ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাজেট: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা বাজেট ২০২৬-২৭ পেশ : মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর গ্রাম ও নগর উন্নয়নে ৪১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব কৃষি খাতে রেকর্ড ২৮ হাজার ৮৮১ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব বিনিয়োগে গতি, কর্মসংস্থানে জোর: ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন যাত্রা: আজ বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব: বাহরাইনে পঞ্চম মার্কিন নৌবহর ও জর্ডানে বিমানঘাঁটিতে হামলা দাবি ইরানের   চা-বাগানের সবুজে চা-বাগানের সবুজে ধরা দিল দুর্লভ চিতাবিড়াল ঢলনের চাপে আমচাষি, কেজিভিত্তিক বেচাকেনার সিদ্ধান্তেও মিলছে না সুফল বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ: শিগগিরই জারি হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট

পেঁয়াজের ঝাঁজ ফের ফণা তুলছে!

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪ ২০৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পেঁয়াজের বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ছয় ঋতুর বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি ঋতু অনুভূত হয়, তার কোঁজ কেউ রাখেন না। বছরের এক/দেড় মাস শীত অনুভূত হয়। তারপর বলতে গেলে ১২ মাস ঘরে পাকা চালাতে হয়।

কিন্তু ঋতুর কিছু তারতম্য হলেও সিন্ডিকেট নামক গোষ্ঠীর ছোঁবলে দিশেহারা মানুষ। কাঁচাবাজার, নিত্যপণ্যের বাজার, চাল-ডাল-চিনির বাজার, গরুর বাজার, ডলারের বাজার, জনশক্তি রপ্তানির বাজার, অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইকের বাজার সর্বত্রই অভিশপ্ত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অসহায় সাধারণ মানুষ।

নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, সেই হারে আয়-রোজগার বাড়ছে না। এর মধ্যে একটি গোষ্ঠী দেশের অর্থনীতিকে তছনছ করে দিয়েছে। তাদের চরিত্র এখন সীমিত আকারে হলেও জনসম্মুখে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাধারণ মানুষ।

সিন্ডিকেট কি? ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সিন্ডিকেট হলো ব্যক্তি, কোম্পানি, কর্পোরেশন বা সংস্থার একটি স্ব-সংগঠিত গোষ্ঠী, যা কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায় লেনদেন করার জন্য অথবা একটি অংশীদারত্বমূলক স্বার্থ অনুসরণ বা প্রচারের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়।

কয়েকমাস পেঁয়াজের দাম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ফের ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।

শ্যামবাজারের শঙ্কর চন্দ্র ঘোষ জানান, বাংলাদেশে পেঁয়াজের ফলন খুব হয়েছে। কিন্তু টানা গরমে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে আগে কোন ট্যাক্স ছিলো না। এখন ৪০ শতাংশ ট্যাক্স ধার্য করেছে ভারত সরকার। এ কারণে আমদানিতে বেশি দাম পড়ছে। সব মিলিয়ে পেঁয়াজের দাম কিছু বাড়তিই থাকবে।

চলতি মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা আগেভাগেই অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করায় প্রভাব পড়েছে দেশের মোট উৎপাদনে। পেঁয়াজের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে মজুতদারদের হাতে।
মজুদে সঙ্কট না থাকলেও কোনোভাবেই পেঁয়াজের দরে লাগাম টানা যাচ্ছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে রান্নার এই দরকারি পণ্যটির দর খুচরায় বেড়েছে কেজিতে অন্তত ২০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।

শ্যামবাজার, কারওয়ান বাজার ও মহাখালী কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পেঁয়াজের খুব একটা সংকট না থাকলেও ধাপে ধাপে চড়ছে দাম। এসব বাজারে খুচরায় ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার আশপাশে। বিভিন্ন অলিগলিতে বা মুদি দোকান থেকে ক্রেতাদের এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারে পাইকারি দোকান মেসার্স মাতৃভাণ্ডারের সজীব শেখ ফরিদপুরের পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৯৮ টাকা কেজি দরে, আর পাবনার পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ১০৪ টাকায়। তিনি সপ্তাহখানেক আগেও ৯০ টাকার নিচে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমারের পেঁয়াজ বাংলাদেশের বাজারে আরও দিন ১৫ সময় লাগব। ভারত থেকে এখন পেঁয়াজ খুব কম আসতেছে। ভারত ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর দাম বেড়ে গেছে। এখন আমদানিকারকরা পেঁয়াজ এনে পোষাতে পারে না। শুল্ক না বাড়ালে আমাদের এই সমস্যায় পড়তে হত না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পেঁয়াজের ঝাঁজ ফের ফণা তুলছে!

