না-ফেরার দেশে পারি জমালেন মণিশংকর মুখোপাধ্যায়
- আপডেট সময় : ০৩:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
৯২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পারি জমালেন সাহিত্যিক শংকর। তার পুরো নাম মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। বাংলা সাহিত্যের অমর নক্ষত্র মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, যিনি সাহিত্যে শংকর নামেই সর্বজনবিদিত ছিলেন।
শুক্রবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শংকরের জন্ম ১৯৩৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁয়। শৈশবের কিছুটা সময় কেটেছে বনগাঁয়, পরে পরিবারের সঙ্গে কলকাতা শহর লাগোয়া হাওড়ায় চলে আসেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পরিবারের সদস্যরা বনগাঁয় ফিরে গেলেও, কিশোর শংকর বাবার সঙ্গে কলকাতাতেই থাকেন। স্বাধীনতার বছরেই তিনি পিতৃবিয়োগে বিধ্বস্ত হন।
জীবিকার তাগিদে ছোটবেলায় শংকরের জীবন কঠিন ছিল। কখনো অফিসের কেরানির কাজ, কখনো গৃহপরিচারক, এমনকি হকারিও করেছেন।
তার সাহিত্যিক যাত্রা শুরু হয় খুবই স্বাভাবিকভাবে, সাধারণ মানুষের জীবন ও সংগ্রামের গল্প লিখে। শংকরের প্রথম প্রকাশিত গল্পই পাঠক সমাজে তাকে চেনাতে শুরু করে। তার প্রথম বইটি পাঠক সমাজে আলো ছড়ায়, এবং তারপর থেকেই বাংলা সাহিত্যে তার উপস্থিতি অদম্য হয়ে ওঠে।
সাহিত্য জগতে তিনি বহু কীর্তিময় সৃষ্টিকর্ম করেছেন, ‘চৌরঙ্গী’, ‘কত অজানারে’, ‘সীমাবদ্ধ’, ‘জনঅরণ্য’ সহ অসংখ্য গ্রন্থ বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে।
শংকরের সাহিত্য শুধু কল্পনার নয়, বরং সমাজ ও মানুষের আধ্যাত্মিক সংগ্রামের গভীরে পৌঁছায়। তিনি বিশেষভাবে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে গবেষণা ও গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা আমাদের কাছে অমূল্য সাহিত্যিক সম্পদ। তার সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি পেয়েছেন ‘সাহিত্য অ্যাকাডেমি’ এবং ‘বঙ্কিম পুরস্কার’।
শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মমতা তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো।
মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের জীবন ছিল সাধারণ মানুষের সংগ্রামের ছোঁয়া, এবং তার সাহিত্য সেই সংগ্রামের প্রতিফলন। তিনি চলে গেলেও, তার লেখনীর আলো চিরকাল বাংলা সাহিত্যের অমলিন অংশ হয়ে থাকবে।
জীবনযাত্রার দিনগুলি
শৈশবের প্রথম দিনগুলো প্রাকৃতিক গ্রামীণ পরিবেশে কাটেছে। এরপর পরিবারের সঙ্গে কলকাতার কাছে হাওড়ায় বসবাস। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা বনগাঁ ফিরলেও, কিশোর শংকর বাবার সঙ্গে থেকে যান। পিতৃ বিয়োগ ঘটলে জীবনের কঠিন দিন শুরু হয়।
জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কাজ, কেরানির কাজ, গৃহপরিচারক, হকারিও করেন। গল্প প্রকাশিত হলে পাঠক সমাজে পরিচিতি লাভ করেন শংকর।
তার সাহিত্য কর্মগুলোর চৌরঙ্গী, কত অজানারে, সীমাবদ্ধ, জনঅরণ্য্ প্রকাশ। তিনি স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে গভীর গবেষণা ও গ্রন্থ রচনা প্রকাশ করেন।
কলকাতায় ৯২ বছরের জীবনের সমাপ্তি। শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে।




















