ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের জন্য ভাতা চালুর উদ্যোগ: মির্জা ফখরুল

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ১২০ বার পড়া হয়েছে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিগত শাসনামলে গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর অবর্ণনীয় কষ্টের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে যেসব মানুষ গুম হয়েছেন, তাদের পরিবার-বিশেষ করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

রবিবার ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রের শুভযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সন্তানদের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, আজ আমরা কেউ মন্ত্রী, কেউ সংসদ সদস্য কিংবা বড় কর্মকর্তা হয়েছি। কিন্তু যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে গুম হয়েছেন, তাদের সন্তানরা আজও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। বিভিন্ন খাতে সরকারি ভাতা দেওয়া হলেও এই পরিবারগুলোর জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমি আজই প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখব, যাতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক ভাতা চালু করা হয়। এটি কোনো দয়া নয়, বরং তাদের ন্যায্য অধিকার।

বক্তৃতাকালে তিনি একাধিকবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, বহু বছর আগে রমজান মাসে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের নিয়ে গুলশানের একটি হোটেলে প্রথম ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আজ পাশে তুলির মা, পেছনে মুন্নার মাকে দেখে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। মুন্নার বাবা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে ভারত পর্যন্ত গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিচার না পেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান। একজন পিতার এই হাহাকার ভোলার মতো নয়।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির সাহসিকতারও প্রশংসা করেন তিনি। তাকে ‘প্রকৃত হিরো’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যখন কেউ কথা বলতে সাহস পেত না, তখন এই মেয়েটি একাই জেনেভায় মানবাধিকার কমিশনের সামনে গুমের বিষয়টি তুলে ধরেছিল। তবে আমাদের জন্য বড় দুঃখ ও লজ্জার বিষয়, এত সংগ্রামের পরও আমরা তাকে নির্বাচনে জয়ী করতে পারিনি। এটি আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা।

নির্মাণাধীন ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্র সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভাষা আন্দোলনের পর আমাদের জাতীয় সংগ্রাম নিয়ে উচ্চমানের সাহিত্য ও শিল্পকর্ম খুব বেশি সৃষ্টি হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চলচ্চিত্রটি সেই শূন্যতা পূরণ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে।

এ সময় তিনি বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা আজ বিদেশে বসে কোনো অনুশোচনা ছাড়াই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। আমি এটিকে একটি অপরাধ মনে করি, যা মানবতার বিরুদ্ধেও অপরাধ।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং এ লক্ষ্যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের জন্য ভাতা চালুর উদ্যোগ: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

বিগত শাসনামলে গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর অবর্ণনীয় কষ্টের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে যেসব মানুষ গুম হয়েছেন, তাদের পরিবার-বিশেষ করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

রবিবার ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রের শুভযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সন্তানদের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, আজ আমরা কেউ মন্ত্রী, কেউ সংসদ সদস্য কিংবা বড় কর্মকর্তা হয়েছি। কিন্তু যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে গুম হয়েছেন, তাদের সন্তানরা আজও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। বিভিন্ন খাতে সরকারি ভাতা দেওয়া হলেও এই পরিবারগুলোর জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমি আজই প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখব, যাতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক ভাতা চালু করা হয়। এটি কোনো দয়া নয়, বরং তাদের ন্যায্য অধিকার।

বক্তৃতাকালে তিনি একাধিকবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, বহু বছর আগে রমজান মাসে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের নিয়ে গুলশানের একটি হোটেলে প্রথম ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আজ পাশে তুলির মা, পেছনে মুন্নার মাকে দেখে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। মুন্নার বাবা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে ভারত পর্যন্ত গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিচার না পেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান। একজন পিতার এই হাহাকার ভোলার মতো নয়।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির সাহসিকতারও প্রশংসা করেন তিনি। তাকে ‘প্রকৃত হিরো’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যখন কেউ কথা বলতে সাহস পেত না, তখন এই মেয়েটি একাই জেনেভায় মানবাধিকার কমিশনের সামনে গুমের বিষয়টি তুলে ধরেছিল। তবে আমাদের জন্য বড় দুঃখ ও লজ্জার বিষয়, এত সংগ্রামের পরও আমরা তাকে নির্বাচনে জয়ী করতে পারিনি। এটি আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা।

নির্মাণাধীন ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্র সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভাষা আন্দোলনের পর আমাদের জাতীয় সংগ্রাম নিয়ে উচ্চমানের সাহিত্য ও শিল্পকর্ম খুব বেশি সৃষ্টি হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চলচ্চিত্রটি সেই শূন্যতা পূরণ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে।

এ সময় তিনি বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা আজ বিদেশে বসে কোনো অনুশোচনা ছাড়াই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। আমি এটিকে একটি অপরাধ মনে করি, যা মানবতার বিরুদ্ধেও অপরাধ।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং এ লক্ষ্যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।