমে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার

আপডেট সময় : ০৭:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে অবস্থান নিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। সরকারের এ অবস্থান অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রবিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কোনো নীতিগত বিচ্যুতি নয়।

বরং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার আলোকে এটি দায়িত্বশীল নেতৃত্বেরই প্রকাশ। বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধু দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও জনআস্থার সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতেই এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এ সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা।

বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার
বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার : ছবি সংগ্রহ

প্রধান উপদেষ্টা গত দেড় বছরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। সরকার মনে করে, এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের মূল উদ্দেশ্য ও দায়িত্বকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার শামিল।

সরকার আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক রীতিতে সরকার প্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন সংক্রান্ত গণভোটে অবস্থান নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। গণভোটের বৈধতা নির্ভর করে ভোটারদের স্বাধীন মতপ্রকাশ, বিরোধী পক্ষের প্রচারণার সুযোগ এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসব শর্ত অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। জেলা পর্যায়ে সরকারি প্রচারণা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে বিবৃতিতে বলা হয়, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য জনগণকে সংস্কারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করা এবং ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি দূর করা।

এটিকে জোরজবরদস্তি বা পক্ষপাতমূলক প্রচারণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা নেতৃত্বের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। সংস্কারের প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়াই অন্তর্বর্তী সরকারের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব, যার চূড়ান্ত রায় দেবেন দেশের জনগণ গণভোটের মাধ্যমে।