ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সারাদেশে বছরে গড় বৃষ্টিপাত ২২০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে মাত্র ৭ দিনেই ১৪৫৪ তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ঋণ: প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে তীব্র যানজট  সংসদ ভবনের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রে প্রয়োজনে আবার পরীক্ষা: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম মরদেহ দাফনেও  সংকট এবারে বন্যা ও পাহাড় ধসে এতো মৃত্যু কেন স্ক্রিনের অদৃশ্য শিকলে বন্দি শৈশব অল্প বৃষ্টিতেই জলমগ্ন ঢাকা: কেন বারবার ডুবছে রাজধানী? অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত দেশ: ৭ জেলায় ভয়াবহ বন্যা প্রাণহানি ৪৪ নতুন করে প্লাবনের শঙ্কা আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় দেশে ফিরেই ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পেল মিসর দল

সারাদেশে বছরে গড় বৃষ্টিপাত ২২০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে মাত্র ৭ দিনেই ১৪৫৪

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

সারাদেশে বছরে গড় বৃষ্টিপাত ২২০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে মাত্র ৭ দিনেই ১৪৫৪

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত এক সপ্তাহে অতীতের সব বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভেঙেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত মাত্র সাত দিনে সেখানে ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ রাজধানীসহ সারাদেশে বছরে গড় বৃষ্টিপাত হয় প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিমিটার। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে দেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ৬৬ শতাংশ বা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বৃষ্টি হয়েছে।

এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রাম নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে কৃষিজমি এবং গবাদিপশুর মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিভাগে হওয়া অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতই সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, একটি বিভাগে এত স্বল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সেই জলাবদ্ধতার কারণেই পরবর্তী সময়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুলাই তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে চট্টগ্রামে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিটি মেয়র, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জলাবদ্ধতার কারণ ও চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন একটি বড় প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার। জেলার কয়েকটি স্থানে পুরোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও পোল্ডারের ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধের ভেতরে অতিরিক্ত পানির চাপ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধ কেটে দিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্লুইস গেট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।

বর্তমান নদ-নদীর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৪ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি ক্রমান্বয়ে কমছে এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যে অধিকাংশ স্থানে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি মেরামত ও বাঁধ সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ৭ লাখের বেশি জিওব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে এবং আরও ৬ লাখ জিওব্যাগ মজুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত সেগুলো ব্যবহার করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামনে আবার ভারী বৃষ্টিপাত হলেও যাতে নদীর বাঁধ এবং মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়, সে লক্ষ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি জমিতে অস্থায়ী বীজতলা তৈরি করে কৃষকদের বিনামূল্যে ধানের চারা সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্য শুকনো খাদ্য বিতরণ এবং খুরা রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।

একই সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারা। ১০ থেকে ১৫ দিন বয়সী কোমল চারা কয়েকদিন পানির নিচে থাকায় অনেক এলাকায় তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে।

তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সারাদেশের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোন কৃষকের কত জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সম্পর্কেও মাঠপর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামী দুদিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)সহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জমিতে জরুরি ভিত্তিতে বীজতলা তৈরি করা হবে। সেখানে দ্রুত ধানের বীজ বপন করে চারা উৎপাদন করা হবে। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, অনেক কৃষকের জমি এখনো পানির নিচে থাকায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় রোপণ করতে পারছেন না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই উপযুক্ত সময় পর্যন্ত চারা প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপণযোগ্য উপযোগী জাতের ধানের বীজ ব্যবহার করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বন্যার কারণে গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে খড় ও শুকনো গোখাদ্য পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘাসের জমিও। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত গরু ও ছাগলের জন্য শুকনো খাদ্য সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, বর্ষা ও বন্যার পর গবাদিপশুর মধ্যে খুরা রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার গবাদিপশুকে খুরা রোগের টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আকস্মিক বন্যায় অনেক পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় মৎস্যচাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তাদেরও সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কৃষক, প্রাণিসম্পদ খাত এবং মৎস্যচাষিদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগ সম্পর্কে মানুষ জানলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও সাহস পাবেন এবং দ্রুত উৎপাদনে ফিরতে পারবেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সারাদেশে বছরে গড় বৃষ্টিপাত ২২০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে মাত্র ৭ দিনেই ১৪৫৪

আপডেট সময় : ০৭:৩০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

গত এক সপ্তাহে অতীতের সব বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভেঙেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত মাত্র সাত দিনে সেখানে ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ রাজধানীসহ সারাদেশে বছরে গড় বৃষ্টিপাত হয় প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিমিটার। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে দেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ৬৬ শতাংশ বা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বৃষ্টি হয়েছে।

এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রাম নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে কৃষিজমি এবং গবাদিপশুর মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিভাগে হওয়া অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতই সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, একটি বিভাগে এত স্বল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সেই জলাবদ্ধতার কারণেই পরবর্তী সময়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুলাই তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে চট্টগ্রামে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিটি মেয়র, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জলাবদ্ধতার কারণ ও চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন একটি বড় প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার। জেলার কয়েকটি স্থানে পুরোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও পোল্ডারের ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধের ভেতরে অতিরিক্ত পানির চাপ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধ কেটে দিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্লুইস গেট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।

বর্তমান নদ-নদীর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৪ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি ক্রমান্বয়ে কমছে এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যে অধিকাংশ স্থানে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি মেরামত ও বাঁধ সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ৭ লাখের বেশি জিওব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে এবং আরও ৬ লাখ জিওব্যাগ মজুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত সেগুলো ব্যবহার করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামনে আবার ভারী বৃষ্টিপাত হলেও যাতে নদীর বাঁধ এবং মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়, সে লক্ষ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি জমিতে অস্থায়ী বীজতলা তৈরি করে কৃষকদের বিনামূল্যে ধানের চারা সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্য শুকনো খাদ্য বিতরণ এবং খুরা রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।

একই সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারা। ১০ থেকে ১৫ দিন বয়সী কোমল চারা কয়েকদিন পানির নিচে থাকায় অনেক এলাকায় তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে।

তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সারাদেশের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোন কৃষকের কত জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সম্পর্কেও মাঠপর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামী দুদিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)সহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জমিতে জরুরি ভিত্তিতে বীজতলা তৈরি করা হবে। সেখানে দ্রুত ধানের বীজ বপন করে চারা উৎপাদন করা হবে। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, অনেক কৃষকের জমি এখনো পানির নিচে থাকায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় রোপণ করতে পারছেন না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই উপযুক্ত সময় পর্যন্ত চারা প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপণযোগ্য উপযোগী জাতের ধানের বীজ ব্যবহার করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বন্যার কারণে গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে খড় ও শুকনো গোখাদ্য পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘাসের জমিও। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত গরু ও ছাগলের জন্য শুকনো খাদ্য সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, বর্ষা ও বন্যার পর গবাদিপশুর মধ্যে খুরা রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার গবাদিপশুকে খুরা রোগের টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আকস্মিক বন্যায় অনেক পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় মৎস্যচাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তাদেরও সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কৃষক, প্রাণিসম্পদ খাত এবং মৎস্যচাষিদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগ সম্পর্কে মানুষ জানলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও সাহস পাবেন এবং দ্রুত উৎপাদনে ফিরতে পারবেন।