ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম মরদেহ দাফনেও সংকট
- আপডেট সময় : ১১:৩২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বাংলাদেশের বন্দর নগরীর চট্টগ্রাম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। লাখো মানুষ পানিবন্দী বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় শিবিরে হাজারো মানুষ। চট্টগ্রাম জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণে সাতকানিয়া থানা এলাকার বন্যাপিরিস্থিতি ভয়াবহ। এখানের মৃত মানুষকে সতৎকারের জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যার পানিতে কবরস্থান ডুবে যাওয়ায় মৃত ফোরকানের মরদেহ ভেলায় করে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে সৎকার করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যা ও পাহাড়ধসে অন্তত ৫১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
রাজধানী ঢাকাও ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বর্ষণে জলাবদ্ধতায় অচল হয়ে পড়েছে; বহু সড়ক ডুবে গেছে এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গত মানুষের জন্য ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। যারমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান, প্রয়োজন ছাড়া স্রোতযুক্ত পানি এড়িয়ে চলা, বিশুদ্ধ পানি পানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় রাখা এবং বন্যার জল না নামা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফিরে না যাওয়া।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে ঢাকাসহ বন্যাকবলিত কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে। তবে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যা ও পাহাড়ধসের প্রধান কারণ ছিল ৪৩ বছরের রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বৃষ্টিপাত, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং ভেঙে পড়া পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। প্রশাসনের সতর্কতা উপেক্ষা করে আশ্রয়কেন্দ্রে না যাওয়ায়ও অনেক প্রাণহানি ঘটেছে।


















