ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক মৃত্যুর করিডোর,  ১৪ ঘণ্টায়  ঝরলো ৯ প্রাণ,  দায় কার?

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ২৪০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: মৃত্যুর করিডোরে পরিণত, ১৪ ঘন্দাটায় ৯ জনের মৃত্যু ছািবক সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেন আর একটি যোগাযোগের পথ নয়, এটি পরিণত হয়েছে অবহেলা, বেপরোয়া চালনা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতীকী মৃত্যুকূপে। মাত্র ১৪ ঘণ্টায় তিনটি দুর্ঘটনায় ৯ জন মানুষের প্রাণহানি কোনো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নয়, এটি একটি ধারাবাহিক অপরাধের ফল। প্রতিদিন মানুষ মরছে, অথচ দায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

চান্দিনায় বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীতমুখী গাড়িতে ধাক্কা, দাউদকান্দিতে যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে চালকের উন্মত্ত গতি, মীরসরাইয়ে সড়কের পাশে অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কাঠবোঝাই ট্রাক, তিনটি ঘটনায়ই মূল সূত্র একটাই: দায়িত্বহীনতা। চালকের দায়িত্বহীনতা, পরিবহন মালিকদের লাগামহীন লোভ, হাইওয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণহীনতা।

প্রশ্ন হলো, একজন চালক কীভাবে যাত্রীদের সঙ্গে ঝগড়ার পরও স্টিয়ারিংয়ে বসে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়? কীভাবে একটি কাঠবোঝাই ট্রাক রাতের অন্ধকারে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, কোনো সতর্ক সাইন ছাড়াই? হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্ট, টহল, নজরদারি তাহলে কোথায় ছিল? দুর্ঘটনার পরপরই চালকরা পলাতক হয়, এটাই কি প্রমাণ করে না যে, তারা জানে শাস্তি হবে না?

এই মহাসড়কে দুর্ঘটনা নতুন নয়। নতুন নয় নিহতের লাশ, কান্না, ভাঙা স্বপ্ন। নতুন নয় তদন্ত কমিটি, আশ্বাস আর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এই পুরনো বুলি। কিন্তু কার্যকর শাস্তি, লাইসেন্স বাতিল, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অযোগ্য গাড়ি সড়ক থেকে তুলে নেওয়া, এসবের কোনোটিই নিয়মিতভাবে হয় না। ফলে প্রতিটি দুর্ঘটনার পর আমরা শুধু লাশ গুনি।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই মৃত্যু যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। শিশু, নারী, পথচারী, যাত্রী, কারও জীবনই নিরাপদ নয়। একটি ১৬ মাসের শিশু, নামাজে যাওয়া বাবা-ছেলে, কিশোর শিক্ষার্থী, তাদের মৃত্যু কি শুধু একটি সংবাদ  হয়ে থাকবে?

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যা ঘটছে, তা অবহেলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অভিযানের দাবি রাখে। তা না হলে এই সড়ক আরও প্রাণ নেবে, আরও পরিবার ধ্বংস হবে। প্রশ্ন একটাই আর কত লাশ পড়লে ঘুম ভাঙবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের?

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক মৃত্যুর করিডোর,  ১৪ ঘণ্টায়  ঝরলো ৯ প্রাণ,  দায় কার?

আপডেট সময় : ১২:১২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেন আর একটি যোগাযোগের পথ নয়, এটি পরিণত হয়েছে অবহেলা, বেপরোয়া চালনা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতীকী মৃত্যুকূপে। মাত্র ১৪ ঘণ্টায় তিনটি দুর্ঘটনায় ৯ জন মানুষের প্রাণহানি কোনো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নয়, এটি একটি ধারাবাহিক অপরাধের ফল। প্রতিদিন মানুষ মরছে, অথচ দায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

চান্দিনায় বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীতমুখী গাড়িতে ধাক্কা, দাউদকান্দিতে যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে চালকের উন্মত্ত গতি, মীরসরাইয়ে সড়কের পাশে অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কাঠবোঝাই ট্রাক, তিনটি ঘটনায়ই মূল সূত্র একটাই: দায়িত্বহীনতা। চালকের দায়িত্বহীনতা, পরিবহন মালিকদের লাগামহীন লোভ, হাইওয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণহীনতা।

প্রশ্ন হলো, একজন চালক কীভাবে যাত্রীদের সঙ্গে ঝগড়ার পরও স্টিয়ারিংয়ে বসে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়? কীভাবে একটি কাঠবোঝাই ট্রাক রাতের অন্ধকারে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, কোনো সতর্ক সাইন ছাড়াই? হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্ট, টহল, নজরদারি তাহলে কোথায় ছিল? দুর্ঘটনার পরপরই চালকরা পলাতক হয়, এটাই কি প্রমাণ করে না যে, তারা জানে শাস্তি হবে না?

এই মহাসড়কে দুর্ঘটনা নতুন নয়। নতুন নয় নিহতের লাশ, কান্না, ভাঙা স্বপ্ন। নতুন নয় তদন্ত কমিটি, আশ্বাস আর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এই পুরনো বুলি। কিন্তু কার্যকর শাস্তি, লাইসেন্স বাতিল, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অযোগ্য গাড়ি সড়ক থেকে তুলে নেওয়া, এসবের কোনোটিই নিয়মিতভাবে হয় না। ফলে প্রতিটি দুর্ঘটনার পর আমরা শুধু লাশ গুনি।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই মৃত্যু যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। শিশু, নারী, পথচারী, যাত্রী, কারও জীবনই নিরাপদ নয়। একটি ১৬ মাসের শিশু, নামাজে যাওয়া বাবা-ছেলে, কিশোর শিক্ষার্থী, তাদের মৃত্যু কি শুধু একটি সংবাদ  হয়ে থাকবে?

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যা ঘটছে, তা অবহেলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অভিযানের দাবি রাখে। তা না হলে এই সড়ক আরও প্রাণ নেবে, আরও পরিবার ধ্বংস হবে। প্রশ্ন একটাই আর কত লাশ পড়লে ঘুম ভাঙবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের?