ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

তেহরানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: সরকার-বিরোধী স্লোগান, উত্তেজনা চরমে

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

তেহরানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: সরকার-বিরোধী স্লোগান, উত্তেজনা চরমে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত শোক র‍্যালিকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার দেশীয় ও প্রবাসী একাধিক ইরানবিষয়ক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শোক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বার্তা সংস্থা এএফপি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের শীর্ষ প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি-এর ভেতরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ভিড়ের মধ্যে ‘নির্লজ্জ’সহ বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়। বিদেশ থেকে পরিচালিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর ফুটেজেও সরকারবিরোধী স্লোগানের দৃশ্য প্রচারিত হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, শিক্ষার্থীদের মূল কর্মসূচি ছিল নিহতদের স্মরণে শান্তিপূর্ণ ও নীরব অবস্থান। তবে স্বৈরাচার নিপাত যাক স্লোগান উঠতেই কর্মসূচি ভেস্তে যায়। একটি ভিডিওতে সরকার-সমর্থক ও সরকারবিরোধী দুই পক্ষকে মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা গেছে; উভয় পক্ষের হাতেই ছিল সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের ছবি।

গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি ইরানে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। দীর্ঘদিনের আর্থিক দুরবস্থা, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

 যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা এইচআরএএনএ-এর মতে, নিহতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও ইরান সরকার তিন হাজারের বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করে বলেছে, ‘সন্ত্রাসী উসকানি’ থেকেই সহিংসতার সূত্রপাত।

এদিকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিক্ষোভ দমনে তেহরানের ভূমিকার সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছিলেন। ফলে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উত্তেজনাও ইরান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তেহরানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: সরকার-বিরোধী স্লোগান, উত্তেজনা চরমে

আপডেট সময় : ০১:৫২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত শোক র‍্যালিকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার দেশীয় ও প্রবাসী একাধিক ইরানবিষয়ক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শোক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বার্তা সংস্থা এএফপি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের শীর্ষ প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি-এর ভেতরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ভিড়ের মধ্যে ‘নির্লজ্জ’সহ বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়। বিদেশ থেকে পরিচালিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর ফুটেজেও সরকারবিরোধী স্লোগানের দৃশ্য প্রচারিত হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, শিক্ষার্থীদের মূল কর্মসূচি ছিল নিহতদের স্মরণে শান্তিপূর্ণ ও নীরব অবস্থান। তবে স্বৈরাচার নিপাত যাক স্লোগান উঠতেই কর্মসূচি ভেস্তে যায়। একটি ভিডিওতে সরকার-সমর্থক ও সরকারবিরোধী দুই পক্ষকে মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা গেছে; উভয় পক্ষের হাতেই ছিল সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের ছবি।

গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি ইরানে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। দীর্ঘদিনের আর্থিক দুরবস্থা, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

 যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা এইচআরএএনএ-এর মতে, নিহতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও ইরান সরকার তিন হাজারের বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করে বলেছে, ‘সন্ত্রাসী উসকানি’ থেকেই সহিংসতার সূত্রপাত।

এদিকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিক্ষোভ দমনে তেহরানের ভূমিকার সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছিলেন। ফলে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উত্তেজনাও ইরান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।