আপডেট সময় : ১২:০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪

 

অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পেঁয়াজের বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ছয় ঋতুর বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি ঋতু অনুভূত হয়, তার কোঁজ কেউ রাখেন না। বছরের এক/দেড় মাস শীত অনুভূত হয়। তারপর বলতে গেলে ১২ মাস ঘরে পাকা চালাতে হয়।

কিন্তু ঋতুর কিছু তারতম্য হলেও সিন্ডিকেট নামক গোষ্ঠীর ছোঁবলে দিশেহারা মানুষ। কাঁচাবাজার, নিত্যপণ্যের বাজার, চাল-ডাল-চিনির বাজার, গরুর বাজার, ডলারের বাজার, জনশক্তি রপ্তানির বাজার, অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইকের বাজার সর্বত্রই অভিশপ্ত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অসহায় সাধারণ মানুষ।

নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, সেই হারে আয়-রোজগার বাড়ছে না। এর মধ্যে একটি গোষ্ঠী দেশের অর্থনীতিকে তছনছ করে দিয়েছে। তাদের চরিত্র এখন সীমিত আকারে হলেও জনসম্মুখে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাধারণ মানুষ।

সিন্ডিকেট কি? ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সিন্ডিকেট হলো ব্যক্তি, কোম্পানি, কর্পোরেশন বা সংস্থার একটি স্ব-সংগঠিত গোষ্ঠী, যা কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায় লেনদেন করার জন্য অথবা একটি অংশীদারত্বমূলক স্বার্থ অনুসরণ বা প্রচারের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়।

কয়েকমাস পেঁয়াজের দাম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ফের ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।

শ্যামবাজারের শঙ্কর চন্দ্র ঘোষ জানান, বাংলাদেশে পেঁয়াজের ফলন খুব হয়েছে। কিন্তু টানা গরমে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে আগে কোন ট্যাক্স ছিলো না। এখন ৪০ শতাংশ ট্যাক্স ধার্য করেছে ভারত সরকার। এ কারণে আমদানিতে বেশি দাম পড়ছে। সব মিলিয়ে পেঁয়াজের দাম কিছু বাড়তিই থাকবে।

চলতি মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা আগেভাগেই অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করায় প্রভাব পড়েছে দেশের মোট উৎপাদনে। পেঁয়াজের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে মজুতদারদের হাতে।
মজুদে সঙ্কট না থাকলেও কোনোভাবেই পেঁয়াজের দরে লাগাম টানা যাচ্ছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে রান্নার এই দরকারি পণ্যটির দর খুচরায় বেড়েছে কেজিতে অন্তত ২০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।

শ্যামবাজার, কারওয়ান বাজার ও মহাখালী কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পেঁয়াজের খুব একটা সংকট না থাকলেও ধাপে ধাপে চড়ছে দাম। এসব বাজারে খুচরায় ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার আশপাশে। বিভিন্ন অলিগলিতে বা মুদি দোকান থেকে ক্রেতাদের এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারে পাইকারি দোকান মেসার্স মাতৃভাণ্ডারের সজীব শেখ ফরিদপুরের পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৯৮ টাকা কেজি দরে, আর পাবনার পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ১০৪ টাকায়। তিনি সপ্তাহখানেক আগেও ৯০ টাকার নিচে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমারের পেঁয়াজ বাংলাদেশের বাজারে আরও দিন ১৫ সময় লাগব। ভারত থেকে এখন পেঁয়াজ খুব কম আসতেছে। ভারত ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর দাম বেড়ে গেছে। এখন আমদানিকারকরা পেঁয়াজ এনে পোষাতে পারে না। শুল্ক না বাড়ালে আমাদের এই সমস্যায় পড়তে হত না।