ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢলনের চাপে আমচাষি, কেজিভিত্তিক বেচাকেনার সিদ্ধান্তেও মিলছে না সুফল বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ: শিগগিরই জারি হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট পুশইন বিতর্ক, কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ প্রথম বাজেটেই জনগণের আস্থা জয়ের বার্তা নতুন সরকারের ১০০ কোটির প্রথম নায়িকা, বিয়ের পরই রুপালি পর্দা থেকে বিদায়, এখন কোথায় আসিন? টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, ১৫ বছর পর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প: ইরানে হামলা হলে পাশে থাকবে না ওয়াশিংটন ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫, বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ হাজার পরিবার নতুন টোল বসানোর পরিকল্পনা: হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে যাচ্ছে ইরান-ওমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ-রাশিয়া

বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ২১২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারপ্রচারণা যখন চরমে, ঠিক তখনই দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনায় জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া সাম্প্রদায়িক সংবিধানবিরোধী বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যকে ঘিরে সংখ্যালঘু অধিকার, সংবিধান গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর প্রথম দিন।

বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে আয়োজিত জামায়াতের জনসভায় আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ৮০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না। বক্তব্যটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি আলকোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলে রাষ্ট্রীয় সংবিধান অস্বীকার করেন এবং শরিয়াভিত্তিক দণ্ডবিধির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, চুরি করলে হাত কেটে দেওয়ার শাসন চালু হলে অপরাধ থাকবে না। ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি তুলে ধরে তিনি সংসদে সংখ্যালঘু ভিন্নমতের প্রতিনিধিত্ব কার্যত অগ্রহণযোগ্য বলেও ইঙ্গিত দেন।

তবে বিতর্কিত বক্তব্যের দায় নিতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী। বরগুনা আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেন, আফজাল হোসেন জামায়াতের পুরোনো কেউ নন। তাঁর ভাষায়, তিনি আবেগে কথা বলেছেন। আমাদের কোনো নেতা ধরনের বক্তব্য দেননি।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে যোগদান একটি নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়, নির্বাচনী মঞ্চে তাৎক্ষণিক ঘোষণায় তা কার্যকর হয় না।

নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম, রাষ্ট্র সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারপ্রচারণা যখন চরমে, ঠিক তখনই দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনায় জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া সাম্প্রদায়িক সংবিধানবিরোধী বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যকে ঘিরে সংখ্যালঘু অধিকার, সংবিধান গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর প্রথম দিন।

বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে আয়োজিত জামায়াতের জনসভায় আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ৮০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না। বক্তব্যটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি আলকোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলে রাষ্ট্রীয় সংবিধান অস্বীকার করেন এবং শরিয়াভিত্তিক দণ্ডবিধির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, চুরি করলে হাত কেটে দেওয়ার শাসন চালু হলে অপরাধ থাকবে না। ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি তুলে ধরে তিনি সংসদে সংখ্যালঘু ভিন্নমতের প্রতিনিধিত্ব কার্যত অগ্রহণযোগ্য বলেও ইঙ্গিত দেন।

তবে বিতর্কিত বক্তব্যের দায় নিতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী। বরগুনা আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেন, আফজাল হোসেন জামায়াতের পুরোনো কেউ নন। তাঁর ভাষায়, তিনি আবেগে কথা বলেছেন। আমাদের কোনো নেতা ধরনের বক্তব্য দেননি।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে যোগদান একটি নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়, নির্বাচনী মঞ্চে তাৎক্ষণিক ঘোষণায় তা কার্যকর হয় না।

নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম, রাষ্ট্র সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।