বন্ধ শিল্পকারখানা চালুতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের আশা
- আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
দেশের বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থবির অর্থনীতিকে চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংক সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মোস্তাকুর রহমান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা চালুর পাশাপাশি কৃষি, রপ্তানিমুখী শিল্প, সিএমএসএমই (কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প), পরিবেশবান্ধব শিল্প এবং সৃজনশীল অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতেই এই তহবিল গঠন করা হয়েছে।
গভর্নর জানান, বিশেষ এই তহবিলের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়লে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।
কীভাবে গঠন হচ্ছে তহবিল
ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে-৪১ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করবে দেশের ব্যাংকগুলো। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে
এই তহবিলের আওতায় উদ্যোক্তারা তুলনামূলক কম সুদে ঋণ পাবেন।
সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে এবং ঋণগ্রহীতাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে হবে। অর্থাৎ বাজারের তুলনায় অনেক কম সুদে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়নের সুযোগ পাবে।
যেসব খাতে অগ্রাধিকার
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বন্ধ শিল্প ও কলকারখানা পুনরায় চালু, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প, তৈরি পোশাক খাত, সিএমএসএমই খাত, পরিবেশবান্ধব ও সবুজ শিল্প ও সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ইত্যাদি খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, উৎপাদনমুখী এসব খাতে সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থান বাড়বে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার হবে।
ব্যাংক খাত নিয়ে গভর্নরের উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে দেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে। ঋণের এক-তৃতীয়াংশ কার্যত হারিয়ে গেছে। এসব ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত সম্পদও নেই।
তার এই বক্তব্য দেশের আর্থিক খাতের দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ ও অনিয়মের গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণের কারণে শিল্পখাতেও বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্প সুদে বড় আকারের এই প্রণোদনা তহবিল সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বন্ধ শিল্পকারখানা আবার উৎপাদনে ফিরতে পারে। এতে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাজারে অর্থের প্রবাহও বাড়বে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, অতীতের মতো রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ হলে এই তহবিলও কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও দিতে পারে।
তাই ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।




















